


সংবাদদাতা, বনগাঁ: দরজার খিল দিয়ে পিটিয়ে ভাইকে খুনের ঘটনায় দাদার যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দিলেন বিচারক। বুধবার বনগাঁ আদালতের ফার্স্ট ট্র্যাক ২ কোর্টের বিচারক মৃত্যুঞ্জয় কর্মকার এই নির্দেশ দেন। পাশাপাশি দোষীকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে আদালত।
ঘটনাটি ২০১২ সালের। দুপুরে বাড়িতে খেতে বসেছিলেন গাইঘাটা থানার বৈকারার বাসিন্দা দেবুপ্রসাদ ঘোষ। আচমকা দাদা হরিনারায়ণ ঘোষ দরজার খিল দিয়ে ভাইয়ের মাথা ও শরীরের একাধিক জায়গায় এলোপাথাড়ি আঘাত করে। রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়েন ভাই দেবুপ্রসাদ। তাঁকে প্রথমে চাঁদপাড়া গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে বনগাঁ মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। স্বামীকে বাঁচাতে গেলে দেবুপ্রসাদের স্ত্রী অলকা ঘোষকেও মারধর করে হরি নারায়ণ। ঘটনাটি দেখেছিলেন নাবালিকা মেয়ে মৌসুমী ঘোষ। ওই দিনই ভাসুর হরি নারায়ণ ঘোষের নামে গাইঘাটা থানায় অভিযোগ করেন অলকা দেবী। পুলিশ তদন্তে নেমে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে। দীর্ঘদিন ধরে চলে বিচার। মোট ১৬ জন সাক্ষী দেন। মঙ্গলবার বিচারক হরিনারায়ণ ঘোষকে দোষী সাব্যস্ত করেন। বুধবার সাজা ঘোষণা করেন বিচারক মৃত্যুঞ্জয় কর্মকার। সেসময় নাবালক ছিল দেবু প্রসাদের ছেলে অভিজিৎ ঘোষ। ঘটনার দিন বাড়িতে ছিলেন না। এদিন বাবার খুনের সাজা ঘোষণার পর তিনি বলেন, বাবা মাঠ থেকে বাড়ি এসে দুপুরে ভাত খেতে বসেছিল। জ্যাঠা দরজার খিল দিয়ে মেরে খুন করেছিল। ১৪ বছর পর বিচার পেলাম। আমি খুশি। তবে মা বেঁচে থাকলে বিচার দেখে যেতে পারত।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ঘোষ পরিবারে বিবাদ চলছিল। তার জেরেই খুন। সরকারি পক্ষের আইনজীবী জয়দেব হালদার বলেন, জমি নিয়ে বিবাদে খুন করেছিল দাদা। আজ বিচারক দাদাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা জরিমানা করে আদালত। ১৪ বছর পর ঘটনার বিচার পেল মৃতের পরিবার।