


শ্রীকান্ত পড়্যা, তমলুক: ‘ভিবিজিরামজি’ নিয়ে ফলাও করে প্রচার করছে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার। মনরেগার পরিবর্তে চালু হওয়া এই প্রকল্পে ১০০ দিনের পরিবর্তে সাধারণ মানুষ ১২৫ দিন কাজ পাবে বলে দাবি করছে কেন্দ্রীয় সরকার। কিন্তু, বাস্তব চিত্র বলছে অন্য কথা। নতুন গাইডলাইন আসার পর তমলুকের বিজেপি পরিচালিত উত্তর সোনামুই গ্রামপঞ্চায়েত চলতি আর্থিক বছরে মাত্র একটি কাজের পরিকল্পনা নিয়েছে। সেখানকার বিজেপি প্রধান নিজেই জানাচ্ছেন এতে কাজের সুযোগ কম। যা নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি তৃণমূল।
বিজেপি পরিচালিত উত্তর সোনামুই গ্রাম পঞ্চায়েত জেলা সদর হিসেবে পরিচিত। কারণ, ওই গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যেই জেলাশাসক, পুলিশ সুপার, জেলা পরিষদ সহ প্রায় সব সরকারি অফিস অবস্থিত। ২০২৩ সালে এই গ্রাম পঞ্চায়েত দখল করে বিজেপি। মোট ১৭টি গ্রাম সংসদ। তাতে এনআরইজিএ কার্ডে নাম থাকা ব্যক্তির সংখ্যা ৯০৯৫জন। একটা গ্রাম পঞ্চায়েতে প্রায় দশ হাজার জনের নাম রয়েছে। অথচ, ৩১মার্চ পর্যন্ত বিজেপি পরিচালিত ওই গ্রাম পঞ্চায়েত ভিবিজিরামজিতে মাত্র একটা কাজের পরিকল্পনা নিয়েছে। ২০২৫-’২৬আর্থিক বছর শেষ হবে ৩১মার্চ। আগামী দেড় মাসের জন্য ওই গ্রাম পঞ্চায়েত ভাণ্ডারবেড়িয়া হাইস্কুলে পুকুর খনন ছাড়া দ্বিতীয় কোনও পরিকল্পনা জমা করতে পারেনি। ২০২১ সাল থেকে এরাজ্যে একশো দিনের কাজ বন্ধ। ওই প্রকল্পে কাজ করে মজুরি না পাওয়া শ্রমিকদের টাকা মিটিয়েছে রাজ্য সরকার। সুপ্রিম কোর্ট এরাজ্যে একশো দিনের কাজ চালুর নির্দেশ দিয়েছে। এরই মধ্যে ১০০ দিনের কাজের নাম পরিবর্তন করে কেন্দ্রীয় সরকার। ‘ভিবিজিরামজি’তে কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রকের তরফে কাজের নয়া গাইডলাইন দিয়েছে। তাতে সবটাই কমিউনিটি ভিত্তিক। আগে ব্যক্তিগত জমিতে বৃক্ষরোপণের সুযোগ ছিল। এখন এই প্রকল্পে সোশ্যাল ফরেস্ট ছাড়া গাছ লাগানোর সুযোগ নেই। মজে যাওয়া খাল সংস্কারও করা যাবে না। একমাত্র নতুন খাল খননের কাজ করা যাবে। কোনও ব্যক্তিগত জমিতে পুকুর খনন করা যাবে না। জল সংরক্ষণের জন্য ১নম্বর খতিয়ান অর্থাৎ সরকারি জমিতে পুকুর খনন করতে হবে। ঢালাই রাস্তার কাজ করতে হলে ৬০:৪০অনুপাত মেনে করতে হবে। অর্থাৎ, প্রকল্পের ৬০শতাংশ লেবার ও ৪০শতাংশ মেটিরিয়াল খাতে খরচ হবে।
উত্তর সোনামুই গ্রাম পঞ্চায়েতের নির্মাণ সহায়ক অদুত মোল্লা বলেন, নতুন গাইডলাইনে কাজের সুযোগ বেশ কম। বাঁকুড়া কিংবা পুরুলিয়ার মতো জেলায় জল সংরক্ষণের জন্য পুকুর খননের সুযোগ থাকলেও পূর্ব মেদিনীপুরে সেই ধরনের সুযোগও নেই। আমরা ২০২৫-’২৬আর্থিক বছরের জন্য একটা স্কিম ধরেছি। এই মুহূর্তে ২০২৬-’২৭সালের অ্যাকশন প্ল্যান বানানোর কাজ হচ্ছে। প্রত্যেক গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্যকে নিজের এলাকায় কাজের পরিকল্পনা জমা করতে বলা হয়েছে।
ওই গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান বিজেপির পূর্ণেন্দু পাল বলেন, নতুন নিয়মে আগের তুলনায় কাজের সুযোগ কম। আমরা কীভাবে জবকার্ড প্রাপকদের কাজ দিতে পারব তানিয়ে আলোচনার মাধ্যমে অ্যাকশন প্ল্যান নেব। সরকারি গাইডলাইন মেনেই সবটা করতে হবে।তমলুক-১ব্লক তৃণমূল সভাপতি তথা পিপুলবেড়িয়া-১পঞ্চায়েত প্রধান নিশিকান্ত মেট্যা বলেন, এমনিতেই চার বছর একশো দিনের কাজ বন্ধ ছিল। আদালত কেন্দ্রীয় সরকারকে এরাজ্যে একশো দিনের কাজ শুরু করার নির্দেশ দিয়েছে। কিন্তু, কেন্দ্রের বিজেপি সরকার যে ধরনের শর্ত আরোপ করেছে তাতে পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় কাজের সুযোগ ভীষণ কম। যে কারণে বিজেপির পঞ্চায়েত চলতি আর্থিক বছরের জন্য মাত্র একটা কাজের পরিকল্পনা নিতে পেরেছে। গরিব মানুষের জন্য এই প্রকল্প নিয়ে ছেলেখেলা করছে বিজেপি।