


শান্তনু দত্ত: সিনেমা আর প্রেমের মধ্যে একটা মিল রয়েছে। কী বলুন তো? আবেগ, অনুভূতি আর নতুনত্বের স্বাদ। এগুলি না থাকলে প্রেম যেমন জমে না, জমে না সিনেমাও। ঠিক যেমন জমেনি ‘পরম সুন্দরী’।
সিদ্ধার্থ মালহোত্রা আর জাহ্নবী কাপুর প্রথমবার জুটিতে। তুষার জালোটার ছবি ঘিরে দর্শকমহলে আগ্রহ প্রথম থেকেই। গির্জার মধ্যে প্রেম, মালয়ালম ভাষা বিতর্ক— সেই আগ্রহের পালে হাওয়া দিয়েছিল। তবে ছবির একঘেয়ে চিত্রনাট্য সেই আগ্রহকে বিশ বাঁও জলে ফেলতে যথেষ্ট।
পরম (সিদ্ধার্থ) সফল ব্যবসায়ী হতে চায়। একটি অ্যাপে বিনিয়োগের সুযোগও আসে। সেই অ্যাপ নাকি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে খুঁজে দিতে পারে মনের মানুষ। বিনিয়োগের আগে নিজে অ্যাপের গুণমান পরখ করে দেখতে চায় পরম। অ্যাপ অনুযায়ী তার ভালোবাসার মানুষ সুন্দরী (জাহ্নবী কাপুর)। এরপরই কেরলের উদ্দেশে রওনা দেয় দিল্লির পাঞ্জাবী ‘মুন্ডা’। এরপর চিত্রনাট্য এগিয়েছে বলিউডি ফর্মুলা মেনেই। উত্তর ভারতের ছেলে মানেই সে দক্ষিণ প্রসঙ্গে ‘উদাসীন’। মোহনলাল ও রজনীকান্তের ফারাক সে জানে না। ‘ওনাম’ ও ‘পোঙ্গাল’ তার কাছে একই। এগুলি চেনা প্রেক্ষাপট। ‘চেন্নাই এক্সপ্রেস’ মুক্তির প্রায় একযুগ পরেও এমন চিত্রায়ন মেনে নিতে কষ্ট হয় বই কী! কেবল ‘চেন্নাই এক্সপ্রেস’ই বা ‘টু স্টেটস’ই নয়, ছবিজুড়ে বিভিন্ন সংলাপে মনে পড়বে বলিউডের একাধিক সিনেমার কথা। বিশেষত শাহরুখের ছবি। ‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে’ থেকে ‘দিল তো পাগল হ্যায়’ বা ‘দিল সে’, ‘বাজিগর’— শাহরুখ যে আজও বলি পাড়ার রোমান্স ‘কিং’, প্রমাণ হয় এর মাধ্যমেই। সিদ্ধার্থ ও জাহ্নবীর পর্দার উপস্থিতি আকর্ষণীয়। তবে আলাদা আলাদাভাবে। তাঁদের জুটির রসায়ন তেমন মন কাড়ে না। অথচ এই রসায়নই রোমান্টিক ছবির ক্ষেত্রে ‘কিং মেকার’। এই রসায়নের কাঁধে ভর করেই এ বছরের সবচেয়ে বড় হিট (এখনও পর্যন্ত) ‘সাইয়ারা’। সুন্দরীর জীবনে একসময় ফিরে আসে শৈশবের প্রেম বেণু (সিদ্ধার্থ শঙ্কর)। চরিত্রটি কেন এত নিষ্প্রভ, জানতে ইচ্ছা হয়। ছোট থেকে সবক্ষেত্রে প্রথম হওয়া (এমনকী নাচেও) বেণু বাগদানের অনুষ্ঠানে নাচতে ‘নার্ভাস’ হয়ে পড়ে। তা কি পরমকে জায়গা ছাড়ার জন্যই? তবে হ্যাঁ, প্রাপ্তি বলতে ২ ঘণ্টা ১৬ মিনিট ধরে বড়পর্দায় অপূর্ব কেরল দর্শন। ‘ঈশ্বরের নিজের দেশে’র যে রূপ ফ্রেমে ধরা হয়েছে, তা মন ভরিয়ে দেয়। সঙ্গে মিউজিকে বাজিমাত করেছেন শচীন-জিগার জুটি। ‘পরদেশিয়া’ গানটি শ্রুতিমধুর। অন্য গানগুলিও উপভোগ্য। পার্শ্বচরিত্রে সঞ্জয় কাপুর (পরমের বাবা), মনজ্যোৎ সিং (পরমের বন্ধু), রেনজি পানিকর (সুন্দরীর কাকা) ভালো। প্যান ইন্ডিয়ার ছবির এই রমরমার সময় দুই রাজ্যের মধ্যে সাংস্কৃতিক ফারাক খুব সূক্ষ্মভাবে তুলে ধরা হয়েছে। মোহিণীআট্যম, ওনাম, কালারিপায়াতু— কেরলের নানা সংস্কৃতি উঠে এসেছে ছবিজুড়ে। তাতেও এ ছবিকে বাঁচানো যাবে বলে খুব বড় সিনেমার ভক্তও বোধহয় ভাবতে পারবেন না।