


নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর ও কলকাতা: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনসন্মোহনী ক্ষমতায় যে চিড় ধরানো যায়নি, প্রমাণ দিল নদীয়ার কালীগঞ্জ। লাগাতার অপপ্রচার, ধর্মীয় মেরুকরণের জন্য গেরুয়া শিবিরের শত চেষ্টা সত্ত্বেও, মার্জিন বাড়িয়ে কালীগঞ্জ বিধানসভা উপ নির্বাচনে আসন দখলে রাখল তৃণমূল। প্রয়াত বিধায়ক নাসিরুদ্দিন আহমেদের জয়ের ব্যবধানকে ছাপিয়ে গেলেন তাঁর কন্যা আলিফা আহমেদ। এবারের বিজেপি প্রার্থী আশিস ঘোষ গত বিধানসভা নির্বাচনে নাসিরুদ্দিন সাহেবের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন। সেবার নাসিরুদ্দিন সাহেব জিতেছিলেন ৪৫ হাজার ৯৮৭ ভোটে। এবার উপ নির্বাচনে তাঁর কন্যা আলিফার জয়ের ব্যবধান ৫০ হাজার ৪৯। ফলাফলে উচ্ছ্বসিত তৃণমূল সুপ্রিমো নিজেও। কালীগঞ্জের সঙ্গেই দেশের আরও তিন রাজ্য গুজরাত, কেরল ও হরিয়ানার চারটি বিধানসভা কেন্দ্রের উপ নির্বাচনের ভোটগণনাও এদিন সম্পন্ন হয়েছে। দেশের এই পাঁচটি কেন্দ্রের মধ্যে চারটিই দখল করেছে বিরোধীরা। অর্থাৎ, গোটা দেশে বিরোধীরা ৪, বিজেপি ১।
২৪’এর লোকসভা ভোটের তুলনায় কালীগঞ্জে ৮ হাজার ৭৪১ ভোট বেড়েছে তৃণমূল শিবিরের। প্রদত্ত ভোটের ৫৫.১৫ শতাংশ। ২৬’এর বিধানসভা নির্বাচনে বাংলা দখলের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে বিজেপি। সেই নিরিখে কালীগঞ্জ ছিল তাদের অ্যাসিড টেস্ট। সোমবার ২৩ রাউন্ড গণনা শেষে দেখা গেল, গত লোকসভা নির্বাচনের তুলনায় বিজেপির ভোট কমেছে ১০ হাজার ৫৩৫। এমনকী ২০২১’এর বিধানসভার তুলনায় পদ্মপার্টির ভোট কমেছে ২.৬২ শতাংশ। কালীগঞ্জে অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে ছিলেন বামফ্রন্ট সমর্থিত কংগ্রেস প্রার্থীও। ১৫.২১ শতাংশ ভোট পেলেও, জামানত গিয়েছে কংগ্রেস-বামের। তবে তৃণমূলের এহেন জয়ের পর্বে ‘কাঁটা’ হয়ে রইল কালীগঞ্জের মেলেন্দি এলাকায় বোমার আঘাতে এক নাবালিকার মৃত্যুর ঘটনা। অভিযোগ উঠেছে, তৃণমূলের বিজয় মিছিল থেকে ছোড়া বোমার আঘাতে মৃত্যু হয়েছে ওই নাবালিকার। ঘটনার প্রতিবাদে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানানোর পাশাপাশি জড়িতদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিসকে ‘ফ্রিহ্যান্ড’ও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার হয়েছে চারজন।
ভোট বিশ্লেষকরা বলছেন, কালীগঞ্জের উপ নির্বাচনে বড়সড় ধাক্কা খেয়েছে ‘হিন্দু-হিন্দু ভাই ভাই’ তত্ত্বের প্রবক্তারা। পরিসংখ্যান বলছে, যে ভোটব্যাঙ্কের ভরসায় পদ্মপার্টি বাংলার মসনদ দখলের স্বপ্ন ফের দেখতে শুরু করেছে, ধস নেমেছে তাতেই। উচ্ছ্বসিত মমতা এক্স হ্যান্ডলে লিখেছেন, সর্বস্তরের মানুষ ভোটাধিকার প্রয়োগ করে আশীর্বাদ করেছেন। নতমস্তকে তাঁদের কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। প্রয়াত নাসিরুদ্দিন আহমেদকে স্মরণ করে এই জয় বাংলার মা-মাটি-মানুষকে উৎসর্গ করছি।