


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ব্যবসায়ী নিখার সবলোক সম্প্রতি খুন হয়েছিলেন জামশেদপুরের এক হোটেলে। এই ঘটনার তদন্তে নেমে সিট সর্ষের মধ্যেই ভূতের সন্ধান পেয়েছে। খুনের পরিকল্পনাকারী অশোক সিং ওরফে রাঘবকে হোটেল ব্যবসায়ী নিখারের মোবাইলের টাওয়ার লোকেশন দিয়েছিল কলকাতা পুলিশেরই এক কনস্টেবল। লালবাজারে বসেই সে শুধু নিখারের অবস্থান নয়, এমন বহুজনকে টাওয়ার লোকেশন ‘বিক্রি’ করে মোটা টাকা ‘রোজগার’ করেছে বলে অভিযোগ। উল্লেখ্য, নিখার সাবলোক খুনের ঘটনার তদন্ত করছে জামশেদপুর পুলিশের সিট। তারা তদন্তে, নেমে বেলেঘাটা ট্রাফিক গার্ডের সার্জেন্ট ধৃত অয়ন গুপ্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করেই এই কনস্টেবলের খোঁজ পেয়েছে। তবে ওই কনস্টেবলকে বাঁচাতে ইতিমধ্যেই সক্রিয় হয়ে উঠেছে পুলিশেরই একাংশ। তাকে ‘ক্লোজ’ করা হয়েছে বলে খবর। নিখার সবলোক খুনের মূল ষড়যন্ত্রকারী অশোক সিং ওরফে রাঘবকে টাওয়ার লোকেশন পাচার করেছিল ওই সার্জেন্ট। তাকে এই কাজে সহায়তা করেছিল এই কনস্টেবল।
অভিযুক্ত অয়নকে জেরা করে জামশেদপুর পুলিশ জেনেছে, ওই কনস্টেবল বহুদিন ধরেই গোয়েন্দা বিভাগের মনিটরিং সেলে কর্মরত। বিভিন্ন কেসে অভিযুক্তদের নম্বর সে মনিটর করে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বহু লোকের অবস্থান সে টাকার বিনিময়ে শত্রুপক্ষের হাতে তুলে দিত। এই তথ্য সাপ্লাইয়ের জন্য কেস পিছু সে পাঁচ থেকে সাত হাজার টাকা নিত। পুলিশ থেকে ব্যবসায়ী— অনেকেই এই সুযোগ কাজে লাগাত। এমনকি, টাওয়ার লোকেশন দেখে হাওলার টাকা হাতবদলের অবস্থানও সে জানিয়ে দিত অপরাধীদের।
এহেন কনস্টেবলকে আড়াল করতে উঠেপড়ে লেগেছে পুলিশ অফিসারদের একাংশ। অভিযোগ, নিখারের টাওয়ার লোকেশন প্রসঙ্গ সামনে আসতেই ওই কনস্টেবলকে বাঁচাতে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন সংশ্লিষ্ট অফিসাররা। এমনকি, ক্লোজ হওয়ার পরেও তাঁকে গোয়েন্দা বিভাগে দেখা গিয়েছে বলে খবর।