


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কলকাতার বিভিন্ন অংশে উচ্ছেদ অভিযান চলছেই। বুধবার উচ্ছেদ অভিযান হয়েছে স্ট্র্যান্ড রোডে। সেখানে আর্মেনিয়ান ঘাট থেকে ছোটেলাল ঘাট পর্যন্ত রাস্তার দু’ধারে উচ্ছেদ করা হয়েছে। চলেছে বুলডোজার। তবে জগন্নাথ ঘাটের ফুলবাজারে কিছু হয়নি। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর শহরের বুকে বেআইনি নির্মাণ ভাঙতে প্রথম বুলডোজার চলে তিলজলা-তপসিয়া অঞ্চলে। তারপর শহর ও শহরতলির বিভিন্ন রেল স্টেশনে চলে উচ্ছেদ অভিযান। যাদবপুরে উচ্ছেদ অভিযান চালাতে গিয়ে স্থানীয়দের বিক্ষোভের মুখে পড়ে ফিরে আসতে হয় প্রশাসনকে। বুলডোজার কাজ করতে পারেনি। এদিকে নিউমার্কেট চত্বরেও হকাররা যাতে নিয়ন্ত্রণ রেখে বসেন, সেই অলিখিত নির্দেশ জারি হয়েছে বলে সেখানকার বিক্রেতারা জানাচ্ছেন। এই আবহে এবার কলকাতা বন্দরের জমি সংলগ্ন অঞ্চলে চলল উচ্ছেদ অভিযান। স্ট্র্যান্ড রোডের দু’ধারে আর্মেনিয়ান ঘাট থেকে ছোটেলাল ঘাট পর্যন্ত একাধিক ঝুপড়ি, খাবারের দোকান ছিল। ফুটপাতের একাংশ দখল করে চলত ব্যবসা, রান্নাবান্না। থাকা-খাওয়া থেকে ঘুমানো সব কিছুই সেখানে। একদিকে অফিসপাড়া, অন্যদিকে হাওড়া ব্রিজে যাওয়ার পথ— এমন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার দু’ধারে দৃশ্যদূষণ ভরপুর। কোথাও কোথাও বন্দরের জমিতে ঢোকার রাস্তাও দখল করে চলছিল বসবাস, হকারি। বুধবার সেখানে সব কিছু গুঁড়িয়ে দেয় বুলডোজার। চলে উচ্ছেদ অভিযান। হকারদের বক্তব্য, পুনর্বাসন ছাড়াই যখন তখন আমাদের উচ্ছেদ করা হচ্ছে। এই ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই মাথায় হাত পড়েছে শ্যামল সাঁতরা, সঞ্জু সাউ, যমুনাদেবীদের। তাঁদের কারও রয়েছে রুটি-সবজির দোকান, কেউ আবার ফুটপাতেই চালান পাইস হোটেল! রাতে সেখানেই থাকেন তাঁরা। এই অবস্থায় তাঁরা কোথায় যাবেন, এখন ভেবে কূল পাচ্ছেন না। এই প্রসঙ্গে কলকাতা পুরসভা জানাচ্ছে, উচ্ছেদের বিষয়ে শীর্ষস্তর থেকে নির্দেশ এলে তবেই পদক্ষেপ করা হচ্ছে। পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। পূর্ত কিংবা সেচদপ্তরের জমি থেকে উচ্ছেদ করা হলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আধিকারিকদেরও অভিযানের সময় পাশে রাখা হচ্ছে। নিজস্ব চিত্র