


সংবাদদাতা, কাঁথি: একে জীর্ণ ভবন। রয়েছে নানান পরিকাঠামোর অভাব। কর্মী-সংকটও রয়েছে। সেই নানান সমস্যা ও পরিকাঠামোগত অভাব নিয়েই চলছে কাঁথি মহকুমা হাসপাতালের ব্লাড ব্যাংক। এছাড়া ব্লাড ব্যাংকে ‘ব্লাড কম্পোনেন্ট সেপারেশন ইউনিট’ বা রক্তের উপাদান পৃথকীকরণ বিভাগ চালুর দাবি থাকলেও তা মেটেনি। যদিও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ব্লাড ব্যাংককে ঢেলে সাজার পরিকল্পনা রয়েছে। ব্লাড ব্যাংকটি নতুন ভবনে স্থানান্তর করা হবে। উন্নত পরিকাঠামোও গড়ে তোলা হবে।
কাঁথি ব্লাড ব্যাংকের গুরুত্ব অনেক। কাঁথি এলাকায় রক্তের চাহিদা বরাবরই বেশি থাকে। প্রতিমাসে অন্তত ১৪০০ ইউনিট রক্ত সংগ্রহ ও সরবরাহ করে কাঁথি ব্লাড ব্যাংক। এই হার জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি। কাঁথি মহকুমা হাসপাতালে রোগীদের প্রয়োজনে যেমন জরুরি ভিত্তিতে রক্ত সরবরাহ করা হয়, তেমনি অন্যান্য হাসপাতাল-নার্সিংহোমেও সরবরাহ করা হয়। জেলায় থ্যালাসেমিয়া আক্রান্তদের চাপ বেশি কাঁথি মহকুমা হাসপাতালে। বহু থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত রোগীকে এই ব্লাড ব্যাংক থেকে রক্ত সরবরাহ করা হয়।
বছরে প্রায় ১৫ হাজার ইউনিট রক্ত সংগ্রহ এবং সরবরাহ করে ব্লাড ব্যাংক। কাঁথি ও এগরা মহকুমা তো বটেই, তমলুক মহকুমার নন্দীগ্রাম, চণ্ডীপুর এলাকা থেকেও রক্তের প্রয়োজনে মানুষজন এই ব্লাডব্যাংকে আসেন। অনেকসময় জোগান না থাকায় চাহিদা অনুযায়ী রক্ত সরবরাহ করা সম্ভব হয় না। সেকথা মাথায় রেখে কাঁথি ব্লাড ব্যাংকের সহায়তায় দুই মহকুমা এলাকায় প্রায়শই রক্তদান শিবিরের আয়োজন করে বিভিন্ন ক্লাব-সংগঠন। ১৯৮৬ সালের ১৯জুন তৎকালীন বাম সরকারের স্বাস্থ্যদপ্তরের রাষ্ট্রমন্ত্রী রামনারায়ণ গোস্বামী ব্লাড ব্যাংকের উদ্বোধন করেছিলেন। হাসপাতালের কিচেনের জন্য গড়ে তোলা ভবনকেই তখন জরুরি ভিত্তিতে ব্লাড ব্যাংকের রূপ দেওয়া হয়। সেসময় কিছু পরিকাঠামো গড়ে তোলা হয়। তারপর থেকে এযাবৎ সেখানেই চলছে ব্লাডব্যাংক। ভবনে ছোট ছোট রুম রয়েছে, যা অপরিসর। তা কোনোমতেই ব্লাড ব্যাংকের পরিকাঠামোর পক্ষে উপযুক্ত নয়। কোনোরকমে সেই রুমগুলিতে বসে যাবতীয় কাজ করেন আধিকারিক সহ কর্মীরা। আবার ভারী বৃষ্টি হলেই ছাদ চুঁইয়ে জল পড়ে। কোনোরকমে জিনিসপত্র সরিয়ে অবস্থা সামাল দেন তাঁরা।
ব্লাড ব্যাংকে বেশকিছু পদ খালি রয়েছে। এখানে একজন ইনচার্জ ও একজন মেডিকেল অফিসার থাকার কথা। তবে সেখানে একজন রয়েছেন। দু’টি দায়িত্ব সামলাচ্ছেন মেডিকেল অফিসার অনিরুদ্ধ মৃধা। দু’জন নার্স থাকার কথা হলেও রয়েছেন একজন। টেকনিশিয়ান ১০জন থাকার কথা হলেও রয়েছেন সাতজন। জেনারেল ডিউটি অ্যাসিস্ট্যান্ট তিনজন এবং একজন ফার্মাসিস্ট রয়েছেন। সকলেই বাড়তি চাপ নিয়ে কাজ করতে হয়। রক্তদান আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত তেহেরান হোসেন বলেন, থ্যালাসেমিয়া আক্রান্তদের জন্য রক্তের তিনটি উপাদান পৃথক করতে হয়। কাঁথি থেকে নন্দীগ্রামে রক্ত পাঠাতে হয়। সেখান থেকে আলাদা হয়ে আসতে দু’তিন দিন সময় লাগে। এতে রোগীরা এবং বাড়ির লোকজন সমস্যায় পড়েন। তাই ব্লাড কম্পোনেন্ট সেপারেশন ইউনিট গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি।
এবিষয়ে সুপার অরূপরতন করণ বলেন, বর্তমানে যেখানে রোগীর পরিজনদের জন্য রাত্রি নিবাস রয়েছে, সেখানে তিনতলায় ব্লাড ব্যাংকটি স্থানান্তর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তার পরিকাঠামো তৈরির কাজ শেষের পথে। ব্লাড ব্যাংকের যাবতীয় পরিকাঠামো ঠিকঠাক হয়ে গেলেই ব্লাড কম্পোনেন্ট সেপারেশন ইউনিট গড়ে তোলার জন্য অনুমোদন দেবে স্বাস্থ্যদপ্তর। আমরা আশাবাদী, অদূর ভবিষ্যতে ব্লাড ব্যাংকটি নতুন ভবনে স্থানান্তর হবে এবং ব্লাড কম্পোনেন্ট সেপারেশন ইউনিট গড়ে তোলা যাবে। কর্মী-সঙ্কটের বিষয়টিও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আর্জি জানানো হয়েছে।