


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পুজোর আগে হরিদেবপুরের ক্লাব অজেয় সংহতিতে তাণ্ডব চালাল একদল দুষ্কৃতী। শুধু তাই নয়, ক্লাবের সদস্যদের মারধর করারও অভিযোগ উঠেছে ওই দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে রবিবার রাতে। ক্লাবের সদস্যদের অভিযোগ, রাত ১২টা নাগাদ আচমকা একদল দুষ্কৃতী ক্লাবের ভিতরে হুড়মুড় করে ঢুকে পড়ে। তারা বিভিন্ন জিনিস তছনছ করার পাশাপাশি মারধর করে উপস্থিত সদস্যদের। ক্লাব সদস্য অরিজিৎ নন্দী প্রতিবাদ জানালে তাঁকে বেধড়ক মারা হয় বলে অভিযোগ। তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে এম আর বাঙ্গুর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপরও ক্ষান্ত হয়নি তারা। অভিযোগ, মাঝরাতে ফের ক্লাবে এসে তারা তাণ্ডব চালিয়েছে। সেই সময় ক্লাবের সিসি ক্যামেরা ও হার্ডডিস্ক লোপাট করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই হরিদেবপুর থানার দ্বারস্থ হয়েছেন ক্লাবের কর্মকর্তারা। কী কারণে এই হামলা? পুজো বন্ধ করার চাপ, নাকি অন্য কোনো অভিসন্ধি? তা এখনও স্পষ্ট নয়। এই ঘটনায় আতঙ্কিত পুজোর কাজে নিযুক্ত শিল্পী থেকে শ্রমিকরা।
ক্লাবের সদস্যরা জানিয়েছেন, পুজো প্রায় এসে গিয়েছে। এখন শেষ মুহূর্তের কাজ চলছে। প্রতিদিন ব্যক্তিগত কাজকর্মের পর রাতের দিকে ক্লাবে এসে শিল্পীদের সঙ্গে কথাবার্তা বলেন উদ্যোক্তারা। এদিনও সেরকমই আলোচনা চলছিল। ক্লাবের সম্পাদক পীযূষ হালদার বলেন, রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ আচমকা সাত-আট জন দুষ্কৃতী ক্লাবে ঢুকে পড়ে এবং মারধর শুরু করে। তাদের বাধা দিতে যায় অরিজিৎ। তাকে কার্যত টার্গেট করে দুষ্কৃতীরা। ভিতরে যখন হামলা চলছে, তখন ক্লাবের বাইরে পাহারায় ছিল আরও ৮-১০ জন। পুলিশি নজর এড়াতেই এই পাহারা বলে অনুমান ক্লাবের কর্মকর্তাদের। অরিজিৎকে গুরুতর জখম অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সম্পাদকের আরও অভিযোগ, ঘটনার সময়ের ফুটেজ যাতে পুলিশের হাতে না যায়, তার জন্য দুষ্কৃতীরা মাঝরাতে ফের হানা দেয় ক্লাবে। তারা দরজা ভেঙে হাতিয়ে নেয় সিসি ক্যামেরা ও হার্ডডিস্ক। এই ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্কে ক্লাবের কর্মকর্তারা। তাঁদের বক্তব্য, আমরা এত বছর ধরে পুজো করছি, কোনোদিন এমন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। কে বা কারা এই ঘটনায় যুক্ত, তা তদন্ত করে দেখুক পুলিশ। পুজো কমিটির পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে হরিদেবপুর থানা।
ক্লাবের অন্যতম সদস্য অরিজিৎ নন্দীকে কেন টার্গেট করা হল? স্থানীয় সূত্রে খবর, অরিজিৎ দীর্ঘদিন ধরেই তৃণমূল করেন। বর্তমানে মমতাপন্থী তৃণমূলে রয়েছেন। এখনও তিনি ১১৫ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি। তাহলে কি এই হামলার পিছনে রাজনৈতিক অভিসন্ধি রয়েছে? যদিও এনিয়ে কেউই মুখ খুলতে চাইছেন না।