


নামেই পাহাড় আসলে এগুলো টিলার মতোই ছোটোখাটো। তবে সবচেয়ে আশ্চর্যজনক ব্যাপার হল দেখলে মনে হয় এগুলো যেন চকোলেট দিয়ে তৈরি। এইটুকুই পড়েই তোমাদের মনে অজস্র প্রশ্ন দানা বাঁধতে শুরু করেছে, তাই তো? ভাবছ, টিলা তাও আবার চকোলেটের তৈরি! এও কি সম্ভব! আর যদিও বা থাকে তবে তা কোথায় অবস্থিত? এইসব জানার জন্য ব্যাকুল হচ্ছে মনটা। এক ছুটে চলে যেতে চাও বুঝি সেই টিলার কাছে? দাঁড়াও গল্পটা তবে গোড়ার থেকেই বলি। ফিলিপিন্স দেশে একটা দ্বীপ রয়েছে, নাম বোহোল। এই দ্বীপের একটা বিশেষত্ব আছে। যেকোনো আর পাঁচটা দ্বীপের মতো এটি নয়। এখানে প্রায় ১ হাজার ৭০০টি কোণের আকারে গড়া চকোলেট টিলার অবস্থান। এতই নিটোল সেই টিলার চেহারা যে, হঠাৎ দেখলে মনে হতেই পারে তা মানুষের হাতে গড়া। কোনো ভাস্কর নিপুণ হাতে তৈরি করেছেন হয়তো এই টিলাগুলো। বিদেশে তো মাটির উপর ভাস্কর্য খুবই সাধারণ বিষয়। তার পোশাকি নাম ল্যান্ডস্কেপিং। হয়তো বা সেই ল্যান্ডস্কেপিংয়ের দ্বারাই তৈরি হয়েছে এই টিলা। কিন্তু না, এই টিলাগুলো সবই প্রাকৃতিক। যুগ যুগ ধরে প্রবাল জমতে জমতে এই টিলাগুলো গড়ে উঠেছে দ্বীপের উপর। তারপর সেই প্রবালের আস্তরণের উপর দিয়ে বায়ু সহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক শক্তি ক্রিয়াশীল ছিল। ক্ষয় হয়েছে সেই আস্তরণ। ক্রমশ নিটোল রূপ নিয়ে আইসক্রিম কোণের আকারে টিলা তৈরি হয়েছে এই দ্বীপে।
সবই তো বোঝা গেল। কিন্তু চকোলেট? সে আবার কোথা থেকে এল? দ্বীপের উপর এই টিলা কখনো বৃষ্টির জল পেয়েছে কখনো বা রোদ খেলে গিয়েছে এর উপর দিয়ে। প্রাকৃতিক দুর্যোগও সামলেছে এই টিলাগুলো। যাই হোক, প্রাকৃতির নানা রূপে স্নাত এই টিলার গায়ে গুল্ম গজিয়ে উঠেছে সময়ের হাত ধরে। প্রখর গ্রীষ্মে যখন রোদের তাপ চূড়ান্ত পর্যায় পৌঁছয় তখন সবুজ গুল্মগুলো খয়েরি, বাদামি রং ধারণ করে। দূর থেকে দেখলে মনে হয় কেউ আপন মনে ঘন চকোলেটের আস্তরণ ঢেলে দিয়ে গিয়েছে এই টিলার গায়ে। আর সেই থেকেই এমন নামকরণ হয়েছে এই টিলার। সম্প্রতি জায়গাটিকে ইউনেস্কো হেরিটেজ সাইট হিসেবে ঘোষণা করেছে। পর্যটকদের এখানে ঘুরতে আসার অনুমতি দেওয়া হয়। তবে প্রাকৃতিক পরিবেশ যাতে কোনোভাবেই নষ্ট না হয়, সেদিকেও খেয়াল রাখা হয়।