


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: জন্ম-মৃত্যুর ভুয়ো শংসাপত্র চিহ্নিত করতে বড়সড় অভিযানে নামল রাজ্য ও কলকাতা পুলিশ। বৃহস্পতিবার থেকে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে শুরু হয়েছে এই অভিযান। বিধানসভা নির্বাচনের আগে এসআইআর পর্বে ভারতীয় নাগরিক প্রমাণের তাগিদে পেশ করা জন্ম-মৃত্যুর সার্টিফিকেট পরীক্ষা করে ‘ভুয়ো’ বিষয়টি সামনে এসেছিল। অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশি এবং মায়ানমারের রোহিঙ্গারা ভারতীয় সাজতে দালালচক্রের মাধ্যমে জন্ম-মৃত্যুর শংসাপত্র জোগাড় করছে, এমন সতর্কবার্তা এসেছিল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের তরফে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী মালদহ, মুর্শিদাবাদ সহ চার জেলায় ভুয়ো শংসাপত্র তৈরির ওই চক্র সবচেয়ে সক্রিয়। রাজ্যে পালাবদলের পর নতুন সরকার জন্ম-মৃত্যুর ভুয়ো শংসাপত্র ও দালালচক্রের সন্ধানে তৎপরতা বাড়িয়েছে। এই আবর্তে ডিরেক্টর অব হেলথ সার্ভিসেসের তরফে চিফ রেজিস্টার অব বার্থস অ্যান্ড ডেথস এদিন রাজ্য পুলিশের ডিজিকে চিঠি লিখে জন্ম-মৃত্যুর নিবন্ধীকরণ সংক্রান্ত গোটা রাজ্যের সমস্ত নথিপত্র ‘সেফ কাস্টডি’তে নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন। এর আগে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বুধবারই রাজ্য পুলিশের ডিজির তরফে চিফ রেজিস্টার অব বার্থস অ্যান্ড ডেথসকে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের ভুয়ো জন্ম শংসাপত্র সংক্রান্ত ইনপুট দেওয়া হয়েছিল। এরপরই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের পুরসভা এবং পঞ্চায়েতে হানা দিয়ে যাবতীয় নথিপত্র খতিয়ে দেখা এবং প্রয়োজনে হেপাজতে নেওয়ার কাজ শুরু করেছে পুলিশ। প্রসঙ্গত, রাজ্যে এখন ৩৩৩৯ টি গ্রাম পঞ্চায়েত, ১২৮টি পুরসভা এবং ৬টি নোটিফায়েড এরিয়া অথরিটি রয়েছে। এই সমস্ত প্রতিষ্ঠানের একটা বড় অংশে জন্ম শংসাপত্র নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ সামনে এসেছে। এদিন হুগলির গুপ্তিপাড়ায় উল্টোরথের কর্মসূচিতে অংশ নিতে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে সাংবাদিকদের বলেন, এসআইআর পর্বে জন্ম-মৃত্যুর ভুয়ো শংসাপত্রের হদিশ মিলেছে। এর বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে জন্ম-মৃত্যু ভুয়ো শংসাপত্র কাণ্ডে পুলিশের নজরে মমতা আমলের একাধিক তৃণমূল বিধায়ক, পুর কাউন্সিলার ও পঞ্চায়েত সদস্যরা। এমনকি শংসাপত্র ইস্যু করা একাধিক চিকিৎসক এবং পুরসভা-পঞ্চায়েতের বার্থ রেজিস্টারের দায়িত্বে থাকা আধিকারিককে তদন্তের আওতায় রাখা হয়েছে বলে রাজ্য পুলিশ সূত্রে খবর। বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের বেআইনিভাবে নথি তৈরিতে তাঁরা সাহায্য করেছেন বলে পুলিশের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। রীতিমতো চক্র গড়ে এই জাল নথি তৈরির কাজ চলছিল পূর্বতন সরকারের আমলে। এসআইআর পর্বে এই সমস্ত ভুয়ো নথি জমা দিয়ে ভারতীয় নাগরিক সাজার চেষ্টা করেছে অনুপ্রবেশকারীরা।