


নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর ও সংবাদদাতা, খড়্গপুর: রাজ্যের মসনদে বিজেপির বয়স সবে চার মাস। এরই মধ্যে ক্ষমতা দখল, তোলাবাজি এবং সিন্ডিকেট চালানোকে কেন্দ্র করে জেলায় জেলায় চরমে উঠেছে পদ্ম শিবিরের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব। শনিবার ভোরে সেই গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব প্রাণঘাতী আকার নিল পশ্চিম মেদিনীপুরে। এলাকায় কার আধিপত্য থাকবে, তা নিয়ে সংঘর্ষে নৃশংস খুন হলেন দুই বিজেপি কর্মী। সদর ব্লকের সংখ্যালঘু অধ্যুষিত হাতিহল্কা এলাকায় ওই দু’জনকে টাঙি দিয়ে কুপিয়ে খুন করা হয়। নাম শামসের বিশ্বাস (৩১) ও তাজেউল খান (৫৫)। ঘটনায় গুরুতর জখম ইমানি খান নামে আরও এক প্রবীণ কর্মী চিকিৎসাধীন কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে। রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িত থাকার অভিযোগে এখনও পর্যন্ত দু’পক্ষের মোট চারজনকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হেড কোয়ার্টার) উত্তম ঘোষ। ঘটনার পর কার্যত পুরুষ-শূন্য এলাকা। মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল বাহিনী।
শুক্রবার বিকেলে মেদিনীপুর সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সভাপতি পদে রদবদল করে রাজ্য নেতৃত্ব। নতুন জেলা সভাপতির নাম ঘোষণার পরই হাতিহল্কা এলাকায় মিছিল করে নব্য বিজেপির কর্মী-সমর্থকরা। আদি কর্মীরা তখন মেদিনীপুরে গিয়েছিলেন নতুন জেলা সভাপতি সৌমেন তেওয়ারিকে সংবর্ধনা জানাতে। ফিরে এসে তারাও মিছিল করে। এরপরই দু’পক্ষের মধ্যে অশান্তি শুরু হয়। পরে জেলা নেতৃত্বের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও, শনিবার ভোরে আদি বিজেপি কর্মীদের উপর হামলা চালায় নব্য বিজেপিরা। চলে বোমাবাজিও। দু’পক্ষের সংঘর্ষে গুরুতর জখম হন দুই গোষ্ঠীর মোট তিনজন। মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজে নিয়ে গেলে আদি বিজেপির শামসের বিশ্বাসকে মৃত ঘোষণা করা হয়। নব্য বিজেপির তাজেউল খান ও আদি বিজেপির ইমানি খানকে স্থানান্তরিত করা হয় কলকাতার এসএসকেএমে। সেখানেই বিকেলে মৃত্যু হয় তাজেউলের।
এলাকার বিজেপি নেতা তথা শক্তি কেন্দ্র প্রমুখ জাফর চৌধুরী বলেন, ‘এই এলাকায় আমি ২০০৪ সাল থেকে বিজেপি করি। শামসের আমার ভাগ্নে। ২০২৪ সাল থেকে বিজেপি করছে। আর তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা এখন বিজেপি সাজার চেষ্টা করছে। ওরাই মেরে ফেলল শামসেরকে...।’ জেলা বিজেপির সভাপতি সৌমেন তেওয়ারিও বলেন, ‘এই ঘটনার সঙ্গে বিজেপির যোগ নেই। হাতিহল্কার কদমতলা বাজার দখলকে কেন্দ্র করে মারপিট হয়েছে। এই ঘটনায় তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা জড়িত। পুলিশকে বলেছি, কড়া পদক্ষেপ নিতে।’ মমতাপন্থী তৃণমূলের নেতা মহম্মদ রফিক বলেন, ‘এটা সবে শুরু। নীচুতলায় বিজেপির কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই।’ হাতিহল্কা, রামনগর সহ আশেপাশের বাসিন্দারাও মানছেন, দু’দিন আগেও জোড়াফুল পতাকায় মোড়া এলাকায় এখন উড়ছে পদ্ম পতাকা। নীল-সাদা পার্টি অফিসগুলি হয়েছে গেরুয়া। রামনগর বাজারে বসে শেখ মোতিবুর, সামসুল মল্লিকরা বলছিলেন, ‘আগে সবাই তৃণমূল করতাম। এখন সবাই বিজেপি। সবাই নেতা! তাই নিয়েই গোলমাল হাতিহল্কাতে।’