


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এ ড্রাগন মুখ দিয়ে আগুন ছোড়ে না। দেখলে ভয় করে না। রং লাল টকটকে। এছাড়াও আছে বেগুনি বা সবুজ-হলুদ। তারা লেজ নেড়ে নেড়ে দুলে দুলে নাচে। চীনে নববর্ষ উপলক্ষ্যে থাইল্যান্ড থেকে এসেছে কলকাতায়। এখন চৈনিক নববর্ষ উদযাপন চলছে বিশ্বজুড়ে। কলকাতাতেও সে উৎসবের রেশ বশ জমকালো।
কলকাতা ও রাজ্যের অন্যান্য জায়গাজুড়ে চীনে সম্প্রদায়ের কয়েক হাজার মানুষ বসবাস করেন। তাঁরাই ঘটা করে করেন অনুষ্ঠান। কলকাতার চীনে পাড়া টেরিটি বাজার, চায়না টাউন, বো বারাক ইত্যাদি জায়গায় নববর্ষে বিশাল বড়ো কিন্তু খুব সুইট দেখতে ড্রাগনরা খোল করতালের মতো ব্যান্ডের বাজনার তালে নাচে। ড্রাগনগুলি ঝলমলে রঙের কাগজ-প্লাস্টিক দিয়ে বানানো। ওজনে হালকা। আর তাতে কত কি রং! দেখলে চোখ ধাঁধায়। সেগুলি মনমতো বানানো কঠিন। তাই আনতে হয় থাইল্যান্ড থেকে।
চীনেরা নববর্ষে ড্রাগন কেন নাচায়? তা জানতে ফিরতে হয় খ্রীস্টপূর্বের আগের ইতিহাসে। প্রায় ৩ হাজার ৫০০ বছর আগে। শাং রাজবংশ (১৬০০-১০৪৬ খ্রিস্টপূর্ব) থেকে পালিত হচ্ছে। তখন নিয়ান (বছর) নামে এক রাক্ষস প্রতি বছরের শুরুতে গ্রামবাসীর উপর আক্রমণ চালাত। সে দানব শুধু ভয় পেত হট্টগোল, উজ্জ্বল আলো আর লাল রংকে। তখন চীনেরা লাল পোশাক পরে, লাল লণ্ঠন, ড্রাগন বানিয়ে ব্যাপক চিৎকার চেঁচামেচি করে নিয়ানকে দেশছাড়া করে। তখন থেকেই শুরু নববর্ষ উদযাপন। এবং ড্রাগন হয়ে ওঠে শক্তি আর সৌভাগ্যের প্রতীক। তখন থেকেই নববর্ষে ড্রাগন রাস্তায় বেরিয়ে ঘুরে বেড়ায়। নাচে। কলকাতাতেও চীনেরা ড্রাগন নাচায়। তারা মনে করে নতুনবছর পা রাখল মানে বসন্ত ঋতুর সূচনা হল।
এখন টেরিটি বাজারে ব্ল্যাক বার্ন স্ট্রিটে চীনে মন্দির চনগি ডং থিয়েন হাউ চার্চে স্বর্গের দেবী ‘তিয়েন হাউ’, সুখ-শান্তির দেবী ‘টু তে চুম’, ভাগ্যদেবতা ‘কোয়ান কুম’, চায়না চাউনে ‘কালী’ মন্দিরে, শহরের চার্চে যিশু, তথাগতের কাছে চলছে প্রার্থনা। মাঝরাতে আতসবাজি পোড়ানো হয়েছে। ঘরে ঘরে তৈরি হচ্ছে নববর্ষে বাঙালির পিঠেপুলির মতো বিশেষ খাবার ডাম্পলিং, চালের কেক নিয়ান গাও, মাছ, স্প্রিংরোল, নুডলস, বিভিন্ন রকম মিষ্টি ইত্যাদি।
চৈনিক রাশিচক্রে প্রতি বছরকে কোনও না কোনও প্রাণীর সঙ্গে যুক্ত। এবছর হল ঘোড়ার বছর। চীনেদের কাছে অশ্ব হল, স্বাধীনতা ও শক্তির প্রতীক। যে সব প্রাণীদের নামে বছর আছে সেগুলি হল, ইঁদুর (বুদ্ধিমত্তা ও সম্পদ)। বলদ (পরিশ্রম ও স্থিতিশীলতা)। বাঘ (সাহস ও শক্তি।) খরগোশ (শান্তি ও সৌভাগ্য)। ড্রাগন (শক্তি ও সৌভাগ্য)। সাপ (রহস্য ও বুদ্ধিমত্তা)। ঘোড়া (স্বাধীনতা ও শক্তি)। ছাগল (শান্তি ও সৃজনশীলতা)। বানর (চালাকি ও আনন্দ)। মোরগ (আত্মবিশ্বাস ও সততা)। কুকুর (বিশ্বস্ততা ও সততা)। শূকর (সম্পদ ও সৌভাগ্য)।