


নয়াদিল্লি, ২৪ সেপ্টেম্বর: আন্দাজ করা গিয়েছিল। এবার তাই সত্যি হলো। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ৪৮ ঘণ্টার ‘ডেডলাইন’ সিজেপির। পদত্যাগ না করলে আন্দোলনের পথে নামতে চলেছেন ‘ককরোচরা’। এবং শুধু দিল্লির যন্তর মন্তর নয় গোটা দেশজুড়ে এই আন্দোলন চলবে বলে জানালেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। তিনি জানান, ‘যতক্ষণ না জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ করছে, ততক্ষণ আমরা পিছুপা হব না’। দেশের জেন-জিদের ভোটার হতে দিচ্ছে না সরকার, এদিন সাংবাদিক বৈঠক থেকে তোপ সৌরভের। তিনি বলেন, ‘দেশের যুব সমাজ পরিবর্তন চাইছে। কিন্তু ভোট দেওয়ার অধিকার ছিনিয়ে নেওয়া হচ্ছে। পরিবর্তন কীভাবে হবে?’
শুধু জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ নয়। তাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা শুরু করারও দাবি জানিয়েছে সিজেপি। কে এবং কারা মুখ্য নির্বাচনী জ্ঞানেশ কুমারকে এই নির্দেশ দিয়েছিল? তাও প্রকাশ্যে আনার দাবি রাখছেন তাঁরা। সিজেপির তরফে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, ‘জ্ঞানেশ কুমার কে? যে আমাদের ভোট দেওয়া অধিকার তিনি কেড়ে নেবেন।’ অন্যদিকে অভিজিৎ দীপকে জ্ঞানেশ কুমারকে ‘দেশের জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক’ বলেও সম্বোধন করেছেন।
‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এ প্রকাশিত একটি খবর দেশজুড়ে তোলপাড় ফেলে দিয়েছে। যেই প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়, কীভাবে দুই নির্বাচন কমিশনারকে ছাড়াই, এবং তাঁদের অন্ধকারে রেখে ভোটার তালিকা থেকে নাম কাটা হয়েছে। প্রতিবেদনটিতে এটিও উল্লেখ করা হয়, সান্ধু এবং বিবেক যোশি এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে বারবার প্রশ্ন তোলা হলেও কোনোভাবেই তাঁদের কথা তোয়াক্কাই করা হতো না। চলতি বছর ১৪ আগস্ট পর্যন্ত, গত ১০ মাসে মোট ১৪ বার লিখিতভাবে কমিশনের এসআইআর কর্মকাণ্ডের বিরোধিতা করেছেন দুই নির্বাচন কমিশনার। তাঁদের বিদ্রোহকে তোয়াক্কা না করে একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই শোরগোল। বিরোধীরা প্রশ্ন করতে থাকে। বিধানসভা নির্বাচনের আগে এবং পরেও জ্ঞানেশের ভূমিকা নিয়ে বারবার প্রশ্ন তুলেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বারবার সরব হতে দেখা গিয়েছে রাহুল গান্ধীকে। এবার কি তবে সেই আগুনেই ঘি পড়ল?
এর আগে নিট প্রশ্নফাঁসকাণ্ডে তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রীকে গ্রেপ্তারের দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে একটানা প্রতিবাদ করতে থাকে সিজেপি। চাপে পড়ে তৎকালীন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেনও। এবার নির্বাচন কমিশনে ‘সংস্কার’ চাইছেন অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস, আশুতোষ রাঙ্কারা। গতকাল, অর্থাৎ বুধবারই অভিজিৎ দিপকে তাঁর সমাজ মাধ্যমে সরাসরি জ্ঞানেশের নাম করে লেখেন, ‘ইটস ডান ব্রো!’ তারপরে বৃহস্পতিবারই ‘ডেডলাইন’ দিয়ে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারীককে পদত্যাগ দাবি করলো ‘ককরোচরা’।