


নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: বহরমপুরে অলিতে গলিতে সাদা চুনকাম করা দেওয়ালে ফুটে উঠেছে বড় বড় হাত চিহ্নের ছবি। প্রার্থী নামের জায়গা ফাঁকা। অত্যন্ত উৎসাহের সঙ্গে একের পর এক দেওয়ালে দলীয় প্রতীক এঁকেছেন কংগ্রেস কর্মীরা। প্রস্তুতি চলছিল বেশ কিছুদিন ধরেই। শুধু ঘোষণার অপেক্ষা। কিন্তু ঘোষণা পর্যন্ত তর সইছে না কংগ্রেস কর্মীদের। বারবার জেলার কংগ্রেস কর্মীদের মুখে একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে—অধীর চৌধুরী দাঁড়াচ্ছেন তো। অবশেষে বৃহস্পতিবার নিশ্চিত জানা গেল যে, এবার বহরমপুর আসনে কংগ্রেসের প্রার্থী হয়ে লড়ছেন অধীরবাবু। ২৫ বছরের সাংসদ এবার বিধানসভা নির্বাচনে হাত চিহ্নে লড়াই করবেন। আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না হলেও, কয়েকদিনের মধ্যেই এআইসিসি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে বনেই কংগ্রেস সূত্রে খবর।
এদিন সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে অধীর চৌধুরী জানালেন, তিনি প্রার্থী হচ্ছেন। পার্টি চাইছে তাই প্রার্থী হতে তিনি রাজি বলে জানান অধীর। বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজার পরই সিপিএম, বিজেপি ও তৃণমূল নিজেদের প্রার্থী ঘোষণা করে দিয়েছে। বাকি শুধু কংগ্রেস। ইদের পর আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রার্থিতালিকা ঘোষণা হবে। নানা জল্পনার অবসান ঘটিয়ে ফের রাজ্যে সক্রিয় রাজনীতিতে ফিরছেন অধীর চৌধুরী। হাই কমান্ডের নির্দেশে আগামী বিধানসভা নির্বাচনে বহরমপুর কেন্দ্র থেকেই দলের প্রার্থী হতে চলেছেন তিনি। লোকসভা নির্বাচনে সামান্য ব্যবধানে হারের পর অধীরের এই প্রত্যাবর্তন রাজ্য রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
এদিন অধীরবাবু বলেন, পার্টি বলছে ভোটে দাঁড়াতে। পার্টির আমি একজন সৈনিক। আমার বাড়ি বহরমপুরে, বহরমপুর কেন্দ্রের সাংসদ নির্বাচনে লড়েছি। বহরমপুর বিধানসভাও এই কেন্দ্রের মধ্যে পড়ে। আমি তো বাইরের কেউ নই, এখানকারই ছেলে। এখন এই বিধানসভা ভোটে দাঁড়াতে খটকা একটা লাগবেই। কারণ এতদিন লোকসভায় রাজনীতি করেছি। হঠাৎ করে এমএলএ ভোট করতে একটু অসুবিধা হবে। এখন পার্টি চাইছে! আর আমি পার্টি ম্যান। পার্টি যা বলবে সেই নির্দেশ মানতে হবে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বহরমপুর কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থীর ইউসুফ পাঠানের কাছে হারেন দীর্ঘদিনের সাংসদ। এবার সেই বিধানসভা কেন্দ্র থেকেই অধীর চৌধুরীকে প্রার্থী করতে চলেছে কংগ্রেস।
এর আগে প্রথমবার অধীরবাবু ১৯৯১ সালে বিধানসভা নির্বাচনে নবগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। সেবার তিনি হেরে যান। ১৯৯৬ সালে একই আসন থেকে বড় জয় পেয়েছিলেন অধীর চৌধুরী। তারপর ১৯৯৯ সাল থেকে টানা ২৫ বছর সাংসদ নির্বাচনে দাঁড়িয়ে জয়ী হয়েছেন তিনি। এবার সংসদীয় রাজনীতি থেকে সরাসরি পরিষদীয় রাজনীতিতে প্রত্যাবর্তন অধীরবাবুর।
এদিন তিনি আরও বলেন,বহরমপুরের সাধারণ মানুষ যদি আমাকে চায় প্রার্থী হিসেবে, তাহলে এর থেকে ভালো কিছু হতে পারে না। আমি নিজেকে ভাগ্যবান বলে মনে করি। দীর্ঘদিন রাজনীতি করে এভাবে মানুষের দাবিতে প্রার্থী হতে পারা, আমার রাজনীতিতে নোবেল পাওয়ার মতো সম্মান বলে মনে করি। আমার মনে হচ্ছে মালদহ, মুর্শিদাবাদ এবং উত্তর দিনাজপুর তিনটে জেলাতেই কংগ্রেসের ভালো রেজাল্ট হওয়া উচিত।
বহরমপুর-মুর্শিদাবাদ সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের সভাপতি অপূর্ব সরকার (ডেভিড) বলেন, কংগ্রেস দলের কে প্রার্থী হবে সেটা কংগ্রেস ঠিক করবে। আমরা মানুষের সঙ্গে সারাবছর থাকি। তাই মানুষ আমাদের ভরসা করেন। এর আগে তো লোকসভায় হেরেছেন। এবারও হারবেন।