


সংবাদদাতা, কল্যাণী: কলকাতার বাইরে কোনও মেডিকেল কলেজে ম্যাক্সিলোফেসিয়াল নামে একটি জটিল অস্ত্রোপচার করে নজির তৈরি করেছেন ডাক্তাররা। উল্লেখ্য, ম্যাক্সিলোফেসিয়াল সার্জারি হল মুখমণ্ডল, চোয়াল এবং মুখ সম্পর্কিত রোগ ও ত্রুটি সংশোধনের জন্য একটি বিশেষ শল্য চিকিৎসা। রানাঘাট পুরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের থানাপাড়ার বাসিন্দা সঞ্জয় সেন (৪৫) পেশায় একজন কাঠমিস্ত্রি। গত ৮ জুন এক দুর্ঘটনায় তাঁর মুখের চোয়ালসহ কয়েকটি হাড় ভেঙে যায়। প্রাথমিকভাবে তাঁর চিকিৎসা হয় কল্যাণীর জেএনএম মেডিকেল কলেজে। কিন্তু তাঁর চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন ছিল ম্যাক্সিলোফেসিলারি সার্জেন এবং নাক-কান-গলার সঙ্গে অন্য একাধিক বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের টিমের। তখনই সেখানে এই ব্যবস্থা পর্যাপ্ত ছিল না। এরপর তাঁরা কলকাতায় চিকিৎসার জন্য গিয়েছিলেন। কিন্তু সেখান থেকেও সুরাহা পাননি তিনি। এদিকে অর্থাভাবে বেসরকারি হাসপাতালেও চিকিৎসা করাতে পারেননি। ফলে অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা করতে না পেরে যন্ত্রণায় ওই রোগীর খাওয়াদাওয়ায় সমস্যা হচ্ছিল। এমনকি তিনি কর্মহীনও হয়ে পড়েন। এতে পরিবারটি প্রচণ্ড অর্থনৈতিক সমস্যায় পড়ে যায়। এরপর তাঁর পরিবার রানাঘাটের পুর চেয়ারম্যান কোশলদেব বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে যায়। তাঁরই সহযোগিতায় ডাক্তার অতীন্দ্রনাথ মণ্ডলের উদ্যোগে পুনরায় কল্যাণী জেএনএম মেডিকেলে ভর্তি হন তিনি। সেখানে ম্যাক্সিলোফেসিয়াল সার্জেন কুশল চট্টোপাধ্যায় এবং ইএনটি বিশেষজ্ঞ সৌমিত্র কুমারের যৌথ তত্ত্বাবধানে বৃহস্পতিবার তাঁর সফল অপারেশন সম্পন্ন হয়।
হাসপাতাল সূত্রের খবর, এই অস্ত্রোপচারটি যেমনই ব্যয়বহুল, তেমনই ঝুঁকিপূর্ণ। কিন্তু ডাক্তারদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় সম্পূর্ণ বিনামূল্যে অস্ত্রোপচারটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়। রোগীর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। এতে পরিবার খুশি।