


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কোনও ব্যক্তি বা ব্যবসায়িক সংস্থা যখন ব্যাংক এবং অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিতে চায়, তাদের ঋণ শোধ করার ক্ষমতা যাচাই করে নেওয়া হয়। তবে ব্যাংক বা অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান সেই কাজটা নিজেরা করে না, কোনও তৃতীয় পক্ষকে সেই কাজের ভার দেওয়া হয়। এদেশে মোট চারটি সংস্থা আছে, যারা কোনও ব্যক্তি বা সংস্থার ঋণ পরিশোধের ক্ষমতা যাচাই করে। এদের ক্রেডিট ইনফরমেশন কোম্পানি বলা হয়। এই সংস্থাগুলি কোনও ব্যক্তি বা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের ঋণ সংক্রান্ত ইতিহাস বিশ্লেষণ করে এবং সেইমতো জানিয়ে দেয় ঋণ পরিশোধের ক্ষমতা। বর্তমানে শুধুমাত্র ঋণ সংক্রান্ত ইতিহাস ঘেঁটে, পরিশোধের ক্ষমতা যাচাই করার বাইরে আরও তথ্য চাইছে সংস্থাগুলি। সেই তথ্যের সন্ধান যাতে ক্রেডিট ইনফরমেশন কোম্পানিগুলিকে দেওয়া হয়, কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে তার আর্জি জানিয়েছে তারা।
ঋণ পরিশোধ যাচাইয়ের ক্ষেত্রে বর্তমানে ওই কোম্পানিগুলির মূল অস্ত্র কোনও ব্যক্তি বা সংস্থার নাম, প্যান কার্ড, ব্যক্তিগত ঋণ প্রদানের ইতিহাস, মর্টগেজ বা বন্ধকি সম্পত্তি, ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার ও তার রিপেমেন্ট প্রভৃতি। এগুলি বিশ্লেষণ করেই ক্রেডিট স্কোর নির্ধারিত হয়। সম্প্রতি কলকাতায় এসে দেশের অন্যতম ক্রেডিট ইনফরমেশন কোম্পানি ট্রান্সইউনিয়ন সিবিলের চেয়ারম্যান ভি অনন্তরামন দাবি করেন, কোনও ব্যক্তি বা সংস্থার নগদ লেনদেন সংক্রান্ত হদিশ পেতে শুধুমাত্র এই তথ্যগুলি যথাযথ নয়। জিএসটি প্রদান, ইউপিআই পেমেন্ট বা অ্যাকাউন্ট এগ্রিগেটর সংস্থার তথ্য যাচাই করাও জরুরি। তাঁর কথায়, ঋণ পরিশোধ করার ক্ষমতা যাচাই করার অর্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ঝুঁকি নির্ধারণ করা। এই ক্ষেত্রগুলি যদি বিবেচনা না করা হয়, তাহলে আর্থিক ঝুঁকি বিশ্লেষণ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হবে না। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ বর্তমানে এই পন্থা নিয়েছে, দাবি করেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, বর্তমানে শুধুমাত্র কোনও ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ঋণ সংক্রান্ত ইতিহাস ঘেঁটে দেখার অধিকার তাঁদের দেওয়া হয়েছে। অন্যান্য আর্থিক তথ্য বিশ্লেষণের অধিকার দেওয়া হয়নি। তা যাতে দেওয়া হয়, তার জন্য ইতিমধ্যেই কেন্দ্রের কাছে আর্জি জানানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন ট্রান্সইউনিয়ন সিবিল চেয়ারম্যান। আগামী অর্থবর্ষের জন্য বাজেট প্রস্তুতির আগেই ক্রেডিট ইনফরমেশন কোম্পানিগুলির মতামত চেয়েছিল অর্থমন্ত্রক। সেখানে এই প্রস্তাব রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।