


নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: গভীরতা কম। তাই অল্প বৃষ্টি হলেই বাঁকুড়ার নদনদীগুলিজে জল কানায় কানায় বইতে থাকে। কজওয়েগুলি জলের তলায় চলে যায়। তখন দু’পাড়ের গ্রামগুলি বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মতো হয়ে যায়। কজওয়ে জলমগ্ন হওয়ায় একাধিক গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার সঙ্গে জেলা, মহকুমা ও ব্লক সদরের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এই পরিস্থিতিতে ভুক্তভোগী বাসিন্দারা ডবল ইঞ্জিন সরকারের কাছে পাকা সেতু নির্মাণের দাবিতে সরব হয়েছেন। কজওয়ের পরিবর্তে সেতু হলে সারাবছর যোগাযোগ ও পরিবহণ ব্যবস্থা অটুট থাকবে বলে বাসিন্দারা জানিয়েছেন। অবিলম্বে সরকারকে এব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করতে হবে বলে বাসিন্দারা দাবি জানিয়েছেন।
প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বাঁকুড়ার গন্ধেশ্বরী নদীর উপর মানকানালি কজওয়ে এবং দ্বারকেশ্বর নদের উপর ভাদুল কজওয়ে বহু টাকা খরচে নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু, প্রায় প্রতিবছরই ওই দু’টি কজওয়ে জলের স্রোতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মেরামতির জন্য দফায় দফায় বহু টাকা খরচ করা হয়েছে। তবে সঠিক পরিকল্পনার অভাবে সরকারি টাকা জলে গিয়েছে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন। বাঁকুড়া শহর সংলগ্ন মিনাপুর, ছাতনার চামকুড়া, শুশুনিয়ার পাড়ুলিয়া, গঙ্গাজলঘাটি ব্লকের হুড়াছাঁদা, শালিয়ারা, চাকাডোবা, মেজিয়া ব্লকের মাতাবেল কজওয়ে অল্প বৃষ্টিতেই জলের তলায় চলে যায়। দ্বারকেশ্বর, গন্ধেশ্বরী, শালি নদীর পাশাপাশি বিভিন্ন জোড়বাঁধের উপর ওইসব কজওয়ে রয়েছে। বিষ্ণুপুর মহকুমার সোনামুখী ব্লকেও একাধিক কজওয়ে ও নীচু সেতু রয়েছে। ধানসিমলা থেকে কুণ্ডপুষ্করিণী যাওয়ার রাস্তায় থাকা কজওয়ে অল্প বৃষ্টিতেই জলমগ্ন হয়ে পড়ে। রামপুরে শালি নদীর উপর বসে যাওয়া সেতুর উপর দিয়ে বর্ষায় জল বয়ে যায়। তারফলে দু’পাড়ের গ্রামগুলির বাসিন্দাদের ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হয়। খাতড়া মহকুমার সিমলাপাল ও তালডাংরা ব্লকে একাধিক কজওয়ে ডুবে যায়। তালডাংরার হাড়মাসড়া সংলগ্ন শীলাবতি নদীর উপর ইটাপোড়া কজওয়ে প্রতিবছর জলের তলায় চলে যায়। ওই নদীর উপরেই সিমালপাল ব্লকে ভেলাইডিহা-পাথরডাঙা কজওয়ে জলের তলায় ডুবে যাওয়ায় বাসিন্দাদের চরম সমস্যা হয়। বাঁকুড়া-ঝাড়গ্রাম রাজ্য সড়কে সিমলাপাল শিলাবতী নদী ঘাটের কজওয়ের উপর দিয়েও বর্ষায় জল বয়ে যায়। তারফলে জঙ্গলমহলের ‘লাইফলাইন’ ওই রাজ্য সড়কে মাঝেমধ্যেই যান চলাচল বন্ধ করে দিতে হয়। মানকানালির বাসিন্দা ত্রিদিব দে বলেন, গ্রাম সংলগ্ন কজওয়ের উপর দিয়ে ৩০-৪০টি গ্রামের বাসিন্দা যাতায়াত করেন। সেটি বেহাল হয়ে পড়ায় আমরা সমস্যায় পড়েছি। প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বছরভর আমাদের ভোগান্তি পোহাতে হবে। বর্তমানে নদীর জল বাড়লেই কজওয়ে জলের তলায় চলে যায়। তখন ১৫ কিলোমিটার ঘুরে বাঁকুড়া শহরে পৌঁছনো যায়।
বাঁকুড়ার বিধায়ক নীলাদ্রিশেখর দানা বলেন, মানকানালি কজওয়ের জায়গায় সেতু গড়ার প্রস্তাব রাজ্যে পাঠানো হয়েছে। ২৬ কোটি ও ৪৬ কোটি টাকার দু’টি পৃথক এস্টিমেট তৈরি হয়েছে। প্রথমটির ক্ষেত্রে দ্রুত অর্থ বরাদ্দ হয়ে যাবে। কিন্তু, আমরা বড়ো সেতু চাইছি। বিষয়টি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলব। ডাবল ইঞ্জিন সরকার বাঁকুড়ার পরিকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্ব দিয়েছে। পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন পর্ষদ সহ অন্যান্য সরকারি দপ্তরের মাধ্যমে আগামী দিনে জেলাজুড়ে ব্যাপক উন্নয়ন হবে।
বাঁকুড়া জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, জেলার অন্তত ১০টি গুরুত্বপূর্ণ কজওয়েকে আমরা চিহ্নিত করেছি। ওইসব জায়গায় সেতু তৈরি হলে ভাল হয়। বিভিন্ন দপ্তরে প্রস্তাব পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অর্থ বরাদ্দ হলেই সেতুর কাজ শুরু হবে।