


গোপাল সূত্রধর, বালুরঘাট: ২০ বছর পর বিধানসভা ভোটে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় প্রার্থী দিয়েছে কংগ্রেস। জেলার ছ’টি বিধানসভা কেন্দ্রে এককভাবে প্রার্থী দিলেও প্রদীপের সলতের মতো জ্বলতে থাকা জেলা কংগ্রেস জানে না, তাদের দলের প্রকৃত ভোটার কত। কারণ, গত দু’দশক বিধানসভা ভোটে এককভাবে লড়াই করেনি কংগ্রেস। ফলে তাদের সমর্থক কত রয়েছে, তা জানতে পারছে না হাত শিবির। তাই এবারের বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের প্রকৃত ভোটার নির্ণয় হবে।
সোমবার বালুরঘাটে জেলা কংগ্রেস কার্যালয়ে ছয় বিধানসভার প্রার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। প্রার্থীদের নিয়ে বালুরঘাটে মিছিলও হয়। কংগ্রেসের জেলা সভাপতি গোপাল দেব বলেন, জেলায় আমাদের কতজন ভোটার রয়েছে, তা বলা অসম্ভব। গত কুড়ি বছর ধরে আমরা প্রার্থী দিইনি। জোট বেঁধে লড়াই হয়েছিল। এবার সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন হলে ফলাফলের পর আমাদের ভোটারের সংখ্যা স্পষ্ট হবে।
২০০৬ সালের পর ২০১১ সালে তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে জোট বেঁধেছিল কংগ্রেস। ২০১৬ সালে আবার বামেদের হাত ধরে কংগ্রেস। একুশের নির্বাচনেও বামেদের সঙ্গে জোট ছিল কংগ্রেসের। ফলে দীর্ঘবছর দক্ষিণ দিনাজপুরের একটি আসনেও লড়াই করেনি তারা। ২০১৪ সালে কংগ্রেস লোকসভা ভোটে অবশ্য এককভাবে লড়াই করে। সেবার জেলার ছয়টি বিধানসভা এবং উত্তর দিনাজপুরের একটি বিধানসভা মিলিয়ে ৭.৫৯ শতাংশ ভোট পেয়েছিল কংগ্রেস।
এবার সেই ভোটও ধরে রাখতে পারবে কিনা তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। কারণ, জেলা কংগ্রেসের মধ্যে ফাটল ক্রমশ স্পষ্ট। জেলা কংগ্রেস বর্তমানে দু’ভাগে বিভক্ত। বর্তমান জেলা সভাপতি এবং প্রাক্তন জেলা সভাপতির মধ্যে গোষ্ঠীকোন্দল মারাত্মক পর্যায়ে পৌঁছেছে। এর আগেও জেলা সভাপতির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করে বেশ কিছু শাখা সংগঠন। গত রবিবার কংগ্রেসের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা হয়েছে। প্রার্থী নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকে। যদিও জেলা সভাপতি গোপালের দাবি, ক্ষোভ-বিক্ষোভের কিছু নেই। দল যাকে প্রার্থী দিয়েছে, তাকেই আমরা মেনে নিয়েছি। কেউ ক্ষোভ প্রকাশ করলে তাঁরা দলের কেউ নন।