


সৌম্যজিৎ সাহা, ক্যানিং: দীর্ঘদিনের দাবি কি এবার সত্যি হবে? ভোটের মুখে আশায় বুক বাঁধতে শুরু করেছেন সাধারণ মানুষ। ক্যানিংয়ের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি, তাঁদের শহরকে পুরসভা করতে হবে। ভোট প্রচারে তৃণমূল এবং বিজেপি, উভয় দলের প্রার্থীই এই আশ্বাস দিচ্ছেন। কিন্তু শুক্রবার তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘোষণা বাড়তি আশার আলো দেখাচ্ছে ক্যানিংবাসীকে। তিনি যেভাবে এই কথা রাখার জোরালো দাবি করলেন, তাতে তীব্র গরম উপেক্ষা করে সভায় আসা হাজার হাজার কর্মী-সমর্থক আশ্বস্ত এবং উল্লসিত। কারণ, ক্যানিং পুরসভা গঠিত হলে ভোল বদলে যাবে সুন্দরবনের প্রবেশদ্বারের!
এদিন ক্যানিং পশ্চিমের তৃণমূল প্রার্থী পরেশরাম দাসের সমর্থনে ক্যানিং স্টেডিয়ামে আয়োজিত সভায় অভিষেক বলেন, ‘আমি জানি, আপনাদের বহুদিনের দাবি ক্যানিং পুরসভা। এবারে জিতে এলে এই ব্যাপারে ছ’মাসের মধ্যে যা করার করব।’ ভোটের আগে এহেন আশ্বাস তৃণমূলের মাস্টারস্ট্রোক বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহল।
সভায় পরেশবাবুর ভূয়সী প্রশংসা করেন অভিষেক। বলেন, ‘সারা বছর মানুষের আপদেবিপদে থাকেন এখানকার বিধায়ক। আমার এখানে সভা না করলেও হত। কাজের নিরিখেই মানুষ ওঁকে ভোট দেবেন।’ ক্যানিংয়ের উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরেন তৃণমূলের সেনাপতি। বলেন, ‘গত দু’বছরে এই বিধানসভায় ৩২ হাজার গরিব মানুষকে পাকা বাড়ি তৈরির জন্য টাকা দেওয়া হয়েছে। খাদ্যসাথী প্রকল্পে ৩ লক্ষ মানুষ বিনামূল্যে রেশন পাচ্ছেন। ৮৫ হাজার মহিলা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাচ্ছেন। এই বিধানসভার মধ্যে ৮০ কোটি টাকা খরচ করে ১৮৭টি রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে।’ উন্নয়ন নিয়ে তিনি প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন। অভিষেকের কথায়, ‘আগামী পাঁচ বছরে ক্যানিংয়ে এমন একটি পরিবারও পাওয়া যাবে না, যেখানে মানুষের মাথায় ছাদ থাকবে না। কেন্দ্র টাকা দিকা না দিলেও রাজ্য সরকার নিজের টাকাতেই প্রত্যেকটি মানুষের বাংলার বাড়ি প্রকল্পে ঘর তৈরি করে দেবে। পাঁচ বছরের মধ্যে সমস্ত বয়স্ক মানুষকে বার্ধক্য ভাতা দেওয়া হবে।’ এবারের ভোটে ক্যানিং পশ্চিমের প্রার্থীর জয়ের ব্যবধানও ঠিক করে দেন অভিষেক। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘৫০ হাজারের বেশি ভোটে জেতাতে হবে এখানকার প্রার্থীকে। তবে যদি পরেশ হেরে যান, তাহলে ক্যানিংয়ের টাকা চলে যাবে গুজরাত, মধ্যপ্রদেশ সহ বিজেপি শাসিত রাজ্যে। তাই এমনভাবে ভোট দিতে হবে, যাতে আগামী দিনে ক্যানিংয়ে বিজেপির হয়ে পতাকা লাগানোর লোক না থাকে। গণনার পর এই কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থীকে অণুবীক্ষণ যন্ত্র দিয়েও দেখা যাবে না।’
এদিকে, এদিন ডায়মন্ডহারবারের রোড শো’র পর বক্তব্য রাখতে গিয়েও একাধিকবার ক্যানিং পশ্চিম কেন্দ্রের উঠে এসেছে। বলেন, ‘ঠিক যেমন নিকট আত্মীয়ের সঙ্গে দেখা করার জন্য উৎসুক হয়ে থাকে মানুষ, এখানে আসার জন্য এবং মানুষের সঙ্গে দেখা করার জন্য আমিও সেভাবে অপেক্ষা করে থাকি।’ এছাড়া ডায়মন্ডহারবারের তৃণমূল প্রার্থী পান্নালাল হালদারের জয়ের ব্যবধান বৃদ্ধির আবেদন জানান সাংসদ। নিজস্ব চিত্র