


সংবাদদাতা, কাটোয়া: ভোট আসতেই সোশ্যাল মিডিয়ার পাশাপাশি কাটোয়া শহরের দেওয়ালে ভরে উঠছে নানা কার্টুন চিত্র। এমনকী, সহজপাঠের প্রচলিত ছড়ার অনুকরণেও ছড়া লিখে বিজেপিকে কটাক্ষ করা হয়েছে। আবার পাশাপাশি রাজ্য সরকারি প্রকল্প নিয়েও কার্টুন আঁকা হয়েছে। যত কার্টুন হচ্ছে ততই মুখে হাসি ফুটছে শিল্পীদের।
নব্বই এর দশকে হ্যারিকেনের আলোয় পাড়ায় পাড়ায় দেওয়াল লিখন, কার্টুন ব্যাঙ্গচিত্রে রাজনৈতিক আঙিনা সরগরম হয়ে যেত। কবিগানের মাধ্যমেও আগে ভোটের মরশুমে একে অপরকে বিঁধতে ছাড়ত না। সোশ্যাল মিডিয়ার দাপটে কার্টুন, ব্যাঙ্গচিত্র প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছিল। এখন সেসব আবার ফিরে আসছে। কাটোয়া জুড়ে এবার শাসকদলের তরফে হরেক কার্টুন আঁকা হয়েছে। পাশাপাশি বিরোধীরাও দেওয়াল জুড়ে বিঁধতে ছাড়েনি শাসকদলকে। যুযুধান দু’পক্ষের কার্টুনে রয়েছে সহজপাঠের সেই বিখ্যাত ছড়া ‘কুমোর পাড়ায় গরুর গাড়ি, বোঝাই করা কলসি হাঁড়ি’ থেকে শুরু করে এসআইআর, রোহিঙ্গা ইস্যু। তৃণমূলের দেওয়াল লিখনে যেমন জ্বলজ্বল করছে, ‘কোথায় তোমার রোহিঙ্গা, কোথায় বাংলাদেশি, এসআইআর অত্যাচারে মরছে বঙ্গবাসী।’ আবার কোথাও ‘ফাঁকা মাঠে ডাক ওঠে ঋ’, আসন্ন ভোটে বিজেপির ফল হবে বিশ্রী’। পূর্ব বর্ধমান জেলা তৃণমূল সাধারণ সম্পাদক বিশ্বনাথ সাহা বলেন, ব্যাঙ্গচিত্র ভোট ময়দানে প্রাসঙ্গিক। তবে আমরা কাউকে ছোটো করতে এসব লিখছি না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে সব প্রকল্প বাংলার মানুষকে উপহার দিয়েছেন, আমরা দেওয়ালে প্রচারে সেসব কথাই সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরতে চেয়েছি। যদিও পালটা বিজেপির রাজ্য কমিটির নেতা কৃষ্ণ ঘোষ বলেন, তৃণমূল মানুষকে ব্যাঙ্গ করতেই ভালোবাসে। তাই তাঁরা এসব করে দেওয়াল লিখছে। ওরা এবার বুঝে গিয়েছে নিশ্চিত পরাজয় ঘটবে, তাই এসব করছে। তবে আমরা মোদিজীর নানা জনমুখী প্রকল্পের কথা কার্টুনে বেশি তুলে ধরছি। কাটোয়ার চিত্রশিল্পী অমরেশ দে-র কথায়, এখন ব্যস্ততা তো থাকবেই। সারাদিনে রাতে কমপক্ষে চল্লিশটা করে দেওয়াল লিখতে হচ্ছে। তার মধ্যে আবার কার্টুনও আঁকতে হচ্ছে। চিত্রশিল্পীরা অন্ধকার কুঠুরি থেকে বেরিয়ে জীবিকার তাগিদে দেওয়াল লেখার প্রতিযোগীতা শুরু করে দিয়েছেন।