


সন্দীপন দত্ত, মালদহ: বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণের মধ্যে পয়লা বৈশাখ অন্যতম। পয়লা বৈশাখ মানেই সকালে একটু তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে ওঠা। সকাল সকাল স্নান সেরেই নতুন জামাকাপড় পরা। এরপর পুজো দিয়ে ঘুরতে বেরনো এবং দুপুরে মহারাজকীয় ভুরিভোজ। পয়লা বৈশাখের খাওয়া দাওয়া মানেই খাঁটি বাঙালিয়ানা। ভোজনরসিক বাঙালির কাছে বাঙালি খাবারই পয়লা বৈশাখের অন্যতম আকর্ষণ।
পয়লা বৈশাখে ঘরে ঘরে পঞ্চব্যঞ্জন রান্নার রীতি রয়েছে। আর সেইমতো বাঙালি খাবারের আয়োজন করে বিভিন্ন হোটেল, রেস্তরাঁ। ইংলিশবাজার শহরের কেজে সান্যাল রোডের একটি অভিজাত বাঙালি রেস্তরাঁয় সাড়ম্বরে নববর্ষ পালিত হয়। অতিথিদের জন্য আয়োজন করা বিশেষ ভুরিভোজের। নববর্ষের মহাভোজ থালি তৈরি করেছে তারা। যেখানে শুরুতেই থাকছে দু’টি করে ফুলকো লুচি, সঙ্গে নারকেল দিয়ে ছোলার ডাল। এরপর চলে আসবে আলুর মুচমুচে ভাজার সঙ্গে সরু চালের ভাত এবং ঘি, কাঁচা লঙ্কা। তারপর পনির পাতুরি এবং ইলিশ মাছ।
এখানেই শেষ নয়। এই মহাভোজে রয়েছে আরও চমক। বাসন্তী পোলাওয়ের সঙ্গে দুপিস খাসির মাংস। আর শেষ পাতে অবশ্যই রয়েছে চাটনি, পাঁপড়, টক দই এবং রাজভোগ।
রেস্তরাঁর কর্ণধার হিমাদ্রি রায় বলেন, পয়লা বৈশাখ আমাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের রেস্তরাঁতে দিনটি ধুমধাম করেই পালিত হয়। দিনটি উপলক্ষে বিশেষ বাঙালি খাবারের আয়োজন থাকে।
বাঙালি পয়লা বৈশাখ নানাভাবে উদযাপন করে। ব্যবসায়ীরা এই দিনটিতে লক্ষ্মী, গণেশের পুজো দিয়ে দোকানে হালখাতা করেন। পশ্চিমবঙ্গের নানা প্রান্তে পয়লা বৈশাখের ভোরে মঙ্গল শোভাযাত্রার বিশেষ আয়োজন করা হয়। যেখানে পুতুল, নৌকা, মুখোশ, বাংলা গান, রবীন্দ্র সঙ্গীত, কবিতা, আবৃত্তির মধ্যে দিয়ে একটি শোভাযাত্রা করা হয়। শুরু হয় বৈশাখী মেলাও। • নিজস্ব চিত্র।