


নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: বিধানসভা ভোটের আগে ‘পরিবর্তন যাত্রা’র ডাক দিয়ে বাংলায় রাজনৈতিক জমি শক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে বিজেপি। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে কর্মসূচি, সভা-সমাবেশ, রোড শো করে সংগঠনকে চাঙা করতে চাইছে তারা। গেরুয়া শিবিরের এই ভোট-প্রস্তুতির মাঝেই প্রকাশ্যে চলে এল দলের অন্দরের কোন্দল। বারাসতে এক বিজেপি নেতার সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ঘিরে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। তিনি বারাসত সাংগঠনিক জেলার আইটি সেলের দায়িত্বে ছিলেন। তাঁর পোস্ট ঘিরে কার্যত বিদ্রোহের সুর শোনা যাচ্ছে দলের কর্মী-সমর্থকদের একাংশের মধ্যেও। সোশ্যাল মিডিয়ার ওই পোস্টে দলের আইটি সেলের নেতা লিখেছেন, ‘যাত্রায় প্রত্যেক কর্মীর টিফিনের জন্য ৩০০ টাকা বরাদ্দ ছিল, আরও তো লাখ লাখ খেলেন, তাও কর্মীদের টাকা মারলেন? হিসাব হবে, দেখতে থাকুন…।’ গুরুতর অভিযোগ তোলা এই পোস্ট মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক মাধ্যমজুড়ে। ওই নেতা পোস্টে নির্দিষ্টভাবে ‘পরিবর্তন যাত্রা’র কথা উল্লেখ না করলেও তাঁর পোস্ট যে এ বিষয়েই, মেনে নিচ্ছেন বিজেপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা। তবে স্রেফ ওই পোস্টেই বিতর্ক থেমে থাকেনি। পোস্টের কমেন্ট বক্সে একাধিক কর্মী-সমর্থক অভিযোগ সমর্থন করে নিজেদের ক্ষোভ উগরে দেন। কেউ লিখেছেন, ‘মাঠে যারা পরিশ্রম করে, তারা কিছুই পায় না।’ কেউ আবার সরাসরি বারাসতের বিজেপি নেতৃত্বের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন। একটি ফেসবুক পোস্ট ঘিরেই কার্যত বিজেপির অন্দরের অসন্তোষ প্রকাশ্যে চলে এসেছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিষয়টি কেবল একটি অভিযোগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। বরং সোশ্যাল মিডিয়ায় যেভাবে একের পর এক কর্মী সেই পোস্টের বক্তব্যকে সমর্থন জানিয়ে মন্তব্য করছেন, তাতে বোঝা যাচ্ছে, বিজেপির অন্দরে ক্ষোভ জমছে অনেক দিন ধরেই। বিশেষ করে বারাসতে নেতৃত্বের একাংশের বিরুদ্ধে দলের কর্মীদের এই প্রকাশ্য ক্ষোভ ভোটমুখী বাংলায় বিজেপির অস্বস্তির কারণ হবে বলে মনে করছেন অনেকে।
‘পরিবর্তন যাত্রা’ শেষে কাল, শনিবার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে সভা করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেই কর্মসূচিকে সামনে রেখে রাজ্যজুড়ে কর্মীদের সংগঠিত করতে তৎপর বিজেপি। ব্রিগেডের সভায় শক্তি প্রদর্শনের যাবতীয় আয়োজন করে ফেলেছে তারা। তার কয়েক ঘণ্টা আগে দলের নেতাদের সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘বিদ্রোহ’ নিয়ে স্বভাবতই চর্চা বাড়ছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, বারাসত সাংগঠনিক জেলা বিজেপির অন্দরে বেলাগাম কোন্দল অনেক দিনের। আগেও একাধিকবার তা প্রকাশ্যে এসেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে রাজ্য নেতৃত্বকে। যদিও এক্ষেত্রে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা বিজেপি নেতা কোনো মন্তব্য করতে চাননি। তৃণমূল নেতা তাপস দাশগুপ্ত বলেন, ‘যে দল নিজেদের অশান্তি সামলাতে পারে না, তারা নাকি বাংলা দখল করবে! ওদের সংগঠনের ভিত কতটা শক্ত, বোঝাই যাচ্ছে।’ এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া নেওয়ার জন্য বারাসত সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সভাপতি রাজীব পোদ্দারকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি তোলেননি। তবে বিজেপি নেতা তাপস মিত্র বলেন, ‘বিষয়টা জানা নেই। খোঁজ নিয়ে বলব।’