


পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু স্থান মাউন্ট এভারেস্টের চূড়া। কিন্তু এমন অনেক পর্বত শৃঙ্গ আছে, যেগুলো এভারেস্টের তুলনায় মহাকাশের অনেক কাছে। এমনটা কি সত্যিই সম্ভব? কারণ জানালেন স্বরূপ কুলভী।
পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু পর্বতশৃঙ্গের নাম কী? ছোট্ট বন্ধুরা, এর উত্তরে সবাই একসুরেই বলবে মাউন্ট এভারেস্ট। কিন্তু এর একটা মাপকাঠি রয়েছে। যদি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে মাপা হয়, তাহলে এভারেস্ট বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু পর্বত। কিন্তু সেই মাপকাঠিটা বদলে ফেলা হয়? যদি বলা পৃথিবীতে এমনও পর্বত রয়েছে, যা এভারেস্টের চেয়েও মহাকাশের সবচেয়ে বেশি কাছে রয়েছে? হ্যাঁ, এমনও পর্বত রয়েছে। শুধু মাপকাঠিটা বদলে ফেললেই হল। আর তার নাম মাউন্ট চিম্বোরাজো।
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে হিসাব করলে আমাদের ঘরের পাশেই থাকা মাউন্ট এভারেস্টের উচ্চতা ৮ হাজার ৮৪৯ মিটার। এটাকেই পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ বলা হয়। আর যদি কোনো পর্বতকে তার গোড়া অর্থাৎ পাদদেশ থেকে উচ্চতা মাপি তাহলে কিন্তু শীর্ষস্থানটা আর এভারেস্টের দখলে থাকবে না। এই দৌড়ে সবচেয়ে সামনে থাকবে আমেরিকার হাওয়াই দ্বীপের মৌনা কিয়া। এটি একটি ঘুমন্ত আগ্নেয়গিরি। এর প্রায় অর্ধেকটাই প্রশান্ত মহাসাগরের জলে গা ডুবিয়ে বসে রয়েছে। সমুদ্রের তলদেশে থাকা এর পাদদেশ থেকে শৃঙ্গ পর্যন্ত মাপলে এর উচ্চতা হয় ১০ হাজার ২১১ মিটার। অর্থাৎ এভারেস্টের চেয়েও উঁচু। কিন্তু আগেই বলেছি, এর অর্ধেকটাই রয়েছে জলে। মাপকাঠিটা যদি আর একটু বদল হয়। তাহলে এভারেস্ট ও মৌনা কিয়াকে টক্কর দেবে আর একটা পর্বত। সেটাই হল মাউন্ট চিম্বোরাজো। কোথায় আছে এই পর্বত? চিম্বোরাজো হল দক্ষিণ আমেরিকার ইকুয়েডরের আন্দিজ পর্বতমালার একটি ঘুমন্ত আগ্নেয়গিরি। কোন মাপকাঠিতে এই পর্বত এভারেস্ট ও মৌনা কিয়াকে পিছনে ফেলে দিতে পারে? পৃথিবীর একেবারে কেন্দ্র থেকে মাপলে চিম্বোরাজো বাকিদের টেক্কা দেবে। পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে মাপলে এই পর্বতমালা এভারেস্টের চেয়েও প্রায় ১ হাজার ২০০ মিটার উঁচু। আর সেই অর্থে এটাই হল মহাকাশের সবচেয়ে কাছে থাকা ভূপৃষ্ঠের কোনো বিন্দু।
এর নেপথ্যে রয়েছে মজাদার কারণ। তা হল চিম্বোরাজের অবস্থান। আমাদের পৃথিবীর মানচিত্রে একেবারে মাঝখানে পূর্ব থেকে পশ্চিমে গোল করে রয়েছে একটি কাল্পনিক রেখা। একে বলা হয় নিরক্ষরেখা। এটি পৃথিবীকে দু’ভাগে ভাগ করেছে। উপরের অংশ হল উত্তর গোলার্ধ। আর নীচের অংশকে বলা হয় দক্ষিণ গোলার্ধ। চিম্বোরাজে রয়েছে আমাদের পৃথিবীর বিষুবরেখা থেকে মাত্র ১.৫ ডিগ্রি দক্ষিণে। অর্থাৎ নিরক্ষরেখার কাছে। আমরা জানি, আমাদের পৃথিবী একেবারে গোল বা বৃত্তাকার নয়। নিজের অক্ষের চারপাশে তীব্র গতিতে ঘুরছে পৃথিবী। এর জেরে একটা একটা কেন্দ্রবিমুখী বল তৈরি হয়। সেজন্য পৃথিবীর মাঝখানটা কিছুটা ফোলা। অর্থাৎ বাইরের দিকে ফুলে উঠেছে। অনেকটা কমলালেবুর মতো। সেই স্ফীত অংশটায় মাথা তুলে রয়েছে চিম্বোরাজো। সেজন্যই চিম্বোরাজো মহাকাশের সবচেয়ে কাছে থাকা পৃথিবীর বিন্দুতে পরিণত হয়েছে। ধর, তুমি আর তোমার বন্ধুর উচ্চতা প্রায় একই। কিন্তু যদি তোমার বন্ধু কোনো চেয়ারে উঠে দাঁড়ায়, তাহলে তাকেই বেশি লম্বা লাগবে। এক্ষেত্রেও বিষয়টি তাই। ব্যাপারটার একটা ব্যাখ্যা দিয়েছেন আমেরিকার এক পদার্থবিদ ডেরেক ভ্যান ওয়েস্ট্রাম। তাঁর কথায়, মহাকাশের বুকে পৃথিবীকে যদি একটা বিন্দু হিসাবে কল্পনা করা হয়, তাহলে কিম্বোরাজো হল সেই জায়গা যেটা ওই বিন্দুর একেবারে কেন্দ্র থেকে সবচেয়ে দূরে রয়েছে।