


নয়াদিল্লি: আগাম নোটিস না পাঠিয়ে ও বক্তব্য পেশের সুযোগ না দিয়ে কোনো জীবিত ব্যক্তির নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া যায় না। রবিবার হায়দরাবাদে নালসার আইন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অনুষ্ঠানে এমনই মন্তব্য করেছিলেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি উজ্জ্বল ভুয়ান। সারা দেশে এসআইআর নিয়ে বিতর্কের আবহে তিনি সাফ জানান, যে প্রক্রিয়া লক্ষ লক্ষ ভারতীয় নাগরিককে ‘ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করে’ সেটি ‘স্বভাবতই স্বেচ্ছাচারী’ এবং সাংবিধানিক ব্যবস্থার ‘অবমাননা’। জনপ্রতিনিধি আইনের ২২ ধারার উল্লেখ করে বিচারপতি ভুয়ানের বক্তব্য ছিল, উপযুক্ত প্রক্রিয়া না মেনে নাম ছেঁটে ফেলা যায় না। বিচারপতি ভুয়ানের ওই মন্তব্যের এবার কড়া সমালোচনা করলেন সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি বি আর গাভাই। তাঁর পালটা বক্তব্য, শীর্ষ আদালতে বিচারাধীন কোনো বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টেরই একজন কর্মরত বিচারপতির এভাবে প্রকাশ্যে মন্তব্য করা উচিত নয়। একইভাবে সরব হয়েছেন দিল্লি হাইকোর্টের দুই অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এস এন ধিংরা এবং আর এস সোধি।
বিচারপতি ভুয়ানের মন্তব্যের নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি গাভাইয়ের বক্তব্য, এসআইআর মামলা সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন। এই সময়ে সুপ্রিম কোর্টেরই কোনো বিচারপতির এ নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য ‘বিচার বিভাগীয় শিষ্টাচারে’র পরিপন্থী। এব্যাপারে প্রাক্তন বিচারপতি ধিংরার বক্তব্য, ওই মন্তব্য সুপ্রিম কোর্টে কর্মরত বিচারপতিদের নির্ধারিত সীমার পরিধি লঙ্ঘন করেছে। বিচারাধীন বিষয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করার আগে হাজারবার ভাবা উচিত ছিল। অন্য এক প্রাক্তন বিচারপতি সোধির বক্তব্য, আইনের পরিধির মধ্যে পড়লে কারও ভোটদানের অধিকার আছে। যদি না পড়ে, তাহলে নেই। যদি অন্যায্যভাবে কারও নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়ে থাকে, তাহলে উপযুক্ত আইনি প্রক্রিয়ায় তা বাদ দেওয়াটাই দস্তুর।