


নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: হাওড়া স্টেশনের সাবওয়ের সামনে থেকে এক ব্যবসায়ীকে জোর করে বাইকে তুলে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে। সেখান থেকে লিলুয়ার ঝিল রোডে একটি বহুতলের ফ্ল্যাটে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে। সেখানে আটকে রেখে মোটা টাকা ‘মুক্তিপণ’ আদায়ের চেষ্টা করে তারা। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ ও মোবাইলের সূত্র ধরে ওই ফ্ল্যাটে হানা দিয়ে ‘অপহৃত’ ব্যবসায়ীকে উদ্ধার করেছে গোলাবাড়ি ও লিলুয়া থানার পুলিশ। এই ঘটনায় সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতদের কাছ থেকে সাতটি আগ্নেয়াস্ত্র, ৫০ রাউন্ড কার্তুজ, ন’টি মোবাইল ফোন এবং একটি ট্যাব উদ্ধার হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত বুধবার হাওড়া বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন সাবওয়ের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন বছর পঞ্চাশের ব্যবসায়ী প্যায়ারেলাল পাসি। সেই সময় বাইক ও স্কুটারে করে কয়েকজন দুষ্কৃতী সেখানে আসে। তাঁকে জোর করে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর লিলুয়ার ঝিল রোডের একটি ফ্ল্যাটে তাঁকে ‘বন্দি’ করে রাখা হয় বলে অভিযোগ। এদিকে, রাতে পরিবারের সদস্যরা বারবার ফোন করেও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পারায় সন্দেহ বাড়ে। বৃহস্পতিবার সকালে গোলাবাড়ি থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। তার ভিত্তিতে তদন্তে নামে পুলিশ। হাওড়া স্টেশন ও বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকার একাধিক সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখে অপহরণকারীদের গতিবিধি চিহ্নিত করা হয়। পাশাপাশি মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে রাতে লিলুয়ার নির্দিষ্ট এলাকায় পৌঁছান তদন্তকারীরা। এরপর গোলাবাড়ি ও লিলুয়া থানার পুলিশ যৌথভাবে ঝিল রোডের ওই বহুতলে অভিযান চালায়। সেখান থেকেই প্যায়ারেলালকে উদ্ধার করা হয় এবং সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতদের নাম রাহুল মল্লিক, ঋষভ সাউ, সুজয় সাহা, সিরাজ খান, সুরজ মল্লিক, মাহফুজ আলম ও রাজু কর্মকার। ধৃতরা গোলাবাড়ি ও লিলুয়া এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে। পুলিশ সূত্রের দাবি, রাহুল একটি খুনের মামলায় দীর্ঘদিন জেল খেটে সম্প্রতি বেরিয়েছে। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, প্যায়ারেলালের সঙ্গে অভিযুক্তদের আগে থেকেই পরিচয় ছিল। মোটা টাকা আদায়ের উদ্দেশ্যেই সম্ভবত তাঁকে অপহরণ করা হয়েছিল। তবে এর পিছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। নিজস্ব চিত্র