


নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: বিটুমিন বনাম কংক্রিট! বৃষ্টির মরশুমে রাস্তার কাজ করার সুবিধা এবং স্থায়িত্ব বাড়াতে কংক্রিট ব্লকের উপর গুরুত্ব দিচ্ছে পুরসভা। সল্টলেকসহ বিধাননগর পুরসভার ২২টি মূল রাস্তায় পিচ সরিয়ে কংক্রিটের ব্লক পাতার কাজ শুরু হয়েছে। যেখানে বার বার রাস্তা খারাপ হয়, জল জমার সমস্যা, সেই সমস্ত রাস্তা চিহ্নিত করা হয়েছে। সেখানে কাজ শুরু হচ্ছে। এই ২২টি রাস্তার কাজের পরবর্তী পর্যায়ে আরও কিছু রাস্তা এভাবে সংস্কার করা হবে। দুর্গাপুজোর বেশি দেরি নেই। তাই পুজোর আগেই রাস্তা সংস্কারের কাজ শেষের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, প্রায় ৬৩ কোটি টাকা খরচ করে বিধাননগর পুরসভার ৪১টি ওয়ার্ডের মোট ১৯৩টি রাস্তা সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তার মধ্যেই এই কংক্রিটের ব্লকের রাস্তাগুলি ধরা হয়েছে। টাকা বরাদ্দ হয়ে যাওয়ার পর টেন্ডার প্রক্রিয়াও হয়ে গিয়েছে। কাজ শুরু হয়েছে একাধিক জায়গায়।
পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, সল্টলেকের ভিতর বেহাল রাস্তা নিয়ে মানুষের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। নতুন রাজ্য সরকার গঠন হওয়ার পর রাস্তা সংস্কার শুরু হয়। তবে প্যাচওয়ার্ক করা রাস্তাও ফের উঠে যেতে শুরু করে। তাই পুজোর আগে পূর্ণ সংস্কার শুরু হয়েছে। সল্টলেকে মোট ৬৩টি রাস্তা সংস্কার করার জন্য টেন্ডার হয়েছে বলে খবর। তার মধ্যে মূল বেশ কয়েকটি রাস্তা হবে কংক্রিটের ব্লকের। বিধাননগর উত্তর থানার সামনের রাস্তা প্রায়ই বেহাল হয়ে থাকে। সেই রাস্তার পিচ তুলে কংক্রিটের ব্লক পাতা হচ্ছে। একইভাবে অনিন্দিতা আইল্যান্ডের সামনের রাস্তাতেও এই কাজ হচ্ছে। একদিকের লেনের কাজ শেষ। এবার অন্য লেনেও পাতা হবে কংক্রিটের ব্লক।
বছর দু’য়েক আগে কাদাপাড়া মোড় থেকে সল্টলেকে ঢোকার মুখে অল্প জায়গায় কংক্রিটের ব্লক পাতা হয়েছিল। আগে এই ধরনের ছোটো এলাকার জন্য কংক্রিটের ব্লক পাতা হত। তা বেশি মজবুত হওয়ায় এখন পুরো রাস্তাই কংক্রিটের ব্লকের করা হচ্ছে। এক আধিকারিকের কথায়, ‘ফুটপাতের উপর যে ব্লক দেওয়া থাকে, রাস্তার ব্লকগুলি তার চেয়ে অন্যরকম। সেগুলি চওড়ায় বেশি, ওজন ধারণ ক্ষমতাও বেশি। কারণ, গাড়ির লোড সহ্য করতে হবে। এছাড়া এগুলি সহজে নষ্ট হয় না। তাই মূল রাস্তায়ও এই ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সল্টলেকের ব্লকের ভিতরের রাস্তায় বিটুমিনের সঙ্গে ম্যাস্টিকও থাকবে।’