


নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: অস্বস্তি সংকটে মানুষ। নিজের নাগরিকত্ব বাঁচাতে ছুটে বেড়াচ্ছেন এসআইআরের শুনানি কেন্দ্র থেকে ট্রাইবুনালের আবেদনের জন্য। নিজেদের ভারতীয় প্রমাণে ব্যস্ত বাংলাবাসী। নির্বাচনের জেরে রক্তদান শিবির আয়োজনে ভাটা পড়েছে। এর ফলে আসানসোল জেলা হাসপাতালে প্রবল রক্ত সংকট। নেগেটিভ ব্লাড গ্রুপের রক্ত তো নেই, পজিটিভ ব্লাড গ্রুপের রক্তও পাওয়া যাচ্ছে না। জানা গিয়েছে, প্রতি মাসে গড়ে ১৮০০ থেকে ১৯০০ ইউনিট রক্তের প্রয়োজন হয়। রক্ত পাওয়া যাচ্ছে এক হাজার ইউনিটের কম। এই হাসপাতালের উপর নির্ভর করে বহু থ্যালাসেমিয়া রোগী। বিনামূল্যে হাসপাতাল থেকে বিশুদ্ধ রক্ত তাঁদের দেওয়া হয়। এই সংকটে তাঁদের পরিষেবা কতদিন স্বাভাবিক রাখা যাবে তা নিয়ে উদ্বিগ্ন অনেকে।
আসানসোল জেলা হাসপাতাল জেলার সবচেয়ে বড় সরকারি হাসপাতাল। হাসপাতালের ব্লাড ব্যাঙ্ক বিভাগটি অত্যন্ত উন্নত। রক্তের উপাদান পৃথকীকরণ সহ নানা কাজ হয়। শুধু এই জেলাই নয় বীরভূম, পুরুলিয়া এমনকী ঝাড়খণ্ডের বহু মানুষ এর উপর নির্ভর করে। শিল্পাঞ্চল জেলা তাঁর উপর এই জেলায় রয়েছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ও রাজ্য সড়ক। দুর্ঘটনায় বিপুল পরিমাণ রক্তের প্রয়োজন হয়। পাশাপাশি প্রসুতি মায়েদের চিকিৎসায় অপারেশনের জন্যও বহু রক্তের প্রয়োজন হয়। এছাড়াও এই হাসপাতাল থেকে রক্ত পান ৩২৫ জন থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত রোগী। প্রায় প্রতি মাসেই তাঁদের রক্ত পরিবর্তন করতে হয়। সবমিলিয়ে প্রায় ২ হাজার ইউনিট রক্ত খরচ হয়। যার জন্য বিপুল সংখ্যাক রক্তদান শিবিরের আয়োজন করতে হয়। চিকিৎসকরাও এনিয়ে সর্বক্ষণ উৎসাহিত করে চলেছে। সবকিছু ঠিকই চলছিল। গড়ে ৪৪-৪৫টি করে রক্তদান শিবির আয়োজন হচ্ছিল। এতে রক্তের চাহিদা পূরণ হচ্ছিল। বাদ সেধেছে এসআইআর। ব্লাড ব্যাঙ্কের সঙ্গে যুক্ত কর্মী আধিকারিকদের দাবি, এসআইআরে একবার এনামুরেশন ফর্ম পূরণ। একবার শুনানিতে লাইনে দাঁড়ানো।
তারপর আবার ট্রাইবুনালে আবেদন করার জন্য লাইনে দাঁড়ানো। সবাই ভোটার তালিকায় নাম তোলাতে ব্যস্ত। কেউ আর রক্তদান শিবির আয়োজন করার সময় পাচ্ছেন না। ব্লাড ব্যাঙ্কের দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক সঞ্জীত চট্টোপাধ্যায় বলেন, এসআইআর শুরু হওয়ার পর থেকেই শিবির করা নিয়ে অনীহা দেখা যাচ্ছে। মার্চ মাসে মাত্র ৩৩ টি ক্যাম্পে আয়োজন হয়েছেো প্রায় ৮০০ ইউনিট রক্তের ঘাটতি ছিল। এপ্রিল মাসে এখনও পর্যন্ত মাত্র ২৩টি ক্যাম্প হওয়ার করা রয়েছে। এভাবে চললে পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে যাবে। আমি আর্জি করব, রক্তদান শিবির করুন। শিশু কোলে নিয়ে আসানসোল জেলা হাসপাতালে ঘুরছিলেন এক বাবা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পিতার দাবি, ছেলেকে প্রতি মাসে রক্ত পরিবর্তন করতে হয়। এবার রক্ত পেয়েছে কিন্তু পরের বার পাব কিনা নিশ্চয়তা নেই। ভোটের জন্য নাকি কেউ রক্তদান শিবির করছে না। ভোটের জন্য তো রোগ থেমে থাকবে না। সবাব কাছে অনুরোধ মানুষ এমনিতেই ব্যতিব্যস্ত, আর হয়রানিতে ফেলবেন না।