


সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: পুজোয় পর্যটকের ভিড়ে জমজমাট পাহাড়। টয় ট্রেন, টাইগার হিল নিয়েই সকলে ব্যস্ত। তার মাঝে অপ্রত্যাশিতভাবে দেখা মিলল অতি বিরল মেলানিস্টিক বা কালো হরিণের। এবছরের শুরুতেই প্রথমবার ডাউহিল ফরেস্টে কার্শিয়াং বনবিভাগের ডিএফও দেবেশ পাণ্ডে প্রথম কালো হরিণ দেখতে পেয়ে নিজেই ক্যামেরাবন্দি করেছিলেন। আবার ওই এলাকাতেই ট্রেকিং করতে গিয়ে কালো হরিণের দেখা পেলেন এক পর্যটক।
বনদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, ডাউহিলের গভীর জঙ্গলে প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য উপভোগ করতে ট্রেকিং করছিলেন একদল পর্যটক। পাইনের জঙ্গল চিরে নিরিবিলি পাহাড়ি বন পথে এক পর্যটক একটি কালো হরিণকে ঘুরে বেড়াতে দেখেন। দুর্লভ সেই মুহূর্ত ধরে রাখতে ওই পর্যটক দ্রুত নিজের ক্যামেরায় হরিণটির একাধিক ছবি তোলেন। যা পুজোর ভ্রমণে বিরল উপহার হিসাবেই মনে করছেন ওই পর্যটকের দল। এমন দৃশ্যর সাক্ষী হতে পেরে তারা রীতিমতো রোমাঞ্চিত বলে দাবি করেছে বনবিভাগ।
প্রাণী বিশেষজ্ঞদের মতে, মূলত প্রজননগত বিশেষ পরিবর্তন বা জেনেটিক ত্রুটির কারণে মেলানিন রঙের রঞ্জক পদার্থের পরিমাণ স্বাভাবিকের তুলনায় অনেকটাই বেড়ে সাধারণ বার্কিং ডিয়ার কালো হরিণের রূপ নেয়। দশ লক্ষ স্বাভাবিক হরিণের মধ্যে মাত্র একটি হরিণের দেহে এমন বিরল পরিবর্তন দেখতে পাওয়া যায়।
বনদপ্তরের দাবি, বিগত বছরগুলিতে ডাউহিল, বাগোরা এবং মিরিকের মতো বিস্তীর্ণ পাহাড়ি এলাকায় বেশ কয়েকবার কালো চিতাবাঘ বা মেলানিস্টিক লেপার্ডের উপস্থিতি স্পষ্ট হয়েছিল। কিন্তু এভাবে প্রকাশ্যে সম্পূর্ণ কালো হরিণ ঘুরে বেড়ানোর দৃশ্য অতীতে রেকর্ড করা হয়নি। কয়েক মাসের ব্যবধানে একই এলাকায় মেলানিস্টিক বার্কিং ডিয়ারের উপস্থিতি ধরা পড়ায় উচ্ছ্বসিত বনদপ্তরের শীর্ষ আধিকারিক ও কর্মীরা।
কার্শিয়াং বনবিভাগের ডিএফও দেবেশ পাণ্ডে বলেন, রাজ্য বনদপ্তর তথা সমগ্র বন্যপ্রাণী প্রেমীদের জন্য এটি অত্যন্ত খুশির খবর। এর আগে পাহাড়ি জঙ্গলে একাধিকবার বিরল কালো চিতাবাঘের দেখা মিললেও, মেলানিস্টিক হরিণের এভাবে প্রকাশ্যে আসা এক ঐতিহাসিক ঘটনা। পর পর দু’বার এই হরিণের দেখা মেলায় প্রমাণ হচ্ছে যে, কার্শিয়াংয়ের এই সংরক্ষিত বনাঞ্চলের পরিবেশ ওদের প্রজননের জন্য অনুকূল এবং এখানে মেলানিস্টিক হরিণের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই বিরল প্রজাতির হরিণকে চোরা শিকারিদের হাত থেকে রক্ষা করতে বনদপ্তর ওই বনাঞ্চলে বাড়তি নজরদারির জন্য বিশেষ টহলদারি দল গঠন করেছে। সকলেই মনে করছেন, এই কালো হরিণ আগামীতে এই অঞ্চলে পর্যটনের প্রেক্ষাপট বদলে দিতে পারে। • ছবি বনদপ্তরের সৌজন্যে।