


নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া ও সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: শুক্রবারও বাঁকুড়া জেলা ও বিষ্ণুপুর মুখ্য ডাকঘরে বোমাতঙ্কের জেরে স্বাভাবিক কাজকর্ম বিঘ্নিত হয়। বৃহস্পতিবার হুমকি ই-মেলের জেরে ডাকঘরে পরিষেবা দীর্ঘক্ষণ বন্ধ ছিল। এদিনও একই ঘটনা ঘটে। পাসপোর্টের কাজ হয় এমন ডাকঘরগুলিতে বোমা রয়েছে বলে মেল আসে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের তরফে বাঁকুড়ার সংশ্লিষ্ট ডাকঘরগুলিকে সতর্ক করে দেওয়া হয়। ওই বার্তা পেয়ে দ্রুত পোস্ট অফিস ভবন খালি করে দেওয়া হয়। তালা ঝুলে যায় মেন গেটেও। তারফলে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। এভাবে পরপর দু’দিন নিছক হুমকি মেলের জেরে কাজে বিঘ্ন ঘটায় গ্রাহকরা অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। অবিলম্বে সুরক্ষা আঁটোসাঁটো করার দাবিও তাঁরা তুলেছেন। কে বা কারা আতঙ্ক ছড়াচ্ছে, তা চিহ্নিত করে শাস্তির ব্যবস্থা করা উচিত বলে তাঁদের অভিমত।
এদিনও বাঁকুড়া শহরের মাচানতলা এলাকায় জেলার হেড পোস্টঅফিস ছেড়ে কর্মী-আধিকারিকরা বাইরে বের হন। পুলিশ গিয়ে ভবনে তল্লাশি চালায়। আগের দিনের মতোই এদিনও সেখানে সন্দেহজনক কিছু পাওয়া যায়নি। বাঁকুড়া ডাক বিভাগের সুপারিন্টেন্ডেন্ট অনিরুদ্ধ বিশ্বাস বলেন, ডাকঘরে থাকা পাসপোর্ট সেন্টারে বোমা থাকতে পারে বলে বৃহস্পতিবারের মতো এদিনও উপরমহল থেকে আমাদের সতর্ক করা হয়। নির্দেশ অনুসারে আমরা সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিই। এদিন বেলা ১১টা থেকে ঘণ্টাখানেক দপ্তরের কাজ বন্ধ রাখা হয়। ওইসময় কর্মী-আধিকারিকরা অফিসের বাইরে ছিলেন। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ফের কাজ শুরু হয়।
বাঁকুড়া-১ ব্লকের বাসিন্দা পূর্ণিমা ধীবর বলেন, আধার কার্ড সংক্রান্ত নিয়ে সকাল থেকে পোস্ট অফিসের সামনে লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলাম। কাউন্টারের কাছাকাছি যেতেই বোমাতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। হুড়মুড়িয়ে সকলে বাইরে বের হন। আমিও তাঁদের সঙ্গে আতঙ্কে রাস্তার উপর গিয়ে দাঁড়াই। এদিন কাজ না করেই বাড়ি ফিরতে হয়। বাঁকুড়ার পাশাপাশি এদিন বিষ্ণুপুরেও একই চিত্র লক্ষ্য করা গিয়েছে। সেখানেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ফলে কাজ পণ্ড হয়। বিষ্ণুপুর মুখ্য ডাকঘরের পোস্টমাস্টার আশিস বসু বলেন, বোমাতঙ্কের বার্তা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি বিষ্ণুপুর থানায় পুলিশকে জানানো হয়। তাদের পরামর্শ মতো ডাকঘরে তালা দিয়ে আমরা নিরাপদ দূরত্বে চলে যাই। গ্রাহকদেরও একইভাবে নিরাপদ দূরত্বে থাকার অনুরোধ জানাই।