


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: বিরোধীদের অভিযোগের সুরেই এবার কার্যত ভোট চুরির অভিযোগ উঠেছে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই। তাই কি দোদুল্যমান এনডিএ-র নৌকা ছেড়ে দেওয়ার পথ খোলা রাখছে নরেন্দ্র মোদির জোট শরিকরা? শুক্রবার বিজেপির জোটসঙ্গী বিহারের চিরাগ পাসোয়ান, উপেন্দ্র কুশওয়া এবং অন্ধ্রপ্রদেশের তেলুগু দেশম পার্টির নেতৃত্ব নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ওঠা যাবতীয় অভিযোগের তদন্ত করার দাবি জানিয়েছে। সকলকে ছাপিয়ে মোদি সরকারকে অস্বস্তিতে ফেলেছে ইউনাইটেড পিপলস পার্টি লিবারাল। দলের সাধারণ সম্পাদক রাজু কুমার নারজারি বলেছেন, নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে যৌথ সংসদীয় কমিটি (জেপিসি) তৈরি হোক। তারা তদন্ত করুক। এতে আতঙ্কিত হয়ে তড়িঘড়ি ড্যামেজ কন্ট্রোলে নামতে হয়েছে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বকে। ফলশ্রুতি? ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই চন্দ্রবাবুর দলের উলটো সুর। তেলুগু দেশম এমপি শ্রীকৃষ্ণ দেবরাজায়ালু শুক্রবার বলেছিলেন, ‘রাজ্যে রাজ্যে অনেক অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। নির্বাচন কমিশন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। তাদেরই উচিত স্পষ্ট জবাব দিয়ে সন্দেহ দূর করা।’ শনিবার তাঁর দলের সুপ্রিমো চন্দ্রবাবু নাইডু জানিয়েছেন, কমিশনের মতো সংস্থার সম্মানহানির চেষ্টা দুর্ভাগ্যজনক। এদিন তারা ঐক্যবদ্ধভাবে যাবতীয় অভিযোগের যে জবাব বা ব্যাখ্যা দিয়েছে, তা প্রশংসার যোগ্য। বিরোধীদের বক্তব্য, এটা যে বিজেপি শিখিয়ে দিয়েছে, তা স্পষ্ট।
যদিও চিরাগ পাসোয়ান কিংবা উপেন্দ্র কুশওয়া নিজেদের অবস্থানে অনড়। বিজেপির জন্য সবথেকে বড়ো অস্বস্তি হল, নীতীশ কুমারের দল জেডিইউ এই ইস্যুতে সম্পূর্ণ নীরব। কারও পক্ষ নিয়ে বিবৃতি দিতে তারা এখনও রাজি হয়নি। আরজেডি সুপ্রিমো তেজস্বী যাদব বলেছেন, ‘নীতীশ কুমারের দল কমিশনের এই কেলেঙ্কারি নিয়ে কী ভাবছে, স্পষ্ট করে বলুক।’ কংগ্রেস এমপি প্রমোদ তেওয়ারি এনডিএ-র ফাটল উসকে দিতে বলেছেন, ‘মুখে বিপ্লব করে কী হবে? এই জোট শরিকরা রাস্তায় নেমে বিজেপিকে ও কমিশনকে প্রশ্ন করুন।’ সব মিলিয়ে রাজনৈতিকভাবে ছত্রভঙ্গ হয়ে যাওয়া ‘ইন্ডিয়া’-কে চাঙ্গা করেছে কমিশন ইস্যু। ৩০ সেপ্টেম্বর দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে ডাকা হচ্ছে বিরোধী মহাজোটের বৈঠক। উপস্থিত থাকবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অরবিন্দ কেজরিওয়াল, এম কে স্ট্যালিনরা। স্লোগান উঠবে—‘জিকে হ্যাজ টু গো’। তার আগে কংগ্রেসের ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক ২৯ সেপ্টেম্বর। এমনকি জ্ঞানেশ কুমার ইস্যুতে শীঘ্রই পাটনা থেকে দিল্লি গাড়ি যাত্রা করবেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী যশবন্ত সিনহা। এদিন বিজু জনতা দল এবং ভারত রাষ্ট্র সমিতিও অন্যান্য বিরোধী দলগুলি সুরে কমিশনের তীব্র সমালোচনা করেছে। সব মিলিয়ে দেশের সব বিজেপি বিরোধী দলের মঞ্চ হয়ে উঠতে চলেছে ‘ইন্ডিয়া’।