


উজ্জ্বল রায়, ধূপগুড়ি: বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে ততই ধূপগুড়িতে বদলে যেতে শুরু করেছে রাজনৈতিক সমীকরণ। নমঃশূদ্র সমাজের সমর্থিত এক নির্দল প্রার্থীর মনোনয়ন ঘিরে সরাসরি চাপে পড়তে চলেছে বিজেপি, এমনই জোর চর্চা এখন রাজনৈতিক মহলে। দীর্ঘদিন ধরে বিজেপির শক্তঘাঁটি নমঃশূদ্র ভোটব্যাংকেই এবার বড়সড় ভাঙনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে দাবি শাসক শিবিরের।
সোমবার মহকুমা শাসকের কার্যালয়ে মনোনয়ন দাখিল করেন দুরামারির বাসিন্দা মলয় সিদ্ধা। নমঃশূদ্র সম্প্রদায়ভুক্ত এবং দীর্ঘদিন সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত এমএ পাশ প্রার্থীর রাজনৈতিক ময়দানে প্রবেশ ঘিরেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ধূপগুড়ির ভোটের লড়াই।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, ধূপগুড়ি বিধানসভায় প্রায় ৩৫ শতাংশ ভোটার নমঃশূদ্র সম্প্রদায়ভুক্ত। এতদিন এই ভোটের বড় অংশই বিজেপির ঝুলিতেই যেত। কিন্তু নমঃশূদ্র সমাজের সমর্থিত নির্দল প্রার্থীর মনোনয়নে সেই সমীকরণ বদলে যাবে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। সামান্য ভোট সরে গেলেও ফলাফলে বড় প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না কেউই।
তৃণমূল কংগ্রেসের গ্রামীণ ব্লক সভাপতি মলয় রায় সরাসরি বিজেপির অন্দরের কোন্দলের অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, বিজেপির টিকিট বণ্টন নিয়ে ক্ষোভ থেকেই নির্দল প্রার্থীর উত্থান। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, বহু নমঃশূদ্র ভোটারের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ায় ক্ষোভ বাড়ছে। তাঁর কথায়, বিজেপির ভিতরেই ভাঙন শুরু হয়েছে। নমঃশূদ্র ভোট এবার বিজেপির হাতছাড়া হবেই। তিনি আরও দাবি করেন, বিজেপি নেতা আগুন রায় টিকিট না পাওয়ায় সমাজের একাংশ ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েছে এবং তার সরাসরি প্রভাব পড়বে ভোটে।
যদিও বিজেপি নেতা আগুন রায় সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এগুলি ভিত্তিহীন খবর। নির্দল প্রার্থী মলয় সিদ্ধা বলেন, আমার সঙ্গে কোনো দলের সম্পর্ক নেই। নমঃশূদ্র ছাড়াও সকলের ভোট আমি পাব।
ধূপগুড়ি নমঃশূদ্র সমাজের সাধারণ সম্পাদক বাপ্পা মণ্ডল বলেন, নমঃশূদ্র সমাজ এবার নির্দল প্রার্থীকেই ভোটে দেবে। আমরা আশা করছি, শুধু নমঃশূদ্র ভোট নয়, সকল সমাজের ভোট পাব।