


প্রদীপ্ত দত্ত, ঝাড়গ্ৰাম: বুড়িশোল। জামবনী ব্লকের ছোট্ট গ্ৰাম। দেড়দশক আগে গ্ৰাম লাগোয়ো জঙ্গলে যৌথবাহিনীর হাতে মাও নেতা কিষাণজির মৃত্যু হয়েছিল। বোমা গুলির আতঙ্ক পেরিয়ে গ্ৰামে এখন উন্নয়নের ছোঁয়া। জঙ্গল লাগোয়া বুড়িশোল বেনাশুলি,আলমপুরের গ্ৰামে গ্ৰামে তৃণমূল প্রার্থী বীরবাহা হাঁসদা। প্রচারে বেরিয়ে শান্তি ও উন্নয়নের বার্তা দিচ্ছেন। জঙ্গলমহলের আদিবাসী জনজাতি মানুষ নরেরেন মেয়ের উপর নতুন করে আস্থা রাখছেন।
ছাব্বিশের ভোটে বিনপুর বিধানসভায় নতুন করে ফিরে আসছেন নরেন হাঁসদা। ঝাড়খন্ড ( নরেন) পার্টির তিনি প্রতিষ্ঠাতা। বাম নেতাদের অত্যাচার রুখুতে আদিবাসী,জনজাতি মানুষদের নিয়ে জন প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন। আদিবাসী মানুষদের অধিকার লড়াইয়ে ডাক দিয়েছিলেন।জামবনীর জঙ্গল লাগোয়া বুড়িশোল , কপাটকাটা , সরাকাটা আলমপুর , সানগ্ৰামের মানুষ সেই কথা আজও ভুলে যাননি। প্রচারে আসা তাদের প্রিয় নেতা নরেন হাঁসদার মেয়েকে দেখতে বেরিয়ে আসছেন। গ্ৰামের মানুষ বীরবাহাকে কাছে পেয়ে নিজেদের উচ্ছ্বাস লুকিয়ে রাখতে পারছেন। নব্বইয়ের দশক থেকে স্থানীয় বাম নেতাদের অত্যাচার বিরুদ্ধে বিনপুর ও জামবনী এলাকার আদিবাসী মানুষ সঙ্ঘবদ্ধ হতে শুরু করেন। জঙ্গলমহল এলাকায় দীর্ঘস্থায়ী এক রাজনৈতিক লড়াই শুরু হয়। পরবর্তীতে লড়াইয়ের রাশ ছিনিয়ে নিতে মাওবাদীরা অনেকটাই সফল হয়। আদিবাসী অধিকাররক্ষার লড়াইয়ের নামে শ্রেণী শত্রুর খতমের রাজনীতি আমদানি করা হয়। উল্টোদিকে গ্ৰামের ক্ষমতা ধরে রাখতে সিপিএমের হার্মাদ বাহিনীর খুনখুনির রাজনীতিও শুরু হয়। যে রাজনীতির বলী হতে হয় আদিবাসী ও জনজাতির মানুষদের । রাজ্যে তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় আসা র পর দীর্ঘ দু'শক পরে জঙ্গলমহলে আবার শান্তি ফিরে আসে। গ্ৰামে গ্ৰামে উন্নয়নের কর্মযজ্ঞ শুরু হয়। সরাকাটা গ্ৰামের বাসিন্দা ধীরেন মাহাত বলেন, গ্ৰামের দেওয়ালে বীরাবাহার নাম দেখে আনন্দে মন ভরে যাচ্ছে। পুরনো দিনের বহু কথা মনে পড়ে যাচ্ছে। নব্বইয়ের দশক থেকে সিপিএমের বিরুদ্ধে নরেন হাঁসদার নেতৃত্বে এলাকায় আমাদের লড়াই শুরু হয়ে গিয়েছিল। বুড়িশোলে সিপিএমের ঘাঁটি ছিল। কপাটকাটা, সরাকাটা ছিল ঝাড়খন্ড পার্টির দখলে। ২০০০ সালের পর থেকে মাওবাদীরা এইসব এলাকায় ঢুকতে শুরু করে। তারপরেই খুনের রাজনীতি শুরু হয়। নিরীহ মানুষ সেইসময় মারা গিয়েছে।তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় আসার পর গ্ৰামে গ্ৰামে শান্তি ফিরে আসে। নরেন হাঁসদা সত্যিকারের নেতা ছিলেন। তাঁর মেয়ে বীরবাহা অধিকার রক্ষায় আমাদের পাশে থাকবে বলে বিশ্বাস করি। অপর বাসিন্দা বছর ষাটের উমেশ মাহাত বলেন, বুড়িশোলের জঙ্গলে কিষাণজির মৃত্যুর পর নতুন এক অধ্যায় শুরু হয়। সিপিএমের হার্মাদ বাহিনীর এলাকা দখলের রাজনীতি, গুলি বোমা খুনোখুনির রাজনীতির পর্ব থামে। শান্তি ও উন্নয়নের পর্ব শুরু হয়। জঙ্গলমলের মানুষের অধিকার রক্ষার লড়াই য়ে নরেন হাঁসদা সীমিত শক্তি দিয়ে অনেক লড়াই করেছিলেন। তাঁর পাশেও ছিলাম। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জঙ্গলমলের মানুষের জন্য অনেক কাজ করেছেন। সেকথাও অস্বীকার করার জায়গা নেই। বীরবাহাকে প্রচারে দেখে বাপ কা বেটি বলেই মনে হচ্ছে। বীরবাহা হাঁসদা বলেন, এত বছর পরেও এই এলাকার মানুষ বাবাকে মনে রেখেছেন। আমি তার জন্য কৃতজ্ঞ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমাকে জঙ্গলমলের মানুষের জন্য কাজ করার সুযোগ দিয়েছেন। আমার লক্ষ্যই আগামীদিনে এলাকায় শান্তি বজায় রাখা ও উন্নয়নের কর্মযজ্ঞ চালিয়ে যাওয়া। বিনপুরে প্রচারে তৃণমূল প্রার্থী বীরবাহা হাঁসদা।-নিজস্ব চিত্র