


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ২০১৯ সালে ভেঙে দেওয়া হয় জম্মু ও কাশ্মীরকে। ছিনিয়ে নেওয়া হয় রাজ্যের মর্যাদাও। তবে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল যে এই ব্যবস্থা সাময়িক। আবার পূর্ণাঙ্গ রাজ্য হবে জম্মু ও কাশ্মীর। ৭ বছর কেটে গেলেও তা হয়নি। জম্মু ও কাশ্মীরকে পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা না ফিরিয়ে চরম উপেক্ষা করে রাখা হচ্ছে কেন? এই দাবিতে এবার ক্ষোভে ফেটে পড়েছে ভূস্বর্গের সমস্ত রাজনৈতিক দল। শাসক ন্যাশনাল কনফারেন্স থেকে বিরোধী পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টি, হুরিয়ৎ কনফারেন্স থেকে কংগ্রেস— সকলেই এককাট্টা। শুধুই রাজনৈতিক দলগুলি নয়, জম্মু ও কাশ্মীরের বাণিজ্য মহল, পর্যটন শিল্পের সঙ্গে জড়িত অংশ, ছাত্র-যুব সকলেই একই দাবিতে এখন সরব। স্মারকলিপি ও গণস্বাক্ষর অভিযান শুরু হয়েছে। বাণিজ্য মহল ও বণিকসভা প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে চিঠি লিখেছে। এই সম্মিলিত চাপে অবশেষে কিছুটা হলেও নড়েচড়ে বসেছে কেন্দ্র। জানা যাচ্ছে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে জম্মু-কাশ্মীরকে রাজ্যের মর্যাদা দেওয়ার পদক্ষেপ নিয়ে।
মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা শনিবার সব দলকে ভেদাভেদ ভুলে এই ইস্যুতে এগিয়ে আসতে আবেদন জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘২০ জুলাই জম্মু ও কাশ্মীরের পূর্ণ রাজ্য মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে দিল্লি অভিযান হবে। দিল্লির যন্তরমন্তরে আয়োজিত সমাবেশে মহাজোট ইন্ডিয়ার সব দলকে আসার অনুরোধ করেছি। সকলেই রাজি হয়েছে।’ যদিও কাশ্মীরের গুরুত্বপূর্ণ দল মেহবুবা মুফতির পিডিপি সেই সমাবেশে থাকবে কি না, সেটা এখনও নিশ্চিত নয়। তবে পূর্ণাঙ্গ রাজ্যের দাবিতে তিনিও সরব। এক মাস আগেই ওমর আবদুল্লার সুরেই কাশ্মীরের সব দলকে চিঠি লিখে একজোট হয়ে লড়াই করার আবেদন জানিয়েছিলেন মেহবুবাও।
আগামী আগস্ট মাসের ৫ তারিখ জম্মু-কাশ্মীরের আমূল চরিত্রবদলের সপ্তম বর্ষপূর্তি। অর্থাৎ সংবিধানের ৩৭০ নং অনুচ্ছেদের অবলুপ্তি, ৩৫ এ নং ধারা বাতিল হয়। পাশাপাশি পূর্ণ রাজ্যের কাঠামো কেড়ে নিয়ে জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখকে আলাদা কেন্দ্রশাসিত এলাকায় বদলে দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে দফায় দফায় কেন্দ্রীয় সরকার আশ্বাস ও প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে, জম্মু-কাশ্মীরের পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা শীঘ্রই ফিরিয়ে দেওয়া হবে। কিন্তু তা হয়নি। এমনকি বিধানসভা ভোটের দেড় বছর পেরিয়ে গেলেও কাশ্মীরের প্রকৃত শাসন রয়ে গিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের হাতেই।
এদিন ওমর আবদুল্লা বলেছেন, ‘আমরা সরকারে আসার পরও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক বারংবার বলেছে যে, যথাসময়ে জম্মু-কাশ্মীরের হৃতমর্যাদা ফেরানো হবে। ভূস্বর্গ আবার পূর্ণাঙ্গ রাজ্য হবে। আমাদের প্রশ্ন, ওই যথাসময়ে কথার অর্থ কী? যথাসময় কখন আসবে? লাদাখের সঙ্গে তাদের অভাব অভিযোগ বিক্ষোভ নিয়ে কথা বলতে কেন্দ্রীয় সরকার সময় পাচ্ছে। তাদের দাবিদাওয়া মনোযোগ সহকারে শুনছে কেন্দ্র। অথচ জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে কোনো উচ্চবাচ্য নেই। এমনকি বারবার আলোচনার জন্য সময় চাইলেও কেন্দ্র গুরুত্ব দেয়নি। আমাদের ধৈর্যকে কেন্দ্র দুর্বলতা যেন মনে না করে।’ তাঁর দাবি, কতদিনের মধ্যে জম্মু-কাশ্মীর আবার পূর্ণ রাজ্য হবে? সরকার অবিলম্বে নির্দিষ্ট সময়সীমা ও তারিখ জানাক।