


শিশির ঘোষ: স্পষ্ট কথায় কষ্ট নেই। সাউল, বিপিনদের লড়াইকে কুর্নিশ। বেঙ্গালুরুর বিরুদ্ধে তিনবার পিছিয়ে পড়েও ইস্ট বেঙ্গলের প্রত্যাবর্তন এককথায় অবিশ্বাস্য। ফুটবলারদের বডি ল্যাঙ্গুয়েজে আকাশ ছোঁয়ার স্পর্ধা। যুবভারতীতে স্রেফ ফুটবলারদের তাগিদেই এক পয়েন্ট ছিনিয়ে নিল মশালবাহিনী। কিন্তু হতাশ করলেন কোচ অস্কার। দুর্বোধ্য স্ট্র্যাটেজি। অহেতুক পরীক্ষা-নিরীক্ষায় দলকে ডোবাচ্ছেন তিনি। অংকের বিচারে চ্যাম্পিয়নশিপের দৌড়ে দারুণভাবে রয়েছে ইস্ট বেঙ্গল। ইগো ঝেড়ে ফেলে অস্কারের উচিত ঠিকঠাক দল নামানো। তিন ডিফেন্ডার খেলিয়ে দলের সর্বনাশ করছেন অস্কার। অবিলম্বে বদলানো উচিত ফর্মেশন। আনোয়ার চোট নিয়েই খেলছে। অন্যদিকে, দীর্ঘদিন মাঠের বাইরে ছিল সিবলে। প্রচণ্ড আর্দ্রতায় ওদের পক্ষে এত ধকল নেওয়া মুশকিল। অস্কার তা বুঝেও বুঝতে চাইছেন না!
ম্যাচ জিততে হোমওয়ার্ক দরকার। সেটাই কোচের কাজ। অথচ অস্কার হাঁটেন উলটো রাস্তায়। উইলিয়ামস, আশিক কুরুনিয়ানের মতো উইঙ্গার বেঙ্গালুরুর সম্পদ। অথচ তাদের রুখতে বিষ্ণু, বিপিনদের খেলালেন স্প্যানিশ কোচ। প্রথম গোলের মুহূর্ত মনে করুন। আশিক লম্বা বল রিসিভ করে দুরন্ত শটে জাল কাঁপাল। ক্লোজ করার চেষ্টাই করেনি বিপিন। ওকে দোষ দেওয়া অর্থহীন। বিশেষজ্ঞ ডিফেন্ডার থাকলে এমনটা হত না। দ্বিতীয় গোলের ক্ষেত্রে শিশুসুলভ ভুল গিলের। তার আগে অন্তত ৩০ গজ বিনা বাধায় বল টেনে নিয়ে সেন্টার করে রায়ান। কোথায় বিষ্ণু? ওর পক্ষে রায়ানকে মার্ক করা সম্ভব? অথচ জয় গুপ্তা, লালচুংনুঙ্গা, রাকিপদের বাইরে রাখলেন অস্কার। লাল-হলুদ কোচকে দেখে মহম্মদ বিন তুঘলককে মনে পড়ছে। জেসিন, সায়ন, ডেভিডরা কি ইস্ট বেঙ্গলে এখনও খেলে? অস্কার জমানায় পুরোপুরি ব্রাত্য ওরা। অথচ এমনটা হওয়ার কথা ছিল না। আইএসএলের ইতিহাসে এবারই সেরা স্কোয়াড ইস্ট বেঙ্গলের। কিন্তু ঘেঁটে ঘ করছেন স্প্যানিশ কোচ। অস্কার জেতা দূরের কথা, মোটা দাগের সিরিয়াল বানানোর যোগ্যতাও নেই।
একা অস্কারে রক্ষে নেই, রেফারি দোসর। মিগুয়েলের লাল কার্ড নিয়ে প্রশ্ন থাকছেই। জমজমাট ম্যাচের বারোটা বাজিয়ে দিলেন অশ্বিন। অতীতেও রেফারির ভুল সিদ্ধান্তে ডুবেছে ইস্ট বেঙ্গল। এই ধরনের হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে রেফারির অনেক সংযত হওয়া প্রয়োজন। নিম্নমানের রেফারিং নিয়ে ভাবা উচিত ফেডারেশনের। তবে বেঙ্গালুরু ডাগ-আউটে শট মেরে অপরাধ করেছে মিগুয়েলও। নির্বাসন হলে ভুগতে হবে ইস্ট বেঙ্গলকেই। মুম্বই, পাঞ্জাব কিন্তু আরও অনেক শক্তিশালী।