


সংবাদদাতা, সিউড়ি: সিউড়ির তিলপাড়া সতীঘাটা ও বক্রেশ্বর মহাশ্মশানে বৈদ্যুতিন চুল্লির দাবি সাধারণ মানুষের। প্রতি মাসেই শতাধিক মৃতদেহের সৎকার হয় এই শ্মশান দু’টিতে। কাঠের চুল্লিতে দাহের পর অবশিষ্টাংশ সহ অন্যান্য বর্জ্য পদার্থ ফেলা হয় যথাক্রমে ময়ূরাক্ষী ও বক্রেশ্বর নদীতে। তাই দুই নদীতেই ব্যাপক দূষণ হচ্ছে বলে মানুষের অভিযোগ।
উল্লেখ্য, জেলার দুবরাজপুর ব্লকের গোয়ালিয়ারা গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত বক্রেশ্বর পীঠস্থান। সেখানে বক্রেশ্বর নদীর ধারে মহাশ্মশান। সেই শ্মশানে দাহ করার নির্দিষ্ট জায়গা থাকলেও সাধারণ মানুষ বক্রেশ্বর নদীর গর্ভেই মৃতদেহ দাহ করেন দীর্ঘদিন ধরে। এর ফলে দিনের পর দিন বক্রেশ্বর নদীতে বাড়ছে দূষণ। তাই জেলা পরিষদের উদ্যোগে বক্রেশ্বর নদীর ধারে বক্রেশ্বর মহাশ্মশানে দুটি বার্নিং শেড অর্থাৎ ছাদ ঢাকা চুল্লি তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই দু’টি চুল্লি করতে প্রায় ১৮ লক্ষ টাকা বরাদ্দ হয়েছে। কিন্তু সাধারণ মানুষের দাবি, এই মহাশ্মশানে বৈদ্যুতিন চুল্লি বসানো খুবই দরকার। জানা গিয়েছে, এখানে বৈদ্যুতিন চুল্লি বসাতে সাংসদ শতাব্দী রায় একবার উদ্যোগ নিলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি।
অন্যদিকে একই ভাবে বীরভূমের জেলা সদর সিউড়ি তিলপাড়ার সতীঘাটা শ্মশানে মৃতদেহ দাহ করার জন্য চার-পাঁচটি ছাদ যুক্ত কংক্রিটের চুল্লি রয়েছে। সেখানে কাঠ জ্বালিয়ে মৃতদেহ সৎকার করা হয়। তবে মানুষের অভিযোগ, কাঠের চুল্লিতে সৎকার হলে পরিবেশ দূষণ হয়। তাই সেখানেও একটি বৈদ্যুতিন চুল্লি বসানোর দাবি মানুষের।
সিউড়ি শহরের বাসিন্দা বসন্ত দাস বৈষ্ণব, সুধাকর বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, সিউড়ি তিলপাড়ার এই সতীঘাটা শ্মশানটি বহু পুরনো। শ্মশানের সার্বিক উন্নয়ন হয়েছে। তবে এখন অনেক কাজ বাকি রয়েছে। সেখানে একটি বৈদ্যুতিন চুল্লির পাশাপাশি শ্মশান চত্বরে আরও আলো লাগানোরও দরকার। তাছাড়া সন্ধ্যার পর শ্মশান চত্বরে নেশারুদের আড্ডা বসে। তারাই আলোগুলি ভেঙে ফেলে। সেদিকেও নজর রাখা দরকার পুলিসের।