


নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: ভূস্বর্গ দেখার ইচ্ছে ছিল বহুদিনের। কিন্তু সেই স্বর্গরাজ্যে গিয়ে যে এত ভয়াবহ অভিজ্ঞতা হবে, তা ভাবতেই পারেননি মেদিনীপুর ও খড়্গপুরের বেশ কয়েকজন বাসিন্দা। এখান থেকে যাওয়া প্রায় ১০০জন পর্যটক কাশ্মীরে আটকে পড়েছেন। কেউ রয়েছেন শ্রীনগরের হোটেলে আবার কেউ পহেলগাঁওয়ে হোটেলবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। তাঁদের জন্য দুশ্চিন্তায় পড়েছেন পরিবারের সদস্যরা। আটকে থাকা পর্যটকদের সঙ্গে সেভাবে যোগাযোগ করাও সম্ভব হচ্ছে না। পর্যটকরা জানাচ্ছেন, সেনাবাহিনী এলাকা ঘিরে ফেলেছে। সমস্ত হোটেলেই পর্যটকরা আটকে রয়েছেন। সার্চ অপরেশন চালাচ্ছে সেনাবাহিনী। তবে সেখানকার স্থানীয় বাসিন্দারা সহযোগিতা করছেন। খাবার পেতে খুব একটা অসুবিধা হচ্ছে না। সেনা জওয়ানরাও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন। জেলাশাসক খুরশিদ আলি কাদরি বলেন, প্রশাসনিক স্তরে কোনও খবর আসেনি। তবে প্রশাসন সবরকম সহযোগিতা করবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১১ এপ্রিল মেদিনীপুর শহর থেকে একটি বাস কাশ্মীরের উদ্দেশে রওনা দেয়। বাসে মোট ৬৫জন পর্যটক ছিলেন। ৩০ এপ্রিল তাঁদের মেদিনীপুরে ফিরে আসার কথা ছিল। জানা গিয়েছে, পর্যটকদের দল ১৫ এপ্রিল শ্রীনগরে পৌঁছয়। সেখান থেকে শোনমার্গ, গুলমার্গ হয়ে পহেলগাঁওয়ে পৌঁছয়। মঙ্গলবার বাসটি পহেলগাঁও ঘুরে শ্রীনগরে চলে আসে। কিন্তু পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি আক্রমণের ঘটনার পরই তাঁদের বাস আটকে দেয় সেনাবাহিনী। বর্তমানে শ্রীনগরে একটি হোটেলেই কার্যত বন্দি রয়েছেন পর্যটকরা। মেদিনীপুর শহরের তালপুকুর এলাকার বাসিন্দা শেখ নিজামুদ্দিন কাশ্মীর থেকে ফোনে বলেন, একটি হোটেলে রয়েছি। চারপাশ সেনাবাহিনী ঘিরে রেখেছে। বাড়ির সদস্যরা খুবই দুশ্চিন্তায় আছেন। জানি না কবে বেরতে পারব। তবে স্থানীয় বাসিন্দারা খুবই সহযোগিতা করছেন। নিরাপদেই আছি।
গত ১৪ এপ্রিল খড়্গপুর শহর থেকে ৩৫জনের একটি দল কাশ্মীরের উদ্দেশে রওনা দেয়। তাঁরা প্রথমে অমৃতসর যান। সেখান থেকে জম্মু। পরে তাঁরা শ্রীনগর পৌঁছন। মঙ্গলবার তাঁরা শ্রীনগর থেকে দু’টি গাড়ি ভাড়া করে পহেলগাঁওয়ে যান। তবে তাঁরা পৌঁছনোর কিছুক্ষণ আগেই জঙ্গিদের গুলিবর্ষণ হয়। তাঁরা বর্তমানে পহেলগাঁওয়ে একটি হোটেলে রয়েছেন। খড়্গপুর শহরের বাসিন্দা সরোজকুমার মাসান্ত ৩৫জনের দলে রয়েছেন। তিনি বলেন, মঙ্গলবার বিকেলে ঠিক যে জায়গায় জঙ্গিরা নৃশংস হত্যালীলা চালিয়েছে, সেখান থেকে মাত্র তিন-চার কিলোমিটার দূরে আমাদের হোটেল। পহেলগাঁওয়ে নামার সঙ্গে সঙ্গে লক্ষ্য করি দোকানপাট বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। সকলে ছুটে বেড়াচ্ছেন। তাড়াতাড়ি হোটেলের কর্মীরা আমাদের ভিতরে ঢুকিয়ে নেন। কিছু বুঝে উঠতেই পারছিলাম না কী হচ্ছে। পরে বিষয়টি জানতে পারি। এখন নিরাপদেই আছি। বন্ধুরা একসঙ্গে এসেছি। মাথার উপর দিয়ে মাঝেমধ্যেই হেলিকপ্টার যাচ্ছে। বাড়ির সদস্যদের সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছে। এক ঘণ্টা আগে পৌঁছলে আমরা ওখানেই থাকতাম। ঈশ্বরের কৃপায় প্রাণে রক্ষা পেয়েছি। উদ্বিগ্ন পরিবার।-নিজস্ব চিত্র