


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আমেরিকা-ইজরায়েল একযোগে ইরান আক্রমণ করতেই পশ্চিম এশিয়াজুড়ে শুরু হয়েছে ভয়াবহ যুদ্ধ। সেদিন থেকেই অনেকের মনে কু ডাকছিল—এবার কি যুদ্ধের প্রভাব এসে পড়বে ভারতবাসীর হেঁশেলে? রান্নার গ্যাসের জোগান স্বাভাবিক থাকবে তো? যুদ্ধের এক সপ্তাহের মধ্যে স্পষ্ট, আশঙ্কা অমূলক নয়, বরং ঘোর বাস্তব! ইতিমধ্যে দাম বেড়েছে ৬০ টাকা। শনিবার সকালে কলকাতা সহ রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় দেখা গেল অন্য আতঙ্কের প্রতিফলন। গ্যাসের দোকানের সামনে লম্বা লাইন। আগেভাগে সিলিন্ডার তুলে রাখার জন্য হুড়োহুড়ি। গ্রাহকদের মধ্যে তুমুল বিভ্রান্তি সার্বিক পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে। কারণ, ইতিমধ্যে গ্যাস ডিস্ট্রিবিউটরদের বলে দেওয়া হয়েছে, একটি সিলিন্ডার ডেলিভারির অন্তত ২৫ দিন পর করা যাবে নতুন বুকিং। কিন্তু সাধারণ মানুষের জন্য সরকার বা প্রশাসনের তরফে এনিয়ে কোনো বার্তা বা বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়নি। ফলে অনেকে ফোনের মাধ্যমে (মিসড কল বা আইভিআরএস) সিলিন্ডার বুকিং করতে পারেননি। সকালবেলায় তাঁরা উদ্বিগ্ন মুখে ছুটে এসেছেন ডিস্ট্রিবিউটরের দোকানে।
পরে আর গ্যাস পাওয়া যাবে না, এই আতঙ্কে বহু মানুষ ফোন করে বুকিং করতে চেয়েছেন। শুক্রবার থেকে তাঁদের শুনতে হয়েছে, ‘নাম্বার ডাজ নট এগজিস্ট’। অনেকের মতে, গ্যাসের দোকানের সামনে এমন লাইন শেষবার দেখা গিয়েছিল যখন বায়োমেট্রিকের মাধ্যমে বুকিং চালু হয়। লাইনে দাঁড়ানো গ্রাহকরা বলছেন, সরকার কোনো সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র তেল বা গ্যাস সংস্থাকে জানিয়ে হাত তুলে নিচ্ছে। সাধারণ মানুষ থাকছে অন্ধকারে। ফলে বিভ্রান্তি ও ধোঁয়াশা তৈরি হচ্ছে। কেবল ‘উজ্জ্বলা’ প্রকল্পের গ্রাহকদের জন্য ইকেওয়াইসি বাধ্যতামূলক। তা সত্ত্বেও সাধারণ গ্রাহকদের ইকেওয়াইসি না করা থাকলে গ্যাস দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ। এই হয়রানিতে তিতিবিরক্ত বহু মানুষ।
যুদ্ধ আবহে গৃহস্থের রান্নার গ্যাসের দাম সিলিন্ডার পিছু ৬০ টাকা বৃদ্ধি করেছে কেন্দ্র। মূল্যবৃদ্ধির বাজারে এক ধাক্কায় এতটা মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে মানুষ ক্ষুব্ধ। যুদ্ধের সুযোগ নিয়ে অন্য কোনো উদ্দেশ্যে দাম বাড়ানো হল না তো? গ্রাহকদের লাইনে শোনা গিয়েছে এমন প্রশ্নও। চলতি আবহে প্রথমে ২১ দিনের কথা বলা হলেও শনিবার ডিলার-ডিস্ট্রিবিউটররা জানিয়েছেন, সিলিন্ডার ডেলিভারির ২৫ দিনের মধ্যে নয়া বুকিং হবে না। অথচ, একজন সাধারণ গ্রাহকের বছরে ২১৫ কেজি গ্যাস পাওয়ার অধিকার রয়েছে। সেক্ষেত্রে তিনি বছরে সর্বাধিক ১৫টি সিলিন্ডার পেতে পারেন। এখানে প্রশ্ন, কিন্তু ২৫ দিনের নিয়ম চালু থাকলে গ্রাহকের সেই অধিকার রক্ষিত হবে কীভাবে?
গত কয়েক ঘণ্টায় গ্যাসের বুকিংয়ের জন্য হুড়োহুড়ি কতটা বেড়েছে, তার একটা ধারণা মিলবে নিম্নোক্ত পরিসংখ্যানে। সূত্রের খবর, ‘ইন্ডেন’-এর কলকাতা এরিয়া অফিসের গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ৪৮ লক্ষ। সাধারণভাবে প্রতিদিন গড়ে এক লক্ষ সিলিন্ডার বুকিং হয় তাদের। সেই জায়গায় গত ২৪ ঘণ্টায় এই সংখ্যা ১ লক্ষ ৯০ হাজার ছাড়িয়েছে। ডিস্ট্রিবিউটররা বারবার বলছেন, ‘আতঙ্কের কারণ নেই।’ কিন্তু গ্রাহক কিছুতেই আশ্বস্ত হচ্ছেন না। কারণ, সরকারের তরফে স্পষ্ট কোনো ঘোষণা নেই!