


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: চলতি বছরেই বলবৎ করা হবে জাতীয় বিদ্যুৎ নীতি। তার খসড়া ইতিমধ্যে প্রস্তুত। এবার খুব শীঘ্রই কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই নয়া বিদ্যুৎ নীতি অনুমোদিত হবে। তারপর বিজ্ঞপ্তি জারি করবে কেন্দ্র। নয়া নীতি একবার চালু হলে দেশজুড়ে বিদ্যুৎ ব্যয় অনুযায়ী মাশুল নির্ধারণ নীতিও চালু হবে। এটি বিক্ষিপ্তভাবে বেশ কিছু রাজ্যে চালু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কখনও স্মার্ট মিটার অথবা কখনও প্রক্রিয়াগত কারণে তা সম্ভব হয়নি। কিন্তু এবার নয়া বিদ্যুৎ নীতি চালু হলে সেই পরিস্থিতিতে বদল আসবে। সবথেকে তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তন সময়ভিত্তিক বিদ্যুৎ মাশুল নীতি কার্যকর হওয়া। বর্তমানে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যখনই বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হোক, একই হারে মাশুল ধার্য হয়। তবে ইউনিট পিছু মাশুল নির্ধারণের কয়েকটি নির্দিষ্ট ধাপ রয়েছে। নতুন বিদ্যুৎ নীতিতে ২৪ ঘণ্টায় তিনটি পৃথক সময়সীমা ধার্য করা হচ্ছে— ‘পিক আওয়ার’, ‘অফ পিক আওয়ার’ এবং ‘স্ট্যান্ডার্ড আওয়ার’। এই ব্যবস্থাকে বলা হচ্ছে, ‘টাইম অব ডে ট্যারিফ’ (টিওডি)। নয়া বিদ্যুৎ নীতির সংশোধিত খসড়ায় বলা হয়েছে, সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত ‘পিক আওয়ার’-এ বিদ্যুতের ইউনিট পিছু মাশুল সবথেকে বেশি হবে। রাত ১১টা থেকে সকাল ৮ টা পর্যন্ত ‘অফ পিক আওয়ার’-এ কম হবে বিদ্যুতের খরচ। আবার সকাল ৮ থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ‘স্ট্যান্ডার্ড আওয়ার’। অর্থাৎ যে বিদ্যুৎ ব্যবহারে বিল বেশি হওয়ার সম্ভাবনা, সেই জলের পাম্প, ওয়াশিং মেশিন, গিজার, মিক্সার, মাইক্রোওভেন চালানো ইত্যাদি কাজগুলি যদি ‘অফ পিক আওয়ার’-এ করা যায় তাহলে বিল তুলনামূলকভাবে কম উঠবে। ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসের আগে পর্যন্ত কমার্শিয়াল সংযোগে এই ব্যবস্থা ছিল। ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে সাধারণ গ্রাহকদের ক্ষেত্রে তা চালুর কথা বলা হলেও শেষপর্যন্ত হয়নি। পশ্চিমবঙ্গেও এই ব্যবস্থা চালুর নীতি কাগজে কলমে থাকলেও তা চালু করা যায়নি স্মার্ট মিটার সার্বিকভাবে বলবৎ না হওয়ায়। কিন্তু এবার কেন্দ্রীয়ভাবে এই নিয়ম কার্যকর হতে পারে বাংলায়।