


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: যে কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচির চিরকালীন প্রধান হাতিয়ার মিছিল, সমাবেশ, প্রতিবাদ আন্দোলন কিংবা জনসভা। বিরোধী দলের সভা-সমাবেশ বন্ধ করার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে কোনো শাসকদল তথা সরকার, এরকম নজির ভারতে বিশেষ নেই। কিন্তু সেটাই এখন রোজকার ছবি। বিরোধী মহাজোট ‘ইন্ডিয়া’র সমাবেশ বাতিলে মরিয়া হয়ে উঠেছে বিজেপি।
শনিবার দিল্লির বাণিজ্য সংগঠনগুলির একাংশ স্বয়ং রাহুল গান্ধীকে চিঠি লিখে জানিয়েছে, ১ নভেম্বরের ওই সমাবেশ যেন বাতিল করা হয়। গেরুয়া শিবির দলীয়ভাবে বিবৃতি দিয়ে বলেছে, এই বিশেষ দিনের সঙ্গে শিখ দাঙ্গার স্মৃতির ক্ষত জড়িয়ে আছে। তাই এই দিনে যেন সমাবেশ না ডাকা হয়। বাতিল করা হোক। তবে কি ‘ইন্ডিয়া’র আসন্ন মহাসমাবেশ নিয়ে আতঙ্কগ্রস্ত বিজেপি? ককরোচ জনতা পার্টির যন্তরমন্তর চলো, ইন্ডিয়া জোটের সুপ্রিম কোর্ট অভিযান, বামপন্থীদের মিছিল—সম্প্রতি একের পর এক প্রতিবাদ বিক্ষোভ আছড়ে পড়েছে দিল্লিতে। চলতি মাস শেষ হলেই রামলীলা ময়দানে ‘ইন্ডিয়া’র মহাসমাবেশ। সেই কর্মসূচি ঘিরে উত্তাপ তুঙ্গে। বিজেপি এবং মোদি সরকার এই কর্মসূচি নিয়ে এতটাই শঙ্কিত যে, চার বছর পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ দিল্লি পুলিশের সদর দপ্তরে হাজির হয়েছেন। ২০২২ সালে শেষবার তিনি এসেছিলেন দিল্লি পুলিশের সদর দপ্তরে। এবার অবশ্য তিনি গিয়েছেন জয় সিং রোডের নতুন দপ্তরে। শনিবার বিকেলে দিল্লি পুলিশ বাহিনীর কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিশদে জানতেও চান। রাজধানীর বুকে বিরোধী বিক্ষোভ সামলাতে পুলিশ কতটা প্রস্তুত, তার বিস্তারিত ব্লু-প্রিন্ট খতিয়ে দেখেছেন শাহ।
ব্যবসায়ী সংগঠনগুলির বক্তব্য, বিরোধীদের ওই সমাবেশের ফলে দীপাবলির বাজার নষ্ট হবে। ১০ হাজার কোটি টাকার লোকসান হবে। তাই সমাবেশ পিছিয়ে দেওয়া হোক। এই দাবিকেই সারাদিন ধরে প্রচার করেছে বিজেপি। কংগ্রেসের বক্তব্য, যন্তরমন্তর কিংবা কনট প্লেস অথবা সংসদ মার্গ এলাকা, কোথাও এই সভা হচ্ছে না। সমাবেশ হবে রামলীলা ময়দানে। একটি ময়দানের সঙ্গে দীপাবলির বাজারের সম্পর্ক কী? যদিও এই সমাবেশ নিয়ে বিজেপি এতটাই স্পর্শকাতর হয়ে পড়েছে যে, এদিন দলের মুখপাত্র তথা এমপি রবিশংকর প্রসাদ একটি বিস্ময়কর ইস্যুর সঙ্গে জুড়ে দিয়েছেন বিরোধীদের এই সমাবেশকে। তিনি বলেছেন, ‘৩১ অক্টোবর... ১৯৮৪ সালের এই তারিখে ইন্দিরা গান্ধীর হত্যাকাণ্ড হয়েছিল। ঠিক পরদিন, ১ নভেম্বর থেকেই কংগ্রেস শুরু করেছিল শিখ নিধন অভিযান। অর্থাৎ চুরাশির দাঙ্গা। এই পয়লা নভেম্বর শিখ সমাজের কাছে অত্যন্ত বেদনাবহ এক ক্ষত। অথচ রাহুল গান্ধী বেছে বেছে ১ নভেম্বরই এই সমাবেশ করার জন্য জেদ ধরেছেন। কারণ, তিনি ও তাঁর দল তথা পরিবার শিখবিরোধী।’ বিজেপি আরও বলেছে, রাহুল গান্ধীর উচিত অন্তত এই দিনটিতে যেন সভা না করা হয়। এর পালটা কংগ্রেস সহ ইন্ডিয়া জোটের সব দল প্রশ্ন করেছে, গেরুয়া শিবির এত বেশি আতঙ্কিত কেন? আজ নয় কাল জ্ঞানেশ কুমারকে কিন্তু সরতেই হবে। আগামী ৩০ অক্টোবর অশোকা হোটেলে প্রতীকী সংসদ বসাবে বিরোধী মহাজোট। সেখানে প্রতীকী ইমপিচমেন্ট করা হবে জ্ঞানেশ কুমারকে। গতকাল দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কৃষক, শ্রমিক, ছাত্রদের আন্দোলন হয়েছে। কংগ্রেসের এদিনের বক্তব্য স্পষ্ট, সমাজের প্রতিটি শ্রেণি মোদি সরকারের বিদায়ের দিনক্ষণ গুনছে। কাউন্টডাউন শুরু!