


দীপন ঘোষাল, রানাঘাট: কল্যাণী এইমসের পর ফুলিয়ার আইআইএইচটি (ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ হ্যান্ডলুম টেকনোলজি)। অস্থায়ী কর্মী নিয়োগে বিজেপির প্রভাব খাটানো সমানে চলছেই!
শান্তিপুরের ফুলিয়ায় সদ্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে আইআইএইচটি। এটি একটি কেন্দ্রীয় বস্ত্রমন্ত্রকের অধীনস্থ প্রতিষ্ঠান। সেখানে এক পরিচিত ব্যক্তিকে অস্থায়ী কাজ পাইয়ে দিতে তাণ্ডব চালানোর অভিযোগ উঠল প্রভাবশালী বিজেপি নেতা চঞ্চল চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে। আতঙ্কিত ডিরেক্টর দ্বারস্থ হয়েছেন পুলিশের। পাশাপাশি লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন বিজেপির জেলা সভাপতির কাছেও। ভোটের আগে বিজেপি নেতার এহেন আচরণ বেশ বিড়ম্বনায় ফেলেছে দলকে। হাতে গরম ইস্যু পেয়ে সরব হয়েছে তৃণমূলও।
গত শুক্রবার শান্তিপুর থানায় ওই বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন আইআইএইচটি’র ডিরেক্টর ডঃ প্রকাশ চিদম্বরম। অভিযোগপত্রে তিনি জানিয়েছেন, ওইদিন দুপুর দেড়টা নাগাদ বিজেপি নেতা তথা শান্তিপুর পঞ্চায়েত সমিতির সহকারি সভাপতি চঞ্চল চক্রবর্তী সঙ্গে বেশ কয়েকজন যুবককে নিয়ে জোরপূর্বক তাঁর চেম্বারে ঢুকে পড়েন। কর্তব্যরত নিরাপত্তারক্ষীরা ভিজিটর রেজিস্টারে সই করতে বললে তা অস্বীকার করেন। উল্টে নিরাপত্তারক্ষীদের মারধর ও প্রতিষ্ঠান ভাঙচুরের হুমকি দেন ওই নেতা। ডিরেক্টরকে প্রায় দেড় ঘণ্টা আটকে রাখা হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে ডিরেক্টরের চেম্বারে যান আরও দুই আধিকারিক তনুশ্রী মুখোপাধ্যায় ও চিত্তরঞ্জন জানা। তাঁদেরকেও ছেড়ে কথা বলেননি চঞ্চল। অভিযোগ, নিজের রাজনৈতিক পরিচয় জাহির করে চঞ্চল বলেন, ‘আপনি জানেন না, আমি কে?’ এরপর তনুশ্রীদেবীকে উদ্দেশ্য করে শাসাতে থাকেন, ১৫ জন আদিবাসী মহিলাকে নিয়ে এসে হয়রানি করা হবে। প্রতিষ্ঠানের বাইরে বেরোলেই তাঁদেরকে ‘দেখে নেওয়া হবে’ বলেও হুমকি দেওয়া হয়। অভিযোগপত্রে এসব কিছুই স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন ডিরেক্টর।
ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ করেছিলেন চিত্তরঞ্জনবাবু। তাঁকেও প্রকাশ্যে ল্যাম্পপোস্টে ঝুলিয়ে মারাধর করার হুমকিও দেন চঞ্চল। প্রায় ঘন্টা দেড়েক এই তাণ্ডব চালিয়ে দলবল নিয়ে প্রতিষ্ঠান ছাড়েন চঞ্চল। যদিও নিজের বিরুদ্ধে ওটা অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি দাবি করেছেন, ‘একটি প্রশাসনিক বিষয় নিয়ে গিয়েছিলেন। উল্টে তাঁকেই হেনস্তা করা হয়েছে। সম্পূর্ণ মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে।’ বিষয়টি নিয়ে বিজেপির নদীয়া দক্ষিণের জেলা সভাপতি অপর্ণা নন্দী বলেন, ‘আমি একটি অভিযোগ পেয়েছি। আমাদের চারজন জেলা সম্পাদক বিষয়টির তদন্ত করছেন। অভিযোগ যদি সত্যি হয়, তা হলে দলের তরফে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’ তার আগে বিজেপিকে আক্রমণ করার সুযোগ হাতছাড়া করতে চাইছে না তৃণমূল। দলের শান্তিপুরের বিধায়ক ব্রজকিশোর গোস্বামী বলেন, ‘ওঁরা ক্ষমতায় নেই। তাতেই ক্ষমতার এই আস্ফালন। বিধানসভা ভোটে মানুষ এদের ভোট দিলে ভাতের থালায় কী খাবার থাকবে, আর কী থাকবে না সেটা নিয়েও শাসানি দিয়ে যাবে।’
সূত্রের খবর, চঞ্চলের পাশাপাশি ফুলিয়ার পঞ্চায়েত প্রধান পরিমল রায়, রাকেশ রায়, ফুলিয়া টাউনশিপের সদস্য ডোনা বসাক সহ আরও কয়েকজনের নাম রয়েছে অভিযোগপত্রটিতে। তদন্ত শুরু করেছে শান্তিপুর থানা। কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠানে ঢুকে এই ধরনের দাদাগিরি ও হুমকির ঘটনা এই প্রথম নয়। অস্থায়ী সাফাইকর্মী ঢোকানো নিয়ে কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠান এইমসে বিজেপির বিধায়ক ও সাংসদের রেষারেষি আগেই দেখেছে জেলাবাসী। রোগী ভর্তি থেকে নিয়োগ—সব ক্ষেত্রেই বিজেপি নেতাদের বিরুদ্ধে প্রভাব খাটানোর অভিযোগও উঠেছে। এবার সেই তালিকায় নতুন সংযোজন আইআইএইচটি। স্বাভাবিকভাবেই জেলাবাসীর প্রশ্ন, কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলিকে কি বিজেপি দলীয় কার্যালয় ভাবতে শুরু করেছে?