


নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: ভুয়ো কল সেন্টার চালানোর অভিযোগে মধ্যমগ্রামে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ২৫ জনকে। তদন্তে জানা গিয়েছে, সহজ শর্তে মোটা অঙ্কের ঋণ দেওয়ার টোপ দেওয়া হত। সিকিউরিটি ডিপোজিট, বিমা কিংবা প্রসেসিং ফির নামে টাকা চাওয়া হত। মধ্যমগ্রামের দোলতলার ভুয়ো কল সেন্টার থেকে শুধু রাজ্য নয়, দেশজুড়ে প্রতারণার জাল ছড়ানো হয়েছিল। মূল মাথার খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ। অভিযোগ, র্যান্ডম সিরিজের নম্বরে একের পর এক ফোন করতেন মহিলা কর্মীরা। লোনের প্রলোভন দেখিয়ে গ্রাহকদের কথায় ফাঁসানো হত। কেউ আগ্রহ দেখালেই শুরু হত পরের ধাপ। টাকা দেওয়ার পর লোন না মেলায় প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পারতেন অনেকে। তদন্তকারীদের দাবি, চক্রের জাল শুধু বাংলায় সীমাবদ্ধ নয়, দেশের বিভিন্ন রাজ্যের গ্রাহকদের তথ্য জোগাড় করে তাঁদের ফোন করা হত। ফলে এর পিছনে আরও বড়a কোনো নেটওয়ার্ক রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া ১৮ জন মহিলা এবং সাতজন পুরুষকে মঙ্গলবার বারাসত আদালতে তোলা হয়। তাতে সেন্টারের ম্যানেজার অমিত মণ্ডল সহ চারজনকে চারদিনের পুলিশি হেপাজতের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। অমিত ছাড়াও বিশ্বজিৎ দাস, পাপাই নস্কর এবং কামাল হোসেনকে জেরা করছেন তদন্তকারীরা। বাকি ২১ জনকে ১৪ দিনের জেল হেপাজত হয়েছে। তাদের জেরা করে চক্রের মূল মাথা, টাকা লেনদেনের পথ এবং কোন কোন এলাকায় জাল ছড়িয়েছিল তার খোঁজ চলছে। বারাসত পুলিশ জেলার সুপার জে মার্সি বলেন, চারজনকে হেপাজতে নেওয়া হয়েছে। প্রতারণার টাকার পরিমাণ কত, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, সোমবার রাতে মধ্যমগ্রামের দোলতলার একটি ভুয়ো কল সেন্টারে হানা দেয় মধ্যমগ্রাম থানার পুলিশ ও সাইবার সেল। উদ্ধার হয় ১৯টি মোবাইল, একাধিক সিমকার্ড, চারটি এটিএম কার্ড, প্রায় ৩০ হাজার টাকা, ডায়েরি-সহ বিভিন্ন সামগ্রী। গ্রেপ্তার করা হয় ২৫ জনকে।