


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের খাদ্য সংকটের সতর্কবার্তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই কৃষকদের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার ৯১ হাজার কোটি টাকার ন্যূনতম সহায়ক মূল্য প্যাকেজ ঘোষণা করল। মোট ৬টি রবিশস্যের জন্য দেওয়া হবে এই বর্ধিত সহায়ক মূল্য। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় এই প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে বুধবার। খাদ্য, জ্বালানি, সার ও অর্থনীতির চতুর্মুখী সংকটের সম্ভাবনায় গ্লোবাল সাউথের দেশগুলিতে বিশেষ মন্দা আসার সম্ভাবনার কথা বললেও আদতে যে ভারত নিয়েই দুশ্চিন্তা প্রকাশ করেছেন বিদেশমন্ত্রী সেকথা স্পষ্ট। বুধবার কেন্দ্রীয় সরকার দেশের খাদ্য নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে এবং কৃষকদের ফসলের লাভজনক দাম দিতে ২০২৭-২৮ কৃষি মরশুমে ৬টি রবি শস্যের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য বৃদ্ধি করেছে। রাজকোষ থেকে কৃষকদের ৯০ হাজার ৯৬২ কোটি টাকা সহায়তা দেওয়া হবে। কারণ সার ও জ্বালানির জোগান সংকটের জেরে সর্বাগ্রে ফসলের উৎপাদন মার খাবে এবং উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পাবে বলে শঙ্কা। তাই সরকার অগ্রিম সুরক্ষাকবচ দিচ্ছে বলে সরকারের দাবি।
সর্ষের ক্ষেত্রে কুইন্টাল প্রতি ৪১৩ টাকা বৃদ্ধি করে নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ হাজার ৬১৩ টাকা। মুসুর ডালে কুইন্টাল প্রতি ৩৯০ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে। নতুন সহায়ক মূল্য স্থির হয়েছে ৭ হাজার ৩৯০ টাকা। একইভাবে যবের সহায়ক মূল্য কুইন্টাল প্রতি ১৩৬ টাকা বাড়িয়ে ২ হাজার ২৮৬ টাকা ও ছোলার ক্ষেত্রে প্রতি কুইন্টালে ৮৩ টাকা বৃদ্ধি করে নতুন দর হয়েছে ৫ হাজার টাকা। গমের ক্ষেত্রে কুইন্টাল প্রতি ২৫ টাকা বৃদ্ধি হয়েছে। সরকারি বিবৃতির দাবি, উৎপাদন ব্যয়ের অন্তত দেড় গুণ পর্যন্ত সহায়ক মূল্য নিশ্চিত করার কেন্দ্রীয় নীতি মেনে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর তথ্য সম্প্রচারমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের বক্তব্য, ডাল ও তৈলবীজ চাষকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। যাতে অভ্যন্তরীণ উৎপাদন আরও বহুমুখী হয়।