


নয়াদিল্লি, ৫ জুলাই: বিয়ের মাত্র তিন মাসের ব্যবধান। তার পরেই অস্বাভিক মৃত্যু নববধূর। দিল্লির লোধি কলোনি এলাকায় একটি বহুতল আবাসন থেকে পড়ে ২৮ বছর বয়সি এক নববধূর মৃত্যুর ঘটনাকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল এলাকায়। মৃতার পরিবারের অভিযোগ, এটি কোনো আত্মহত্যা বা স্বাভাবিক মৃত্যু নয়, বরং এটি পরিকল্পিত খুন। ঘটনার জন্য তারা মৃতার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের দায়ী করেছেন।
মৃতার নাম আকৃতি সুতার। তিনি দক্ষিণ দিল্লির পুষ্প বিহারের বাসিন্দা ছিলেন। দিল্লি পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ৪ জুলাই সন্ধ্যায় লোধি কলোনি থানার অধীনস্থ একটি আবাসনের ছাদ থেকে পড়ে গুরুতর জখম অবস্থায় আকৃতিকে উদ্ধার করা হয়। পরে তাঁকে দ্রুত এইমস হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা সেখানে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
জানা গিয়েছে, চলতি বছরের ২৪ এপ্রিল আকৃতির বিয়ে হয়েছিল। বিয়ের তিন মাসও পূর্ণ হওয়ার আগেই তাঁর এই অস্বাভাবিক মৃত্যু হল। তিনি ছত্তরপুরে একটি বেসরকারি সংস্থায় সেলস এক্সিকিউটিভ হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ঘটনার দিনও তিনি অফিসে গিয়েছিলেন। পরিবারের দাবি, শনিবার সন্ধ্যায় আকৃতির সঙ্গে তাঁদের শেষবার কথা হয়। তখন তিনি জানিয়েছিলেন যে অফিস থেকে বেরিয়ে বাড়ি ফিরছেন। কিন্তু কিছুক্ষণ পর থেকেই তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ হয়ে যায়। উদ্বিগ্ন পরিবার খোঁজ খবর করতেই পরে লোধি কলোনি থানার মাধ্যমে জানতে পারেন যে একটি বহুতলের ছাদ থেকে পড়ে আকৃতির মৃত্যু হয়েছে। তবে মৃতার পরিবারের অভিযোগ, আকৃতিকে খুন করা হয়েছে। তাঁদের দাবি, তিনি মানসিকভাবে অত্যন্ত দৃঢ় ছিলেন এবং আত্মহত্যা করার মতো মানুষ সে ছিলনা। তাই এই ঘটনাকে আত্মহত্যা বলে মেনে নিতে নারাজ পরিবার।
পরিবারের দাবি মেনে একটি অভিযোগ দায়ের করা হয় লোধি কলোনি থানায়। পুলিশ ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার এর ১৯৬ ধারায় প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে। একই সঙ্গে মৃত্যুর তদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট সাব-ডিভিশনাল ম্যাজিস্ট্রেটকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত এখনও চলছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে তদন্তকারীরা সব সম্ভাব্য দিক বিবেচনা করে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছেন।