


নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া: জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের সই জাল করে পুরুলিয়া দেবেন মাহাত মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়োগের চেষ্টার অভিযোগ ঘিরে শোরগোল পড়ল। তবে, চাকরি প্রাপকরা সশরীরে হাজির হওয়ার আগেই নিয়োগপত্র হাসপাতালের সুপারের কাছে এসে পৌঁছয়। তিনি তা দেখেই জাল নিয়োগপত্র বলে বুঝতে পারেন। এরপরই তিনি মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিককে জানান। এনিয়ে শুক্রবার থানায় মামলা দায়ের করেছেন মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিস।
দেবেন মাহাত হাসপাতালের সুপার সুকমল বিষই জানান, গত ৫ মার্চ হোয়াটসঅ্যাপে এক কর্মীর মারফত তিনি একটি নির্দেশিকা পান। জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের প্যাডে ওই নির্দেশিকাটি রয়েছে। ওই নির্দেশিকায় ‘রাতের সাথী’ প্রকল্পের ভলান্টিয়ার পদে নিয়োগের জন্য ১৩ জনের নাম রয়েছে। তাঁদের ৪মার্চ দেবেন মাহাত গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চিঠির নীচে সই রয়েছে জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক অশোক বিশ্বাসের। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি এই নির্দেশিকাটি জারি হয়েছে। এক ঝলকে দেখলে মনে হবে, আসল নিয়োগপত্র।
হাসপাতালের সুপার বলেন, মেডিক্যাল কলেজে নিয়োগ করার ক্ষমতা জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের নেই। সুপ্রিম কোর্টে এনিয়ে মামলা চলছে। ফলে নিয়োগ বন্ধ রয়েছে। হাসপাতালের এই ধরনের পদে নিয়োগের প্রয়োজন পড়লে তার দায়িত্ব কোনও বেসরকারি সংস্থাকে দিয়ে দেওয়া হয়। ফলে এই চিঠিটি যে জাল, তা বুঝতে পারি। বিষয়টি মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিককে জানাই।
চিঠিটি হাতে পেয়ে কার্যত আকাশ থেকে পড়েন সিএমওএইচ। যেদিন ওই অর্ডারটি ইস্যুর তারিখ দেওয়া হয়েছে, সেদিন তিনি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। এরপরই তিনি পুরুলিয়া টাউন থানায় এনিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক বলেন, ‘নিয়োগপত্রটি জাল। এনিয়ে থানায় অভিযোগ করেছি। এই কাণ্ডটি কে ঘটিয়েছে পুলিস খুঁজে বের করুক।’
পুলিসের অনুমান, নিয়োগপত্রে যাঁদের নাম রয়েছে তাঁরা নিশ্চয়ই কারও দ্বারা প্রতারিত হয়েছেন। টাকার বিনিময়ে কারও থেকে চাকরির প্রতিশ্রুতি পেয়েছিলেন। সেই প্রতারক তাঁদের এই ‘জাল’ অর্ডার কপি দেখিয়ে বিশ্বাস অর্জন করেছেন। এধরনের ঘটনা আগেও ঘটেছে পুরুলিয়া জেলায়। তবে, একটি বিষয়ে খটকা লাগছে অনেকেরই। ওই নির্দেশিকাটি ‘সত্যি’ হিসেবেই মেনে নিয়েছিলেন ১৩জন চাকরিপ্রার্থীই। অর্ডারে ৪ মার্চ প্রত্যেককে হাসপাতলে জয়েন করতে বলা হয়েছিল। সেক্ষেত্রে তাঁরা কি যোগদানের জন্য হাসপাতালে এসেছিলেন? যদি এসে থাকেন তাহলে সেদিনই তো তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করে মূল পান্ডার নাম জানতে পারত পুলিস।
হাসপাতালের সুপারের দাবি, কেউ যোগদান করতে আসেননি। আমি চিঠিটি হাতে পেয়েছি পরের দিন ৫ মার্চ। পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিককে পাঠিয়েছি। মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক বলেন, পুলিস ভালো করে তদন্ত করলেই পুরো ব্যাপারটা পরিষ্কার হয়ে যাবে।