


সংবাদদাতা, গঙ্গারামপুর: কুশমণ্ডির লাঙ্গলভাঙা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাড়ায় সমাধান শিবিরে ধুন্ধুমার পরিস্থিতি। জয়েন্ট বিডিও’র সঙ্গে বিজেপির পঞ্চায়েত সদস্যার স্বামী ধস্তাধস্তি করলে তাঁকে আটক করে পুলিস। কুশমণ্ডি ব্লকের দেউল গ্রাম পঞ্চায়েতের গোপালপুর বুথে এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়ায় সোমবার।
পুলিস ও স্থানীয় সূত্রে খবর, বুথে কী কী কাজ হবে, সেজন্য সাধারণ সভায় বসেন স্থানীয়রা। একাধিক প্রস্তাব দেন সাধারণ মানুষ। কিন্তু সভা শেষ হতেই দেউল গ্রাম পঞ্চায়েতের বিজেপি সদস্য পিঙ্কি রায়ের স্বামী গোবিন্দ রায়ের সঙ্গে কুশমণ্ডির জয়েন্ট বিডিও জাহিরুল ইসলামের বাকবিতণ্ডা থেকে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। কাগজপত্র নিয়ে কাড়াকাড়ি শুরু হয় আধিকারিক ও পঞ্চায়েত সদস্যার স্বামীর। তার টানাহেঁচড়ায় মাটিতে পড়ে যান জয়েন্ট বিডিও। কুশমণ্ডি থানার পুলিস অভিযুক্তকে আটক করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে।
এদিনের সভার সভাপতি প্রবীর মিশ্র বলেন, আমাদের সব কাজ ঠিক হয়ে যায় সর্বসম্মতিক্রমে। সেই স্কিমে কত বরাদ্দ, ব্লক প্রশাসন না জানানোয় বিজেপি সদস্যের স্বামীর সঙ্গে জয়েন্ট বিডিও’র ধস্তাধস্তি হয়েছে। আধিকারিক মাটিতে পড়ে যান। পুলিস এসে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে।
বিজেপির অভিযোগ, কোন কাজের জন্য কত বরাদ্দ হবে, তা শিবিরে আলোচনা না করায় বিরোধের সূত্রপাত। ব্লক প্রশাসন অফিসে বসে বুথের কোন কাজে কত টাকা বরাদ্দ হবে, তা ঠিক করা হচ্ছে। তার প্রতিবাদ করার জন্যই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়েছিল।
অভিযুক্ত গোবিন্দ বলেন, সভাতেই সর্বসম্মতিক্রমে সব কাজ ঠিক হওয়ার কথা। কোন কাজে, কত বরাদ্দ তা ব্লকে বসে ঠিক হবে বলে জয়েন্ট বিডিও সভা শেষ করে বেরিয়ে যান। আমি তাঁর হাত ধরে বলেছি, সব সভায় বসেই ঠিক করতে হবে। এই কথা বলায় পুলিস তুলে নিল।
অভিযোগ উঠছে, সরকারি শিবিরে জয়েন্ট বিডিওকে হেনস্তা এবং সরকারি কাজে বাধা দেওয়া হলেও ব্লক প্রশাসন কার্যত হাত গুটিয়ে বসে রয়েছে। থানায় কোনও লিখিত অভিযোগও জানায়নি ব্লক প্রশাসন। বিডিও নয়না দে জানান, ধস্তাধস্তির মতো তেমন কিছু হয়নি। কোন স্কিমে কত টাকা খরচ হবে, সেবিষয়ে জয়েন্ট বিডিওর কাছে জানতে চান ওই গ্রাম পঞ্চায়েতের স্বামী। বাকি সব শান্তিপূর্ণভাবে হয়েছে।