


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রকাশ্যে চীনের সঙ্গে বন্ধুত্ব বাড়ানোর বার্তা দিচ্ছেন। চীনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক করছেন। চীন সফরে যাওয়ার আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন। শিল্প বাণিজ্য মন্ত্রক চীনের জন্য বাণিজ্যের দরজা খুলে দিচ্ছে। চীনের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য ঘাটতি শিখর স্পর্শ করেছে। এসবের আড়ালে অরুণাচল প্রদেশে যে বিগত কয়েক সপ্তাহ ধরে চীন ও ভারতের আধা সেনার মধ্যে সংঘর্ষ চলছে একথা এতদিন ভারত সরকার গোপন রেখেছে কেন? প্রশ্ন তুলেছে ইন্ডিয়া জোট। কংগ্রেস, শিবসেনা, আরজেডি, তূণমূল, সমাজবাদী পার্টি, প্রত্যেকেই আক্রমণ করেছে মোদি সরকারকে। কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ বলেছেন, বিশ্বগুরু নীরব কেন? আইটিবিপির ডিজি শত্রুজিৎ কাপুরের স্বীকারোক্তি ভারতীয় রাজনীতিতে ফের বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। ডিজি আগামী ৩১ অক্টোবর অবসর গ্রহণ করবেন। তার আগে তিনি স্পষ্ট বলেছেন, অরুণাচল প্রদেশের বিভিন্ন সীমান্তবর্তী এলাকায় সংঘর্ষ চলছে। তিনি বলেছেন, প্রথাগত যুদ্ধে চীনকে পরাজিত করা কঠিন। এখন সংঘাতের কৌশল বদলে গিয়েছে। ইন্দো টিবেটিয়ান বর্ডার পুলিশের কাছে যে অস্ত্রশস্ত্র আছে, সেসব ৫০ বছরের পুরানো। ডিজি বলেছেন, চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি অনেক এগিয়ে গিয়েছে সমরসজ্জায়। আমাদের তাদের সঙ্গে লড়াই করতে হলে সম্পূর্ণ ঢেলে সাজতে হবে রণকৌশল ও অস্ত্রশস্ত্র। ড্রোন প্রযুক্তির সর্বাধুনিক মডেল ছাড়া এখন আর যুদ্ধ করা সম্ভব নয়। এদিকে অরুণাচল প্রদেশের একের পর এক পেট্রলিং পয়েন্ট নাকি চীন দখল করেছে। এই অভিযোগ তুলে কংগ্রেস বলেছে, নরেন্দ্র মোদি এখনও জওহরলাল নেহরু, রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে বলে চলেছেন আন্তর্জাতিক মঞ্চে। তিনি আগে মুখ খুলুন যে, ঠিক কী চলছে অরুণাচল প্রদেশে? লাদাখের পর ২০২০ সালে তিনি চীনকে ক্লিনচিট দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, চীন ভারতের জমিতে নাকি প্রবেশ করেনি। চীন বুঝে গিয়েছে ভারত সরকার তাদের কিছুই বলবে না। কংগ্রেস নেতা পবন খেরা বলেছেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী চীন এবং আমেরিকা, দু দেশেকেই এত ভয় পাচ্ছেন কেন? দুই দেশের কাছে কেন ভারত সরকার আত্মসমর্পণ করেছে? প্রধানমন্ত্রীর নীরবতার রহস্য কী?
কংগ্রেসের পক্ষ থেকে কটাক্ষ করে বলা হয়েছে, আমাদের দেশে ৫৬ ইঞ্চির চীনা পুতুল আছে। তার রিমোট অনেক দেশের হাতে। সেই রিমোটে যে দেশ যেমনভাবে চালায়, সেই পুতুল সেরকমই চলে। জয়রাম রমেশ বলেছেন, তাকাসং এলাকায় সংঘর্ষের পর গত মাসে কোর কমান্ডার স্তরের বৈঠকও হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলেছে যে, লাদাখের মতোই অরুণাচলের পেট্রলিং পয়েন্ট চীনের সেনা দখল করে নিয়েছে। কংগ্রেস, তূণমূল, আরজেডি, সমাজবাদী পার্টি, শিবসেনার প্রশ্ন, অরুণাচল প্রদেশে ঠিক কী ঘটছে তা নিয়ে বিবৃতি দিক ভারত সরকার। যদি আইটিবিপি ডিরেক্টর জেনারেল কিছু না বলতেন, তাহলে দেশবাসী জানতেই পারত না যে, এরকম একটি সংঘর্ষ চলছে। অর্থাৎ ভারত সরকার দেশের কাছে গোপন করে গিয়েছে যে, দেশের সীমান্তে আধা সেনা, সেনাদের সঙ্গে চীনের কয়েক সপ্তাহ ধরে চলছে সংঘর্ষ।