


নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে বিজেপি। প্রথম থেকেই এই অভিযোগ তুলে সরব হয়েছে তৃণমূল। এবার ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার বিপুল সংখ্যক ফর্ম-৭ বাতিল করল জেলা প্রশাসন। বহরমপুর বিধানসভার প্রায় ২০ হাজার ভোটারের ফর্ম-৭ বাতিল হওয়ায় শোরগোল শুরু হয়েছে।
কমিশনের কাছ থেকে তথ্য হাতিয়ে রাতারাতি ফিলআপ করা ৭ নম্বর ফর্মের পেটি কলকাতা থেকে জেলায় ঢোকে। এক একটি জেলায় লক্ষ লক্ষ ভোটারের নাম বাতিলের চেষ্টা করছিল বিজেপি। কিন্তু শেষরক্ষা হল না।
রাজ্যের নেতাদের ফিলআপ করে দেওয়া ফর্ম পেটিভর্তি হয়ে আসে জেলার নেতাদের কাছে। সেই ফর্মে অভিযোগকারীর সই হওয়ার পর জেলার নেতারা সোজা মহকুমা শাসকের দপ্তরে হাজির হন। গত ১৯ জানুয়ারি বিজেপি নেতারা বহরমপুর সদর মহকুমা শাসকের কাছে বহরমপুর বিধানসভার প্রায় ২০ হাজার ৭ নম্বর ফর্ম জমা দেন। কিন্তু নিয়ম মেনে সেই ফর্ম জমা না হওয়ায় বান্ডিল বান্ডিল ফর্ম ‘ডিসপোজ’ করে দিয়েছেন মহকুমা শাসক।
মহকুমা শাসক শুভঙ্কর রায় বলেন, ‘বহরমপুর বিধানসভার প্রায় ২০ হাজার ফর্ম-৭ ডিসপোজ করা হয়েছে। সেগুলি সঠিক নিয়ম মেনে জমা দেওয়া হয়নি।’
ওইদিন ফর্ম-৭ জমা দেওয়ার সময় বহরমপুরের বিজেপি সভাপতি মলয় মহাজন বলেছিলেন, এখানে এমন অনেক ভোটার আছেন যাঁরা সন্দেহজনক। তাঁরা এদেশের নাগরিক নন। হঠাৎ করে নাগরিক হয়েছেন, এমন সন্দেহজনক ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার জন্য, তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা করতে ফর্ম-৭ নিয়ে এসেছি।
সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, প্রতিটি বিধানসভার সন্দেহজনক ভোটারের নাম বাতিলের হাজার হাজার ফর্ম সেভেনে শুধুমাত্র এক বা দু’জন ব্যক্তি সই করে অভিযোগ জানিয়েছিল। সেই এক বা দু’জন অভিযোগকারী আসলে স্থানীয় বিজেপি নেতা।
শাসকদলের দাবি, বিজেপির রাজ্য নেতারা চক্রান্ত করে বাংলার মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন।
নির্বাচন কমিশনের নিয়ম মেনে ফর্ম-৭ জমা না হওয়ায় জেলার নেতারা শেষরক্ষা করতে পারলেন না। আসলে যে সমস্ত বিধানসভায় বিজেপি সামান্য এগিয়ে আছে, সেখানে তারা জয় নিশ্চিত করতে বেশি করে সাধারণ মানুষের নাম বাদ দিতে চাইছে। কারণ, বিজেপি নেতারা মনে করছেন, অধিকাংশ ভুয়ো এবং সন্দেহজনক ভোটারই তৃণমূলের সম্পদ। তাই যেসমস্ত বুথে তৃণমূলের ভোট বেশি, সেই সব বুথকে টার্গেট করে প্রায় ২০ হাজার মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করছিল পদ্মশিবির।
বহরমপুর-মুর্শিদাবাদ সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল সভাপতি অপূর্ব সরকার বলেন, কমিশন এবং বিজেপি একই মুদ্রার দুই পিঠ। বারবার কমিশন সিদ্ধান্ত বদল করে ভোটারদের হয়রান করছে। এই বাংলার জন্যই তাদের যত আলাদা আলাদা নিয়ম।
এবার নিজেরা না পেরে বিজেপিকে কাজে লাগিয়েছে কমিশন। বিজেপিকে দিয়ে বাংলার মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। যে কারণে কোনো নিয়ম না মেনে হাজার হাজার ফর্ম-৭ অর্থাৎ ভোটার কার্ড বাতিল করার জন্য প্রতিটি বিধানসভায় অভিযোগ জমা দিয়েছে তারা। মানুষ এর জবাব আগামী নির্বাচনে দেবে।