


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। সরকার অথবা রিজার্ভ ব্যাংকের সব চেষ্টা ও ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসও ব্যর্থ। আর তাই অন্তিম সিদ্ধান্ত, সুদের হার বৃদ্ধি। রিজার্ভ ব্যাংকের নীতি নির্ধারণ কমিটির বৈঠকে ঠিক হয়েছে, রেপো রেট ২৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়ানো হবে। ফলে নিশ্চিতভাবে ব্যাংক ঋণের উপর ধার্য সুদের হার বেড়ে যাবে। উৎসবের মরশুমে আম জনতার উপর চাপতে চলেছে গাড়ি-বাড়ির ঋণে ইএমআইয়ের বাড়তি বোঝা। তবে কিছুটা হলেও বাড়তে চলেছে স্থায়ী আমানত বা ফিক্সড ডিপোজিটে সুদের হারও। নীতি নির্ধারণ কমিটি মনে করেছে, পরিস্থিতি যা, তাতে রেপো রেট বাড়ানো ছাড়া উপায় নেই। এবং অদূর ভবিষ্যতে রেপো রেট কমার সম্ভাবনাও নেই। আভাস তেমনই। কারণ, রিজার্ভ ব্যাংকের নীতি নির্ধারণ কমিটি তাদের বৈঠকের পর পলিসি স্টেটাসকে অভিহিত করেছে ‘ক্যালিব্রেটেড টাইটনিং’ হিসাবে। এটা এতদিন ছিল ‘নিউট্রাল’। অর্থাৎ রেপো রেট কমতেও পারে, বাড়তেও পারে। এবার তাহলে কেন বুঝিয়ে দেওয়া হল, খুব তাড়াতাড়ি রেপো কমার সম্ভাবনা নেই? আরবিআই গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা বলছেন, ‘আগামী তিনটি ত্রৈমাসিকের গড় মূল্যবৃদ্ধির হার হতে চলেছে ৫.৮ শতাংশ।’ ৬ শতাংশের কাছাকাছি মূল্যবৃদ্ধির হার পৌঁছে যাওয়া অর্থনীতির জন্য বিপজ্জনক। এই অঙ্কে আরবিআইয়ের অনুমান, চলতি অর্থবর্ষের শেষে মোট মূল্যবৃদ্ধির হার হতে পারে ৫.২ শতাংশ। অথচ গত মাস পর্যন্তও এই হার সাড়ে ৪ শতাংশের বেশি হবে না বলে আশ্বাস দিয়েছিল তারা। দিনের শেষে কিন্তু মূল্যবৃদ্ধি প্রতিহত করা যায়নি।
প্রশ্ন হল, কেন নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না? আম জনতার এই আকুল প্রশ্নের জবাব পাওয়া গিয়েছে বুধবার স্বয়ং গভর্নরের কাছে। তিনি বলেছেন, ‘এর ৭৫ শতাংশ দায় খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির। জলবায়ু পরিবর্তন, পর্যাপ্ত বর্ষা না হওয়া এবং জ্বালানির দাম বৃদ্ধি—এই তিনটি কারণে খাদ্যের মূল্য ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারে বেড়েই চলেছে। সেটাই সাধারণ মানুষের নিত্য সংসার খরচ বৃদ্ধি পাওয়ার মূল কারণ। বুধবার ২৫ বেসিস পয়েন্ট বেড়ে যাওয়ায় রেপো রেট হল সাড়ে ৫ শতাংশ। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে এই সুদের হার শেষবার সাড়ে ৫ শতাংশ হয়েছিল। রেপো রেট বেড়ে যাওয়ার অর্থ, ঋণ নিলে অন্যান্য বাণিজ্যিক ব্যাংক বেশি সুদ দেবে আরবিআইকে। আর তারা সেই বাড়তি সুদের হার চাপাবে আম জনতার ইএমআইয়ে। সুতরাং যে ঋণ সাধারণ মানুষ ফ্লোটিং ইন্টারেস্ট রেটে নিয়েছে, তার সুদের হার বেড়ে যাবে। শুধুই মূল্যবৃদ্ধি নয়, আশাব্যঞ্জক চিত্র জিডিপি বৃদ্ধিহারের ক্ষেত্রেও কিন্তু দেখতে পাচ্ছে না রিজার্ভ ব্যাংক। সরকারি পরিসংখ্যানে সাম্প্রতিক জিডিপি বৃদ্ধিহার বলা হয়েছিল ৭.৮ শতাংশ। সেই অঙ্ক নিয়ে এখনও বিতর্ক ধামাচাপা পড়েনি। এরই মধ্যে রিজার্ভ ব্যাংক জানিয়েছে, চলতি অর্থবর্ষের সামগ্রিক জিডিপি বৃদ্ধিহার হতে পারে ৭.১ শতাংশ। অর্থাৎ ৮ শতাংশ ছাপিয়ে যাবে বলে সরকারি স্তরে যে প্রচার করা হচ্ছিল, রিজার্ভ ব্যাংক তেমনটা মনে করছে না। অর্থনীতির গতি নেই, ভুগছে সেই আম জনতা।