


নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: সাগরপাড়ায় নিষিদ্ধ কাশির সিরাপ পাচারকারীদের দৌরাত্ম্য বেড়েই চলেছে। রাতের অন্ধকারে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের ডমিনেশন লাইনের দিকে বস্তা নিয়ে ছুটছে পাচারকারীরা। বিএসএফের তরফে সতর্ক করা হলেও তাদের কুছ পরোয়া নেহি। ফলে পাচারকারীদের রুখতে বিএসএফ গুলি চালাতে বাধ্য হচ্ছে। বুধবার ভোরে সাগরপাড়ার ১৪৬নম্বর ব্যাটালিয়নের আউটপোস্টের কাছে এমনই ঘটনা ঘটেছে। এঘটনায় বিএসএফ প্রচুর কাশির সিরাপ ও একটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছে। সীমান্তরক্ষী বাহিনীর তরফে থানায় অভিযোগও দায়ের হয়েছে।
ওইদিন ভোরে সীমান্তের খাসমহলের কাছে চোরাচালানকারীদের চার-পাঁচজনের একটি দল বাংলাদেশের দিকে যাচ্ছিল। বিষয়টি বিএসএফ জওয়ানদের নজরে এলে প্রথমে দলটিকে সতর্ক করা হয়। কিন্তু চোরাচালানকারীরা তাতে কর্ণপাত না করে সীমান্ত পেরনোর চেষ্টা করে। তখন বাধ্য হয়ে জওয়ানদের তরফে সতর্ক করতে গুলি ছোড়া হয়। গুলির আওয়াজ শুনে পাচারকারীরা একটি বস্তা ফেলে পালিয়ে যায়। পরে বিএসএফ তল্লাশি চালিয়ে বস্তা থেকে ৫৪০বোতল কাশির সিরাপ উদ্ধার করে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয়, সেখান থেকে একটি ৭.৬৫এমএম পিস্তলও উদ্ধার হয়েছে।
বিএসএফের এক আধিকারিক বলেন, ওই চোরাচালানকারীরা সাগরপাড়ার দিক থেকে বাংলাদেশের দিকে যাচ্ছিল। ডমিনেশন লাইন থেকে কিছুটা দূরেই তারা আমাদের জওয়ানদের নজরে পড়ে যায়। তখনই তাদের আটকাতে শূন্যে গুলি চালানো হয়। এরপর ওই চোরাচালানকারীরা সঙ্গে থাকা সমস্ত জিনিসপত্র ফেলে দিয়ে অন্ধকারের সুযোগে পালিয়ে যায়। সেখান থেকে ৫৪০বোতল নিষিদ্ধ কাশির সিরাপ, একটি আগ্নেয়াস্ত্র, ম্যাগাজিন ও কার্তুজ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
এতদিন সীমান্তে বারবার কাশির সিরাপ উদ্ধারের ঘটনা ঘটলেও সরাসরি ভারতীয় আগ্নেয়াস্ত্র ও কার্তুজ উদ্ধার হয়নি। তাহলে কি এখন নিষিদ্ধ কাশির সিরাপের সঙ্গে আগ্নেয়াস্ত্রও পাচার হচ্ছে? নাকি পাচারকারীরা নিজেদের সুরক্ষার জন্য আগ্নেয়াস্ত্র রেখেছিল? এই প্রশ্নই এখন গোয়েন্দাদের ভাবিয়ে তুলেছে।
এর আগেও মুর্শিদাবাদের বিভিন্ন থানা এলাকায় নাকা তল্লাশি ও অভিযান চালিয়ে পুলিশ প্রচুর ৭এমএম ও ৯এমএম পিস্তল উদ্ধার করেছে। সাগরপাড়া, ডোমকল সহ নানা এলাকায় ভিনরাজ্যের অস্ত্র কারবারিদের সন্ধান পাওয়া গিয়েছিল। সীমান্ত লাগোয়া বিভিন্ন গ্রামে মজুত করার জন্যই এই আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল বলে পুলিশ অনুমান করেছিল। এবার সীমান্তের ডমিনেশন লাইনের কাছেই কাশির সিরাপের সঙ্গে আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হওয়ায় বাংলাদেশে পাচারের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। পুলিশের পাশাপাশি বিএসএফের গোয়েন্দা বিভাগও এবিষয়ে নজর রাখছে।
বিএসএফের তরফে এঘটনায় সাগরপাড়া থানায় অভিযোগ জানানো হয়েছে। ১৪৬নম্বর ব্যাটালিয়নের ডি কোম্পানি মাদক মামলার পাশাপাশি অস্ত্র আইনে মামলার জন্য অভিযোগ জানিয়েছে। বিএসএফের গুলি চালানোর ঘটনায় সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে।
স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, সীমান্তে বহুদিন পর এভাবে গুলি চলেছে। স্বাভাবিকভাবেই রাতবিরেতে গুলির আওয়াজে আমরা আতঙ্কিত। নিষিদ্ধ কাশির সিরাপ পাচারকারীদের দৌরাত্ম্য ঠেকাতে না পারলে এলাকায় শান্তিতে বসবাস করাই মুশকিল হয়ে যাচ্ছে। স্থানীয়দের একাংশ এই পাচারের সঙ্গে জড়িত। তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করে এই কারবার বন্ধ করা প্রয়োজন। উদ্ধার হওয়া আগ্নেয়াস্ত্র। বৃহস্পতিবার তোলা নিজস্ব চিত্র