


বাপ্পাদিত্য রায়চৌধুরী, কলকাতা: জিএসটি কাউন্সিলের পরবর্তী বৈঠক কবে? এ সংক্রান্ত কোনও সরকারি ঘোষণা নেই। আর তাতেই থমকে গিয়েছে জীবন বিমা ও স্বাস্থ্য বিমার উপর থেকে জিএসটির ভার লাঘব করার উদ্যোগ। বিমা পলিসি চালিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে প্রিমিয়ামের ভারেই লক্ষ লক্ষ মানুষ জর্জরিত। তাঁরা কবে সুরাহা পাবেন বা আদৌ পাবেন কি না, সেটাই এখন লাখ টাকার প্রশ্ন।
নিয়ম হল, জিএসটি কাউন্সিলের তরফে প্রতি তিন মাস অন্তর অন্তত একটি বৈঠক ডাকতেই হবে। ২৭৯এ (৮) আর্টিকেলের ৬ নম্বর রুল অনুযায়ী ওই বৈঠক ডাকা বাধ্যতামূলক। কাউন্সিলের ৫৫তম বৈঠক ডাকা হয়েছিল ডিসেম্বরের ২১ তারিখে। তার পরের তিন মাস, অর্থাৎ ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষের শেষ ত্রৈমাসিকে কোনও বৈঠক ডাকেনি কাউন্সিল। নতুন অর্থবর্ষ শুরু হলেও পরবর্তী বৈঠকের দিনক্ষণ যেমন কাউন্সিলের ওয়েবসাইটে ঘোষিত হয়নি, তেমনই কাউন্সিলের সদস্যদেরও কিছু জানানো হয়নি। রাজ্য অর্থদপ্তরের এক শীর্ষকর্তার কথায়, এ সংক্রান্ত কোনও তথ্য নবান্নকে জানায়নি দিল্লি।
কেন পরবর্তী বৈঠক সাধারণ মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ? বর্তমানে জীবন বিমা ও স্বাস্থ্য বিমার উপর ১৮ শতাংশ জিএসটি প্রযোজ্য হয়। বিমার প্রিমিয়াম খরচ বেড়ে যাওয়ায় এই হার কমানোর কমানোর দাবি ওঠে। এ বিষয়ে জিএসটি কাউন্সিল নিজে কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। তারা একটি মন্ত্রিগোষ্ঠী গঠন করে। সেই গোষ্ঠীর তরফে জিএসটির হার সংক্রান্ত সুপারিশ করতে বলা হয়। সেই সুপারিশ অনুযায়ী ডিসেম্বরের বৈঠকে সিদ্ধান্ত গৃহীত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসেনি কাউন্সিল। বলা হয়, বিমা নিয়ন্ত্রক সংস্থা ‘ইনসিওরেন্স রেগুলেটরি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অথরিটি অব ইন্ডিয়া’ বা আইআরডিএআই খতিয়ে দেখবে বিষয়টি। তারপর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট মহলের বক্তব্য, মাসের পর মাস সিদ্ধান্ত ঝুলিয়ে রাখার বাস্তবসম্মত কোনও কারণ নেই। নানা অজুহাতে কেন্দ্রীয় সরকার ইচ্ছা করেই সিদ্ধান্ত নিতে ঢিলেমি করছে। সুরাহা মিলছে না সাধারণ মানুষের। রাজস্ব ক্ষতির আশঙ্কা থেকেই জিএসটির হার কমানোর সিদ্ধান্ত চটজলদি নিতে পারছে না তারা। কারণ, মন্ত্রিগোষ্ঠীর সুপারিশে বেশ কিছু ক্ষেত্রে শর্তসাপেক্ষে জিএসটি সম্পূর্ণ মকুব করার কথা বলা হয়েছে। সাধারণত মন্ত্রিগোষ্ঠীর সুপারিশ মেনে নেয় জিএসটি কাউন্সিল। কিন্তু এক্ষেত্রে তা হয়নি। বরং নানা অজুহাত খাড়া করা হচ্ছে। কবে মানুষের সুবিধা মেলে, সেটাই দেখার।